এসএসসি পরীক্ষায় অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ২০২৬ সঠিক ক্যালকুলেটর তালিকা

সামনেই এসএসসি পরীক্ষা, আর বুক ধড়ফড় করছে না—এমন শিক্ষার্থী খুঁজে পাওয়া দায়! পরীক্ষার প্রস্তুতি তো নিচ্ছেন, কিন্তু ছোটখাটো কিছু বিষয় আছে যা শেষ মুহূর্তে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো পরীক্ষার হলে কোন ক্যালকুলেটরটি নেওয়া যাবে আর কোনটি যাবে না। বিশেষ করে গণিত, পদার্থবিজ্ঞান বা হিসাববিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলোতে ক্যালকুলেটর ছাড়া যেন আমরা অচল। আপনারা অনেকেই ইন্টারনেটে বা বন্ধুদের কাছে জানতে চাইছেন এসএসসি পরীক্ষায় অনুমোদিত ক্যালকুলেটর সম্পর্কে সঠিক তথ্য কোনটি।

ভুল বা নিষিদ্ধ ক্যালকুলেটর নিয়ে পরীক্ষার হলে গেলে কিন্তু বড় বিপদে পড়তে পারেন, এমনকি ক্যালকুলেটরটি বাজেয়াপ্তও হতে পারে! ভাবুন তো, অংকের মাঝপথে আপনার প্রিয় ক্যালকুলেটরটি নিয়ে নেওয়া হলো—কেমন লাগবে তখন? তাই আগে থেকেই সতর্ক হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। শিক্ষা বোর্ড প্রতি বছরই পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু মডেলের ক্যালকুলেটর ব্যবহারের অনুমতি দেয়। এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব এসএসসি পরীক্ষায় অনুমোদিত ক্যালকুলেটর 2026 সালের তালিকা এবং ব্যবহারের নিয়মকানুন নিয়ে। চলুন, সব বিভ্রান্তি দূর করে জেনে নিই আসল তথ্যগুলো।

এসএসসি পরীক্ষায় অনুমোদিত ক্যালকুলেটরের তালিকা

পরীক্ষার হলে ক্যালকুলেটর নিয়ে যাওয়ার আগে প্রথমেই বুঝতে হবে শিক্ষা বোর্ড ঠিক কী চাইছে। মূল নিয়মটি খুব সহজ—আপনাকে এমন একটি ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে হবে যা ‘নন-প্রোগ্রামেবল’। এখন প্রশ্ন হলো, প্রোগ্রামেবল আর নন-প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটরের মধ্যে পার্থক্য কী? সহজ কথায়, যে ক্যালকুলেটরে কোনো সূত্র বা তথ্য আগে থেকে সেভ করে রাখা যায় না, সেটাই নন-প্রোগ্রামেবল। আর এসএসসি পরীক্ষায় অনুমোদিত ক্যালকুলেটর হতে হলে সেটিকে অবশ্যই সাধারণ সায়েন্টিফিক হতে হবে।

অনেক সময় শিক্ষার্থীরা না বুঝে ইঞ্জিনিয়ারিং বা গ্রাফিক্যাল ক্যালকুলেটর কিনে ফেলে, যা অনেক দামি এবং পরীক্ষার হলে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, সাধারণ যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগের ক্যালকুলেটর এবং নন-প্রোগ্রামেবল সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটরই কেবল ব্যবহার করা যাবে। আপনার হাতের ক্যালকুলেটরটি যদি খুব বেশি অ্যাডভান্সড হয়, তবে এখনই সেটি বদলে ফেলুন।

শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ক্যালকুলেটর মডেল

এবার আসি একদম স্পেসিফিক কথায়। শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এবং বিভ্রান্তি এড়াতে সুনির্দিষ্ট ৮টি মডেলের নাম প্রকাশ করেছে। আপনি যদি নিশ্চিন্তে পরীক্ষা দিতে চান, তবে এই মডেলগুলোর মধ্য থেকেই একটি বেছে নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। নিচে এসএসসি পরীক্ষায় অনুমোদিত ক্যালকুলেটর এর এই ৮টি মডেলের তালিকা দেওয়া হলো:

ক্রমিক নংমডেলের নামধরন
এফএক্স ৮২এমএস (fx-82MS)সায়েন্টিফিক
এফএক্স ১০০এমএস (fx-100MS)সায়েন্টিফিক
এফএক্স ৫৭০এমএস (fx-570MS)সায়েন্টিফিক
এফএক্স ৯৯১এমএস (fx-991MS)সায়েন্টিফিক
এফএক্স ৯৯১ইএক্স (fx-991EX)সায়েন্টিফিক
এফএক্স ৯৯১ইএস (fx-991ES)সায়েন্টিফিক
এফএক্স ৯৯১ইএস প্লাস (fx-991ES Plus)সায়েন্টিফিক
এফএক্স ৯৯১সিডব্লিউ (fx-991CW)সায়েন্টিফিক

উপরে উল্লেখিত মডেলগুলো সাধারণত ক্যাসিও (Casio) ব্র্যান্ডের হয়ে থাকে, তবে অন্যান্য ব্র্যান্ডের একই স্পেসিফিকেশনের ক্যালকুলেটরও ব্যবহার করা যেতে পারে যদি তা নন-প্রোগ্রামেবল হয়। তবে রিস্ক না নিয়ে এই মডেলগুলোর অরিজিনাল ভার্সন কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। বিশেষ করে ‘এফএক্স ৯৯১সিডব্লিউ’ মডেলটি একদম নতুন এবং এটিও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অনুমোদিত ক্যালকুলেটরের বৈশিষ্ট্য

আপনি হয়তো ভাবছেন, “আমার কাছে তো অন্য মডেলের একটা ক্যালকুলেটর আছে, সেটা কি চলবে না?” এটা বোঝার জন্য আপনাকে অনুমোদিত ক্যালকুলেটরের কিছু মূল বৈশিষ্ট্য জানতে হবে। এসএসসি পরীক্ষায় অনুমোদিত ক্যালকুলেটর 2026 এর গাইডলাইন অনুযায়ী কিছু বিষয় খেয়াল রাখুন:

  • মেমোরি ফাংশন: ক্যালকুলেটরে বড় ধরনের কোনো ডাটা স্টোরেজ বা টেক্সট সেভ করার অপশন থাকা যাবে না।
  • ডিসপ্লে: সাধারণ ডট ম্যাট্রিক্স বা এলসিডি ডিসপ্লে হতে হবে। গ্রাফিক্স বা কালার ডিসপ্লে যা ভিডিও বা ছবি সাপোর্ট করে, তা নিষিদ্ধ।
  • কমিউনিকেশন পোর্ট: ইনফ্রারেড, ব্লুটুথ বা ওয়াইফাই সুবিধাসম্পন্ন কোনো ডিভাইস ব্যবহার করা যাবে না।
  • শব্দহীন: ক্যালকুলেটরটি ব্যবহারের সময় যেন কোনো শব্দ না হয়, কারণ এটি পরীক্ষার হলের পরিবেশ নষ্ট করতে পারে।

মূলত, আপনার ক্যালকুলেটরটি দিয়ে গাণিতিক সমস্যার সমাধান করা যাবে, কিন্তু অসদুপায় অবলম্বন করা যাবে না—এটাই হলো মূল কথা।

যেসব ক্যালকুলেটর পরীক্ষায় নিষিদ্ধ

অনেক শিক্ষার্থী আবেগের বশে বা না জেনে এমন কিছু গ্যাজেট কিনে ফেলে যা পরীক্ষার হলে তাদের বিপদে ফেলে। এসএসসি পরীক্ষায় নিষিদ্ধ ক্যালকুলেটরগুলো চিনে রাখা জরুরি। প্রথমেই বলা ভালো, যেকোনো ধরণের ‘প্রোগ্রামেবল’ ক্যালকুলেটর কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। যেমন, ক্যাসিও বা টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্টস-এর গ্রাফিং ক্যালকুলেটরগুলো, যেগুলোতে বড় স্ক্রিন এবং গ্রাফ আঁকার সুবিধা থাকে।

এছাড়া, বর্তমানে কিছু স্মার্ট ক্যালকুলেটর বের হয়েছে যা স্মার্টফোনের মতো কাজ করে বা ইন্টারনেটের সাথে কানেক্ট করা যায়—এগুলো ভুলেও সাথে রাখবেন না। আরেকটি বিষয় হলো স্মার্টওয়াচ। অনেক স্মার্টওয়াচে ক্যালকুলেটর থাকে, কিন্তু পরীক্ষার হলে এনালগ ঘড়ি ছাড়া ডিজিটাল বা স্মার্টওয়াচ একেবারেই নিষিদ্ধ। যদি হল পরিদর্শক আপনার কাছে নিষিদ্ধ কোনো ডিভাইস পান, তবে তিনি আপনাকে বহিষ্কার পর্যন্ত করতে পারেন। তাই সাবধান!

এসএসসি পরীক্ষায় ক্যালকুলেটর ব্যবহারের নিয়মকানুন

শুধু সঠিক ক্যালকুলেটর থাকলেই হবে না, এটি ব্যবহারের কিছু অলিখিত এবং লিখিত নিয়মও আছে। এসএসসি পরীক্ষায় অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রথম নিয়ম হলো—শেয়ারিং নিষিদ্ধ। আপনি হয়তো ভাবছেন, “বন্ধুর ক্যালকুলেটরটা একটু ধার নিই”, কিন্তু পরীক্ষার হলে এক সিট থেকে অন্য সিটে ক্যালকুলেটর আদান-প্রদান করা সম্পূর্ণ নিষেধ। এতে নকলের সুযোগ থাকে বলে শিক্ষকরা এটি করতে দেন না।

দ্বিতীয়ত, ক্যালকুলেটরের কভার বা ঢাকনা। অনেক সময় ক্যালকুলেটরের ঢাকনায় আমরা পেন্সিল দিয়ে সূত্র বা অংক লিখে রাখি। এটি মারাত্মক অপরাধ। পরীক্ষার হলে ঢোকার আগেই ক্যালকুলেটরের কভারটি খুলে বাইরে বা ব্যাগে রেখে যাওয়াই ভালো। অনেক কেন্দ্রে কভারসহ ক্যালকুলেটর ডেস্কে রাখতেই দেওয়া হয় না। এছাড়া, ক্যালকুলেটরের পেছনে কোনো স্টিকার বা লেখা থাকলে তা তুলে ফেলতে হবে। স্বচ্ছতা বজায় রাখা আপনার দায়িত্ব।

সঠিক ক্যালকুলেটর কেনার গাইডলাইন

বাজারে এখন আসল ক্যালকুলেটরের চেয়ে নকল ক্যালকুলেটরের ছড়াছড়ি। এসএসসি পরীক্ষায় অনুমোদিত ক্যালকুলেটর কিনতে গিয়ে আপনি যদি নকল পণ্য কিনে ফেলেন, তবে পরীক্ষার মাঝখানে ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়া বা ভুল রেজাল্ট আসার মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

কেনার সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখুন:

  • ওয়ারেন্টি ও হলোগ্রাম: আসল ক্যাসিও ক্যালকুলেটরের প্যাকেটে আমদানিকারকের হলোগ্রাম স্টিকার থাকে। কেনার সময় এটি দেখে নিন।
  • বাটনের কোয়ালিটি: আসল ক্যালকুলেটরের বাটনগুলো নরম এবং স্মুথ হয়। নকলগুলোতে বাটন শক্ত এবং শব্দ করে।
  • ডিসপ্লে শার্পনেস: আসল ক্যালকুলেটরের ডিসপ্লে যেকোনো এঙ্গেল থেকে স্পষ্ট দেখা যায়।
  • মডেল নম্বর যাচাই: উপরে উল্লেখিত ৮টি মডেলের (যেমন: fx-991ES Plus বা fx-991CW) হুবহু নামের সাথে মিলছে কিনা তা দেখে নিন। একটি অক্ষর এদিক-সেদিক হলেই সেটি ভিন্ন মডেল হতে পারে।

পরীক্ষার হলে ক্যালকুলেটর নিয়ে প্রবেশের নিয়ম

পরীক্ষার দিন সকালে এমনিতেই অনেক চাপ থাকে। তার ওপর গেটে চেকিংয়ের সময় যদি ক্যালকুলেটর নিয়ে ঝামেলা হয়, তবে মেজাজ খারাপ হওয়া স্বাভাবিক। এসএসসি পরীক্ষায় অনুমোদিত ক্যালকুলেটর 2026 এর নিয়ম অনুযায়ী, আপনি যখন হলে প্রবেশ করবেন, তখন ক্যালকুলেটরটি আপনার ক্লিপবোর্ড বা জ্যামিতি বক্সের সাথে হাতে রাখতে পারেন।

তবে মনে রাখবেন, ক্যালকুলেটরের ভেতরে কোনো কাগজ বা চিরকুট যেন না থাকে। অনেক সময় ব্যাটারির স্লটের ভেতরে পরীক্ষার্থীরা কাগজ লুকিয়ে রাখে—শিক্ষকরা কিন্তু এখন অনেক সচেতন, তারা এগুলো চেক করেন। হলে প্রবেশের পর আপনার অ্যাডমিট কার্ড ও রেজিস্ট্রেশন কার্ডের সাথে ক্যালকুলেটরটি টেবিলের ওপর দৃশ্যমান অবস্থায় রাখুন। পরিদর্শক যদি চেক করতে চান, নির্দ্বিধায় তাকে দিন। কোনো তর্কে জড়াবেন না।

এসএসসি পরীক্ষায় ক্যালকুলেটর না থাকলে কী করবেন

সবচেয়ে ভয়ের পরিস্থিতি—পরীক্ষার হলে গিয়ে দেখলেন ক্যালকুলেটর নিতে ভুলে গেছেন বা হঠাৎ সেটি কাজ করছে না! তখন কী করবেন? প্রথমেই শান্ত হোন। প্যানিক করলে জানা অংকও ভুল হবে।

এই পরিস্থিতিতে প্রথমেই হল পরিদর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করুন। আপনার সমস্যার কথা তাকে বুঝিয়ে বলুন। যদিও নিয়ম অনুযায়ী ধার করা নিষেধ, তবুও মানবিক দিক বিবেচনা করে শিক্ষক হয়তো অন্য কোনো পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে (তার কাজ শেষ হলে) আপনাকে কিছুক্ষণের জন্য ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারেন। অথবা কেন্দ্রের অফিসে অতিরিক্ত ক্যালকুলেটর থাকলে তা ব্যবহারের সুযোগ দিতে পারেন। তবে এই ভরসায় থাকবেন না। সবসময় ব্যাগে একটি অতিরিক্ত ব্যাটারি বা সম্ভব হলে একটি ব্যাকআপ ক্যালকুলেটর রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, এসএসসি পরীক্ষা জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সামান্য একটি যন্ত্রের জন্য এই বড় সুযোগটি নষ্ট হোক, তা কেউ চায় না। তাই আজই আপনার ক্যালকুলেটরটি চেক করে দেখুন সেটি এসএসসি পরীক্ষায় অনুমোদিত ক্যালকুলেটর তালিকার মধ্যে পড়ে কিনা। যদি না পড়ে, তবে দেরি না করে বোর্ড নির্ধারিত ৮টি মডেলের যেকোনো একটি কিনে প্র্যাকটিস শুরু করে দিন।

মনে রাখবেন, যন্ত্র আপনাকে সাহায্য করবে, কিন্তু আসল পরীক্ষাটা আপনার মেধার। পরীক্ষার হলে আত্মবিশ্বাসের সাথে যান এবং মাথা ঠান্ডা রাখুন। এসএসসি পরীক্ষায় অনুমোদিত ক্যালকুলেটর 2026 এর গাইডলাইন মেনে চললে আপনাকে আর কোনো বাড়তি দুশ্চিন্তা করতে হবে না। আপনার পরীক্ষার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল!

ইসাবেলা ক্লার্ক একজন কনটেন্ট রাইটার ও ব্লগার, বর্তমানে বার্মিংহামে বসবাস করছেন। তিনি শিক্ষা, তথ্যভিত্তিক ও ডিজিটাল বিষয় নিয়ে সহজ, পরিষ্কার ও পাঠকবান্ধব লেখা তৈরি করেন। জটিল বিষয়কে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা এবং পাঠকের কাজে লাগে এমন মানসম্মত কনটেন্ট দেওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য।

1 thought on “এসএসসি পরীক্ষায় অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ২০২৬ সঠিক ক্যালকুলেটর তালিকা”

Leave a Comment