দেশভ্রমণ রচনা ২০ পয়েন্ট

দেশভ্রমণ বা Travel মানুষের মন ও জ্ঞানের বিকাশ ঘটায়। দেশভ্রমণের গুরুত্ব, উপকারিতা, ছাত্রজীবনে ভ্রমণের প্রভাব এবং মানসিক প্রশান্তি অর্জনে এর ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন।

দেশভ্রমণ রচনা ২০ পয়েন্ট

ভূমিকা

সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা আমাদের এই বাংলাদেশ। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা এই দেশের মাটি ও মানুষের সাথে মিশে আছে হাজার বছরের কৃষি ঐতিহ্য। এদেশের দিগন্তজোড়া মাঠের দিকে তাকালে যে সোনালি ফসলের হাসি দেখা যায়, তার পেছনের কারিগর হলেন আমাদের বাংলার কৃষক। বাংলাদেশ মূলত একটি কৃষিপ্রধান দেশ এবং এদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার প্রধান কারিগর হচ্ছেন এই কৃষকরাই। পরিসংখ্যান বা Statistics অনুযায়ী, দেশের বিশাল এক জনগোষ্ঠী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। অথচ সভ্যতার এই চরম শিখরে দাঁড়িয়েও আমরা কি আসলে জানি একজন কৃষকের জীবন কতটা সংগ্রামের? ভোরের আলো ফোটার আগেই যিনি লাঙল কাঁধে মাঠে ছোটেন, তার ঘামেই ভিজে থাকে আমাদের অন্নের দানা। এই আর্টিকেলে আমরা বাংলার কৃষকের জীবন, তাদের অবদান, সমস্যা এবং সম্ভাবনার কথা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব। এখানে আমরা শুধু তাদের প্রশংসাই করব না, বরং তাদের বাস্তব জীবনের কঠিন চিত্রটিও তুলে ধরার চেষ্টা করব।

কৃষি ও কৃষকের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক

বাংলাদেশের মাটি এতটাই উর্বর যে, এখানে একটি বীজ ফেললেই গাছ হয়ে যায়। এই মাটির সাথে কৃষকের সম্পর্ক নাড়ির। বাংলার কৃষক বলতে আমরা সেই সহজ-সরল মানুষগুলোকে বুঝি, যারা প্রকৃতির খেয়াল-খুশির ওপর নির্ভর করে ফসল ফলান। কৃষি কাজ তাদের কাছে শুধু পেশা নয়, এটি তাদের অস্তিত্বের অংশ। কৃষকের হাড়ভাঙা খাটুনি ছাড়া এদেশের মানুষের মুখে অন্ন জুটত না। কৃষি ব্যবস্থা বা Agriculture System এবং কৃষক একে অপরের পরিপূরক। কৃষকের ত্যাগ, তিতিক্ষা আর পরিশ্রমের ওপর ভিত্তি করেই দাঁড়িয়ে আছে আমাদের জাতীয় অর্থনীতি। এটি কোনো অত্যুক্তি নয় যে, কৃষক বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। তাদের নিবিড় পরিচর্যায় মাঠ ভরে ওঠে ধানে, পাটে আর সবজিতে।

বাংলাদেশের কৃষকের দৈনন্দিন জীবন

একজন সাধারণ কৃষকের দিনলিপি অত্যন্ত পরিশ্রমের। শহুরে জীবনের মতো তাদের কোনো নির্দিষ্ট অফিস টাইম নেই। তাদের কাজ শুরু হয় সূর্য ওঠার অনেক আগে। মোরগের ডাক শোনার সাথে সাথে বিছানা ছাড়েন তারা। পান্তা ভাত বা সামান্য কিছু খেয়ে লাঙল-জোয়াল আর হালের বলদ নিয়ে বেরিয়ে পড়েন মাঠের উদ্দেশ্যে।

গ্রীষ্মের প্রখর রোদ যখন মাথার ওপর আগুন ঢালে, তখনো কৃষক মাঠে কাজ করেন। বর্ষায় যখন চারদিক থৈ থৈ করে, তখনো তারা হাঁটুসমান কাদাপানিতে নেমে ধান রোপণ করেন। হাড়কাঁপানো শীতেও তাদের বিশ্রাম নেই। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একটানা কাজ করার পর হয়তো দুপুরের খাবারের জন্য সামান্য বিরতি পান। বিকেলে আবার কাজ। সন্ধ্যা নামলে ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘরে ফেরেন। কিন্তু ঘরে ফিরেই যে তাদের বিশ্রাম, তা নয়। গবাদি পশুর যত্ন নেওয়া, পরদিনের কাজের প্রস্তুতি—এসব সারতে সারতেই রাত হয়। তাদের এই জীবনচক্রে বিলাসিতার কোনো স্থান নেই, আছে শুধু বেঁচে থাকার নিরন্তর সংগ্রাম।

জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষি ও কৃষকের অবদান

বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে, কিন্তু এই উন্নয়নের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন আমাদের কৃষকরা। জাতীয় অর্থনীতি বা National Economy-তে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। জিডিপি (GDP) বা মোট দেশজ উৎপাদনে কৃষিখাতের অবদান হয়তো শতাংশের হিসেবে ওঠানামা করে, কিন্তু কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এই খাত এখনো শীর্ষে।

১. খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: বাংলাদেশের প্রায় ১৭ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা বা Food Security নিশ্চিত করছেন আমাদের কৃষকরা। তারা যদি এক মৌসুম ফসল না ফলান, তবে দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে। বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করে এত বিশাল জনগোষ্ঠীর চাহিদা মেটানো অসম্ভব। ২. শিল্পের কাঁচামাল যোগান: দেশের বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল আসে কৃষি থেকে। পাটকল, চিনিকল, বস্ত্রশিল্প—সবকিছুর মূল উপাদান কৃষকের মাঠ থেকেই আসে। ৩. গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখা: গ্রামের মানুষের হাতে যখন ফসলের টাকা আসে, তখন গ্রামীণ হাট-বাজার সচল থাকে। এতে পুরো দেশের টাকার প্রবাহ বা Money Flow ঠিক থাকে।

বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে কৃষকের ভূমিকা

একসময় পাট ছিল আমাদের প্রধান রপ্তানি পণ্য, যাকে ‘সোনালি আঁশ’ বা Golden Fiber বলা হতো। এখনো পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা বা Foreign Currency অর্জন করে। এর বাইরেও বর্তমানে কৃষকরা রপ্তানিমুখী সবজি, ফল, এবং মৎস্য চাষ করছেন। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বাংলাদেশের সবজির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চা শিল্প আমাদের রপ্তানি আয়ের একটি বড় উৎস। হিমায়িত চিংড়ি ও মাছ রপ্তানি করে যে আয় হয়, তার কৃতিত্বও গ্রামের সাধারণ মৎস্য চাষি ও কৃষকদের। সুতরাং, দেশের রিজার্ভ বাড়াতে কৃষকের ঘামঝরা শ্রম সরাসরি ভূমিকা রাখছে।

ঋতুভেদে কৃষকের ব্যস্ততা

বাংলাদেশ ছয় ঋতুর দেশ এবং প্রতিটি ঋতুতে কৃষকের কাজের ধরণ পাল্টায়।

  • গ্রীষ্ম ও বর্ষা: এই সময়ে প্রধানত আউশ ও আমন ধানের চাষ হয়। পাটের বীজ বোনা এবং পাট কাটার কাজও এই সময়ে চলে। বৃষ্টির ওপর নির্ভর করে কৃষকের হাসি-কান্না।

  • শরৎ ও হেমন্ত: এই সময়টা কৃষকের জন্য কিছুটা আনন্দের। পাকা ধানের গন্ধে বাতাস মৌ মৌ করে। ফসল কাটার ধুম পড়ে যায়। কৃষকের ঘরে নতুন ধান ওঠে, শুরু হয় নবান্ন উৎসব।

  • শীত ও বসন্ত: শীতকালে রবি শস্যের চাষ হয়। সরিষা, আলু, গম এবং হরেক রকমের সবজিতে মাঠ ভরে থাকে। এই সময়ে কৃষকের ব্যস্ততা থাকে তুঙ্গে, কারণ রবি শস্যের যত্ন একটু বেশি নিতে হয়।

কৃষকের অতীত বনাম বর্তমান অবস্থা

একসময় বলা হতো, “গোলাভরা ধান, আর গোয়ালভরা গরু।” বাংলার কৃষকের অতীত ছিল সমৃদ্ধ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ। তাদের চাহিদা ছিল কম, জীবন ছিল ছিমছাম। নিজেদের জমিতে যা ফলত, তা দিয়েই বছর পার হয়ে যেত। কিন্তু বর্তমানে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে।

এখন কৃষকের জীবনে অভাব নিত্যসঙ্গী। জনসংখ্যা বাড়ার ফলে চাষযোগ্য জমি বা Cultivable Land কমে গেছে। জমি ভাগ হতে হতে এখন একেকজন কৃষকের ভাগে খুব সামান্য জমি পড়ে। ফলে শুধু নিজের জমি চাষ করে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকেই এখন বর্গা চাষি বা দিনমজুর হিসেবে অন্যের জমিতে কাজ করেন। আগের মতো সেই স্বাচ্ছন্দ্য আর নেই। আধুনিকতার ছোঁয়া গ্রামে লাগলেও, কৃষকের ভাগ্য খুব একটা বদলায়নি। বরং উৎপাদন খরচ বাড়ার কারণে তারা এখন দিশেহারা।

কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও চ্যালেঞ্জ

বর্তমানে কৃষিতে আধুনিকায়ন বা Modernization of Agriculture নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার, হারভেস্টার মেশিনের ব্যবহার বেড়েছে। কিন্তু প্রান্তিক পর্যায়ের গরিব কৃষকের পক্ষে এই দামী যন্ত্রপাতি কেনা বা ভাড়া করা অনেক সময় সম্ভব হয় না।

তাছাড়া, হাইব্রিড বীজ ও রাসায়নিক সারের ওপর অতিনির্ভরতা মাটির উর্বরা শক্তি কমিয়ে দিচ্ছে। কৃষক অনেক সময় না জেনেই অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করছেন, যা পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। প্রযুক্তি এসেছে ঠিকই, কিন্তু যথাযথ প্রশিক্ষণ বা Training-এর অভাবে সাধারণ কৃষকরা এর পূর্ণ সুফল পাচ্ছেন না। স্মার্ট কৃষি বা Smart Agriculture-এর ধারণা এখনো তৃণমূল পর্যায়ে পুরোপুরি পৌঁছায়নি।

বাংলার কৃষকের প্রধান সমস্যাসমূহ

আমাদের কৃষকরা হাজারো সমস্যায় জর্জরিত। তাদের প্রধান সমস্যাগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

১. ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া: এটি কৃষকের সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য। যখন ফসল মাঠে থাকে, তখন দাম কম থাকে। আর যখন ফসল কৃষকের হাত থেকে মধ্যস্বত্বভোগী বা Middlemen-এর হাতে চলে যায়, তখন দাম বেড়ে যায়। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে ফসল কৃষক উৎপাদন করেন, তার লাভের গুড় খায় ফড়িয়া আর বেপারিরা। ২. কৃষি উপকরণের উচ্চমূল্য: সার, বীজ, কীটনাশক এবং সেচের তেলের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে। উৎপাদন খরচ বা Production Cost বেড়ে যাওয়ায় কৃষকের লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়ে পড়ছে। ৩. প্রাকৃতিক দুর্যোগ: বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ দেশ। বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস—এসবের প্রথম শিকার হন কৃষকরা। এক রাতের ঝড়ে কৃষকের সাজানো স্বপ্ন মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে যায়। জলবায়ু পরিবর্তন বা Climate Change-এর কারণে এখন অসময়ে বৃষ্টি বা খরা হচ্ছে, যা কৃষির জন্য বড় হুমকি। ৪. মূলধনের অভাব ও ঋণের বোঝা: গরিব কৃষকের হাতে নগদ টাকা থাকে না। ফসল ফলানোর জন্য তারা মহাজন বা এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ বা Loan নেন। ফসল উঠলে সেই ঋণের টাকা শোধ করতেই সব শেষ হয়ে যায়। তারা আজীবন ঋণের জালেই আটকে থাকেন। ৫. সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাব: আমাদের দেশে পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ বা Cold Storage নেই। ফলে পচনশীল পণ্য যেমন—আলু, টমেটো, সবজি কৃষক বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করে দেন। সংরক্ষণের অভাবে প্রতিবছর প্রচুর ফসল নষ্ট হয়।

পুষ্টি সমস্যা সমাধানে কৃষকের অবদান

বাংলাদেশের একটি বড় অংশের মানুষ এখনো পুষ্টিহীনতায় ভোগে। বিশেষ করে গ্রামীণ নারী ও শিশুরা। এই পুষ্টি সমস্যা বা Malnutrition সমাধানে কৃষকরাই মূল ভূমিকা পালন করছেন। তারা এখন শুধু ধান-পাট নয়, প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি ও ফলমূল উৎপাদন করছেন। ছোট মাছের চাষ করছেন। কৃষকের উৎপাদিত টাটকা সবজি ও ফল আমাদের ভিটামিন ও মিনারেলের চাহিদা পূরণ করছে। পোল্ট্রি ও ডেইরি ফার্ম গড়ে তুলে তারা আমিষের জোগান দিচ্ছেন। এক কথায়, সুস্থ ও সবল জাতি গঠনে কৃষকের অবদান চিকিৎসকের চেয়ে কম নয়।

গ্রামীণ সমাজ ও সংস্কৃতিতে কৃষক

কৃষক শুধু ফসল ফলান না, তারা আমাদের সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। গ্রামীণ মেলা, পালাগান, জারি-সারি গান—এসবই কৃষি সংস্কৃতির অংশ। পহেলা বৈশাখ বা নবান্ন উৎসব কৃষকেরাই বাঁচিয়ে রেখেছেন। ফসল বোনা ও কাটার সময় গ্রামে যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়, তা শহুরে জীবনে কল্পনাও করা যায় না। কৃষকের সরলতা, আতিথেয়তা এবং ভ্রাতৃত্ববোধ আমাদের গ্রামীণ সমাজের ভিত্তি। একে অপরের বিপদে এগিয়ে আসা, একসাথে ফসল কাটা—এসব সামাজিক বন্ধন বা Social Bonding কৃষি সমাজেরই বৈশিষ্ট্য।

নারী ও কৃষিকাজ: এক উপেক্ষিত শক্তি

কৃষিকাজ বলতে আমরা সাধারণত পুরুষদের বুঝি, কিন্তু এই খাতে নারীদের অবদান অকল্পনীয়। বীজ সংরক্ষণ, চারা তৈরি, ফসল মাড়াই, শুকানো এবং গোলাজাত করার কঠিন কাজগুলো বাড়ির নারীরাই করেন। অথচ কৃষি শ্রমিক হিসেবে তাদের স্বীকৃতি নেই বললেই চলে। তারা ‘আনপেইড ফ্যামিলি লেবার’ বা Unpaid Family Labor হিসেবে গণ্য হন। গবাদি পশুর লালন-পালন ও বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ করে নারীরা গ্রামীণ অর্থনীতিতে নীরব বিপ্লব ঘটাচ্ছেন। কৃষির উন্নয়নে নারীদের এই অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে করণীয় পদক্ষেপ

কৃষকের উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন:

১. ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ: সরকার নির্ধারিত দামে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ও অন্যান্য শস্য ক্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে সমবায় বা Cooperative ভিত্তিক বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। ২. সহজ শর্তে ঋণ: কৃষকদের জন্য জামানতবিহীন ও নামমাত্র সুদে কৃষি ঋণ বা Agricultural Loan-এর ব্যবস্থা করতে হবে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে ঋণের টাকা সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছাতে হবে। ৩. আধুনিক প্রশিক্ষণ: প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, সার ও কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। ৪. ভর্তুকি প্রদান: কৃষি উপকরণ যেমন—ডিজেল, বিদ্যুৎ, সার ও বীজে সরকারি ভর্তুকি বা Subsidy বাড়াতে হবে। ৫. শস্য বীমা চালু করা: প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাঁচাতে শস্য বীমা বা Crop Insurance ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে চালু করা দরকার। এতে কৃষক ফসল হারালেও ক্ষতিপূরণ পাবেন। ৬. কৃষি গবেষণায় জোর দেওয়া: জলবায়ু সহিষ্ণু বা Climate Resilient ফসলের জাত উদ্ভাবন করতে হবে যা লবণাক্ততা বা খরা সহ্য করতে পারে।

উপসংহার

“সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা, দেশ মাতারই মুক্তিকামী দেশের সে-ই তো আশা।”

বাংলার কৃষক আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার। তারা রোদে পুড়ে কালো হন বলেই আমরা ঘরে বসে সাদা ভাত খেতে পারি। তাদের ঘামে ভেজা শরীর আমাদের অর্থনীতির শক্ত খুঁটি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, সমাজে তারা আজও অবহেলিত। তাদের সন্তানদের অনেকেই এখন আর এই পেশায় আসতে চায় না, যা ভবিষ্যতের জন্য এক অশনি সংকেত। আমাদের মনে রাখতে হবে, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই আসুন, আমরা কৃষকের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই এবং তাদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হই। কৃষি বা Agriculture হোক প্রযুক্তিনির্ভর এবং কৃষক হোক স্বাবলম্বী এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সরকার, নীতি-নির্ধারক এবং আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলার কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে।

আরও পড়ুনঃ বাংলার কৃষক রচনা

ইসাবেলা ক্লার্ক একজন কনটেন্ট রাইটার ও ব্লগার, বর্তমানে বার্মিংহামে বসবাস করছেন। তিনি শিক্ষা, তথ্যভিত্তিক ও ডিজিটাল বিষয় নিয়ে সহজ, পরিষ্কার ও পাঠকবান্ধব লেখা তৈরি করেন। জটিল বিষয়কে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা এবং পাঠকের কাজে লাগে এমন মানসম্মত কনটেন্ট দেওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য।

1 thought on “দেশভ্রমণ রচনা ২০ পয়েন্ট”

Leave a Comment