এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলিতে আসছে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার, আজ সভা

বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত স্বয়ংক্রিয় বদলি পদ্ধতি চালু হতে যাচ্ছে। এই লক্ষ্যে আজ সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই সভায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি সফটওয়্যার-এর মডেল উপস্থাপন করা হবে। এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি এই সভা হওয়ার কথা থাকলেও জাতীয় নির্বাচনের কারণে তা স্থগিত করা হয়েছিল।

এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলিতে আসছে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিভাগের যুগ্মসচিব মো. হেলালুজ্জামান সরকার জানান, সফটওয়্যারটির বর্তমান অবস্থা এবং এর কার্যকারিতা নিয়ে আজকের সভায় বিস্তারিত আলোচনা হবে। এই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই পরবর্তী কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে। মূলত শিক্ষকদের বদলির আবেদন প্রক্রিয়া সহজ, দ্রুত এবং স্বচ্ছ করতে এই স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া অনেক সময় জটিল ও দীর্ঘসূত্রিতায় ভোগে। ম্যানুয়ালি এই প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে গিয়ে শিক্ষকদের বিভিন্ন স্তরে দৌড়াতে হয় এবং অনিয়মেরও অভিযোগ রয়েছে। এই সফটওয়্যার চালু হলে একজন শিক্ষক নিজের ঘরে বসেই অনলাইনে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য পদের বিপরীতে যোগ্যতা, জ্যেষ্ঠতা এবং পছন্দের ভিত্তিতে কম্পিউটারাইজড লটারির মাধ্যমে বদলি নিশ্চিত করবে। এতে শিক্ষকদের দুর্ভোগ যেমন কমবে, তেমনি দুর্নীতির সুযোগও অনেকাংশে হ্রাস পাবে। ফলে ২০২৬ সালের মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে এই সফটওয়্যার একটি বড় মাইলফলক হয়ে থাকবে।

কাদের নিয়ে সভা?

আজকের সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, কলেজ-২ এর উপ-পরিচালক প্রফেসর মো. নওসের ধান, মাধ্যমিক শাখার উপ-পরিচালক মো. ইউনুছ ফারুকী এবং কলেজ-৩ এর সহকারী পরিচালক মো. মাঈন উদ্দিন উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) এবং বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নিচ্ছেন।

সফটওয়্যারের বৈশিষ্ট্য কী?

এই স্বয়ংক্রিয় বদলি সফটওয়্যার তৈরি এবং এর কারিগরি দিক উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়ের আইটি বিশেষজ্ঞরা সভায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। তাদের মধ্যে আছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিস্টেম অ্যানালিস্ট মোহাম্মদ জোবায়ের, মাউশির সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো. হুমায়ুন কবীরসহ একাধিক প্রোগ্রামার।

পাশাপাশি কারিগরি সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে টেলিটকের জেনারেল ম্যানেজার, অতিরিক্ত জেনারেল ম্যানেজার, ম্যানেজার ও প্রোগ্রামার পর্যায়ের কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নেবেন। টেলিটক মূলত সফটওয়্যারটি বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে।

আজকের প্রেজেন্টেশন সভার মাধ্যমেই সফটওয়্যারটি বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। সভায় সফটওয়্যারের মডেল ও কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সে অনুযায়ী দ্রুতই এর বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। শিক্ষক মহল দীর্ঘদিন ধরে এই স্বয়ংক্রিয় বদলি পদ্ধতি চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

তাদের দাবি, এটি চালু হলে বদলি প্রক্রিয়ায় জড়িত জটিলতা ও হয়রানি থেকে মুক্তি মিলবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগকে তাই ইতিবাচকভাবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সফটওয়্যার চালু হওয়ার পর একজন শিক্ষক কীভাবে আবেদন করবেন, তার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

প্রশ্ন: এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি সফটওয়্যারটি কী?
উত্তর: এটি একটি স্বয়ংক্রিয় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা তাদের বদলির আবেদন করতে পারবেন। এই সিস্টেম স্বচ্ছ ও দ্রুততার সাথে কম্পিউটারের মাধ্যমেই বদলির সিদ্ধান্ত নেবে।

প্রশ্ন: এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে শিক্ষকরা কীভাবে উপকৃত হবেন?
উত্তর: এর মাধ্যমে শিক্ষকদের আর বারবার অফিসে দৌড়াতে হবে না। তারা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন এবং যোগ্যতা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে বদলির সুযোগ পাবেন, যা সময় ও শ্রম দুটোই বাঁচাবে।

প্রশ্ন: সফটওয়্যারটি কখন চালু হবে?
উত্তর: আজকের সভায় সফটওয়্যারের মডেল উপস্থাপন ও তা অনুমোদনের পর দ্রুতই এটি চালুর প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে সঠিক তারিখ নির্ধারণ করতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে চলেছে এই স্বয়ংক্রিয় বদলি সফটওয়্যার। প্রযুক্তির এই প্রয়োগ শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে একটি বড় পদক্ষেপ। এটি শুধু শিক্ষকদের হয়রানি কমাবে না, বরং শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতাও আনবে। আশা করা যায়, আজকের সভার পর দ্রুতই এই সফটওয়্যার চালু হয়ে শিক্ষক সমাজের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।

আরও পড়ুনঃ এমপিওভুক্ত শিক্ষক জাতীয়করণ ২০২৬

Isabella Clark

ইসাবেলা ক্লার্ক একজন কনটেন্ট রাইটার ও ব্লগার, বর্তমানে বার্মিংহামে বসবাস করছেন। তিনি শিক্ষা, তথ্যভিত্তিক ও ডিজিটাল বিষয় নিয়ে সহজ, পরিষ্কার ও পাঠকবান্ধব লেখা তৈরি করেন। জটিল বিষয়কে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা এবং পাঠকের কাজে লাগে এমন মানসম্মত কনটেন্ট দেওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Comment