আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে শিক্ষা খাতে বিএনপির ইশতেহার ২০২৬ নিয়ে ইতোমধ্যে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা খাতে জিডিপির পাঁচ শতাংশ বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকায় মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষা খাতে বিএনপির ইশতেহার নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
শিক্ষা খাতে বিএনপির ইশতেহার ২০২৬
শিক্ষা খাতে বিএনপির ইশতেহার ২০২৬ অনুযায়ী জিডিপির পাঁচ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। এই অর্থ শুধু স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে ব্যয় করা হবে না। বরং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নই হবে প্রধান লক্ষ্য। প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদের পাঠদানের দক্ষতা বাড়াতে আধুনিক ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে করে শিক্ষার্থীরা শুরু থেকেই মানসম্মত শিক্ষা পাবে এবং ঝরে পড়ার হার কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিএনপির ইশতেহারে বলা হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাই একটি দেশের শিক্ষার ভিত্তি। তাই প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদের জন্য নিয়মিত ট্রেনিং, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন এবং আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি শেখানোর ব্যবস্থা করা হবে। এতে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখতে পারবেন এবং পাঠদান আরও কার্যকর হবে। শিক্ষা খাতে বিএনপির ইশতেহারে এই বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা দীর্ঘদিনের একটি চাহিদা পূরণ করতে পারে।
প্রযুক্তি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার পরিকল্পনা
বর্তমান যুগে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ছাড়া উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা কল্পনা করা যায় না। বিএনপির ইশতেহারে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল ক্লাসরুম, অনলাইন শিক্ষাসামগ্রী এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা উপকরণ উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী, পিছিয়ে পড়া জনগোষী এবং গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। এতে করে শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিএনপি জানিয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যতে শিক্ষা খাতে বাজেট আরও বাড়ানো হবে। অর্থাৎ জিডিপির পাঁচ শতাংশ বরাদ্দই শেষ কথা নয়, বরং অর্থনীতি শক্তিশালী হলে শিক্ষাখাতে বিনিয়োগও বাড়বে। এতে গবেষণা, উচ্চশিক্ষা এবং কারিগরি শিক্ষার মান উন্নত হবে বলে আশা করা যায়।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিক্ষা খাতসহ বিভিন্ন বিষয়ে দলের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। এই ইশতেহারে রাষ্ট্র পরিচালনা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং শিক্ষা খাতে সংস্কারের বিস্তারিত দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।
শিক্ষা খাতে সম্ভাব্য পরিবর্তন
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা | ইশতেহার অনুযায়ী পরিবর্তন |
|---|---|---|
| বাজেট বরাদ্দ | সীমিত | জিডিপির ৫% |
| শিক্ষক প্রশিক্ষণ | অপর্যাপ্ত | নিয়মিত ও মানসম্মত |
| প্রযুক্তি ব্যবহার | সীমিত | ডিজিটাল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক |
| প্রাথমিক শিক্ষা | দুর্বল ভিত্তি | শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলা |
সব মিলিয়ে শিক্ষা খাতে বিএনপির ইশতেহার ২০২৬ বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের একটি রূপরেখা তুলে ধরেছে। জিডিপির পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ, প্রাথমিক শিক্ষায় গুরুত্ব, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষার মান উন্নত হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, এই প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা বাস্তবায়িত হয় এবং শিক্ষার্থীরা এর সুফল কতটা পায়।



