২১ ক্যারেট পুরাতন সোনার দাম ২০২৬ বাংলাদেশ – কত দামে বিক্রি করবেন ২১ ক্যারেট পুরাতন সোনা

আমাদের দেশে সোনার গহনার কদর একটু বেশিই। সময়ের সাথে সাথে পুরোনো ডিজাইনের গহনা বদলাতে কিংবা আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে অনেক সময় আমাদের পুরাতন সোনা বিক্রি করতে হয়। কিন্তু সঠিক দাম না জানার কারণে অনেকেই ঠকে যান। ২০২৬ সালে বাংলাদেশের বাজারে ২১ ক্যারেট পুরাতন সোনার দাম কত তা জেনে রাখা আপনার জন্য খুবই জরুরি।

২১ ক্যারেট পুরাতন সোনার দাম ২০২৬ বাংলাদেশ

আজকের বাজারে ২১ ক্যারেট পুরাতন গহনা সোনার দর নির্ধারিত হয়েছে প্রতিটি ওজনের একক অনুযায়ী। মনে রাখবেন, পুরাতন সোনা বলতে ব্যবহৃত গহনা বোঝানো হয়, যা বিক্রির সময় সাধারণত নতুন সোনার দামের চেয়ে কিছুটা কম হয়। নিচের টেবিলটি দেখে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন আপনার কাছে থাকা পুরাতন সোনার আনুমানিক দাম কত হতে পারে।

ওজনের এককবিক্রয়মূল্য (টাকা)
প্রতি গ্রাম১৮,০০৩
প্রতি ভরি২,০৯,৯৯১
প্রতি আনা১৩,১২৭
প্রতি রতি২,১৮৮

উপরের টেবিলে উল্লেখিত মূল্যগুলো হলো ২১ ক্যারেট ব্যবহৃত গহনার বর্তমান বাজারদর। এই দাম বাংলাদেশের স্থানীয় বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সোনার দরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হয়েছে। আপনি যদি আজকে আপনার পুরাতন গহনা বিক্রি করতে চান, তাহলে এই মূল্যের কাছাকাছি দর পাবেন বলে আশা করতে পারেন।

পুরাতন সোনা বিক্রির আগে জেনে নিন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

বাংলাদেশের স্বর্ণশিল্পী ও ব্যবসায়ীরা সাধারণত পুরাতন সোনা কেনার সময় কিছু বিষয় বিবেচনা করেন। শুধু টেবিলের দাম দেখলেই হবে না, বাস্তবে বিক্রির সময় আপনার পকেটে কত টাকা উঠবে তা কিছু ফ্যাক্টরের ওপর নির্ভর করে। প্রথমত, পুরাতন সোনা বিক্রি করলে দোকানদার সাধারণত বিশুদ্ধতার কারণে কিছু দাম কমিয়ে দেন। বর্তমান বাজার অনুযায়ী, অনেকে ন্যূনতম ১৫% পর্যন্ত কমিয়ে ক্রয় করে থাকেন। দ্বিতীয়ত, আপনার গহনার ওজন সঠিকভাবে মাপানো খুব জরুরি। বিশ্বস্ত কোনো দোকানে গিয়ে সঠিক ইলেকট্রনিক মেশিনে ওজন মেপে নিন। তৃতীয়ত, সোনার পাশাপাশি যদি কোনো পাথর বা চুনি বসানো থাকে, তবে সেগুলো খুলে নেওয়ার চেষ্টা করুন। কারণ ক্রেতারা সাধারণত খাঁটি সোনার ওজনের ওপরেই দাম নির্ধারণ করেন।

প্রশ্ন: নতুন সোনার চেয়ে পুরাতন সোনার দাম কম হয় কেন?
উত্তর: পুরাতন সোনা সাধারণত ব্যবহৃত হয় বলে এতে সামান্য ময়লা বা অন্যান্য ধাতুর মিশ্রণ থাকার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া পুরাতন গহনা গলিয়ে নতুন করতে খরচ হয়। তাই ব্যবসায়ীরা ঝুঁকি ও পরিশ্রম খরচ বাবদ কিছু দাম কমিয়ে থাকেন।

প্রশ্ন: আজকের বাজারে ২১ ক্যারেট পুরাতন সোনার দর সব জায়গায় কি সমান?
উত্তর: বাজারদর প্রায় একই রকম থাকলেও প্রতিটি দোকানের ক্রয়মূল্যে সামান্য তারতম্য থাকতে পারে। আপনার কাছের জেলা শহর এবং রাজধানীর দামেও কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। সঠিক দাম জানতে কয়েকটি ভালো ও বিশ্বস্ত দোকানে দর জিজ্ঞাসা করে নেওয়া ভালো।

প্রশ্ন: পুরাতন সোনা বিক্রি করার সময় কি কোনো প্রমাণপত্র লাগে?
উত্তর: সাধারণত ছোটখাটো গহনার ক্ষেত্রে কিছু লাগে না। তবে অনেক বড় অঙ্কের লেনদেন হলে দোকানিরা আপনার একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি রাখতে পারেন, যা একটি বৈধ প্রক্রিয়া। নিজের নিরাপত্তার জন্যও বিক্রির সময় একটি ভাউচার বা রশিদ নিয়ে রাখা ভালো।

আশা করছি, আজকের এই আলোচনা থেকে আপনারা ২১ ক্যারেট পুরাতন সোনার দাম ২০২৬ সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন। ১৮,০০৩ টাকা প্রতি গ্রাম এবং ২,০৯,৯৯১ টাকা প্রতি ভরি বর্তমান বাজারের একটি আপডেট রেট। তবে বাস্তবে লেনদেনের সময় ১৫% পর্যন্ত কম হতে পারে, সেটা মাথায় রাখবেন। পুরাতন গহনা বিক্রি করার আগে সবসময় বাজারদর যাচাই করে নেবেন এবং কয়েক জায়গায় দাম জেনে তারপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। এই তথ্যগুলো আপনার কাজে লাগলে আজকের পোস্টটি আপনার বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের সাথে শেয়ার করুন, যাতে তারাও উপকৃত হতে পারেন।

Bikrom Das

আমি বিক্রম দাস একজন প্রফেশনাল রাইটার। আমি প্রযুক্তি, মোবাইল, ইনকাম তথ্য সম্পর্কিত লেখালেখি করে থাকি। আশাকরি আমার লেখা ভ্যালুয়েবল আর্টিকেল পড়ে আপনারা উপকৃত হচ্ছেন।

Leave a Comment