আজ বাংলাদেশে সোনার দাম ভরিতে ১৪,৬৩৮ টাকা কমেছে। নতুন সোনার মূল্য, বাজার বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস জানতে পড়ুন এই বিস্তারিত প্রতিবেদন।
সোনার দাম সবসময়ই সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। বিনিয়োগকারী, জুয়েলারি ব্যবসায়ী, বিয়ে বা গয়না কেনার পরিকল্পনা করা মানুষ—সবার চোখ থাকে সোনার বাজারের দিকে। ২০২৬ সালের ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার বাংলাদেশের বাজারে সোনার দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ভরিপ্রতি দাম কমেছে ১৪ হাজার ৬৩৮ টাকা, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। এর আগে দেশের বাজারে সোনার দাম প্রায় তিন লাখ টাকার দিকে ছুটছিল, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় চাপ তৈরি করেছিল।
সোনার দাম ভরিতে কমেছে ১৪,৬৩৮ টাকা 30/01/2026
আজ বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (BAJUS) সকালে সোনার নতুন দাম ঘোষণা করেছে। নতুন ঘোষণায় দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন ক্যারেটের সোনার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
২২ ক্যারেট সোনার দাম
ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট সোনার ভরি আজ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৬৩ টাকা। আগের দিনের তুলনায় ভরিপ্রতি কমেছে ১৪ হাজার ৬৩৮ টাকা।
২১ ক্যারেট সোনার দাম
২১ ক্যারেট সোনার দাম কমেছে ভরিপ্রতি ১৩ হাজার ৯৯৭ টাকা। বর্তমানে প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট সোনার দাম ২ লাখ ৫৮ হাজার ৯৯৯ টাকা।
১৮ ক্যারেট সোনার দাম
১৮ ক্যারেট সোনার দাম কমেছে ১১ হাজার ৯৫৬ টাকা। বর্তমানে প্রতি ভরি ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ২ লাখ ২২ হাজার ২৪ টাকা।
সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম
সনাতন পদ্ধতির সোনার দামও কমেছে। ভরিপ্রতি কমেছে ১০ হাজার ২০৬ টাকা এবং বর্তমান দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৩৩ টাকা।
এই মূল্য পরিবর্তন সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সোনার দাম সামান্য কমলেও বাজারে বড় প্রভাব পড়ে।
সোনার দাম কমার প্রধান কারণ
সোনার দাম কমার পেছনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করেছে।
বৈশ্বিক বাজারে সোনার দর পতন
বাংলাদেশের সোনার বাজার মূলত বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম সম্প্রতি একপর্যায়ে বেড়ে প্রায় ৫,৫৮২ ডলারে পৌঁছেছিল। তবে পরবর্তীতে দাম কমে ৫,২০০ ডলারের ঘরে নেমে আসে। বৈশ্বিক বাজারে এই পতনের প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের বাজারেও পড়ে।
স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম কমা
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম কমার কারণে দেশের বাজারে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
ডলার রেট ও বৈদেশিক মুদ্রা বাজার
সোনার দাম নির্ভর করে ডলার রেটের ওপরও। ডলারের মূল্য ওঠানামা করলে আমদানি করা সোনার দামেও পরিবর্তন আসে। সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা আসায় সোনার দাম কমাতে সহায়তা করেছে।
গত পাঁচ বছরে সোনার দামের প্রবণতা
করোনার পর গত পাঁচ বছরে দেশে ও বিদেশে সোনার দাম দ্রুত বেড়েছে।
২০২৩ সাল
২০২৩ সালের ২১ জুলাই দেশের বাজারে সোনার ভরি প্রথমবারের মতো ১ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়। এটি ছিল বাংলাদেশের সোনার বাজারে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
২০২৪ সাল
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সোনার দাম দেড় লাখ টাকা ছাড়ায়। এরপর অক্টোবর মাসে দাম ২ লাখ টাকা অতিক্রম করে।
২০২৫ সাল
গত বছরের শেষ দিকে সোনার দাম আড়াই লাখ টাকা পেরিয়ে যায়। এই সময় অনেক বিনিয়োগকারী সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বেছে নেন।
২০২৬ সালের শুরু
চলতি বছরের জানুয়ারিতে সোনার দাম ভরিতে প্রায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা পর্যন্ত ওঠে, যা ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম। মাত্র এক মাসেই ভরিতে দাম বেড়েছে প্রায় ৬১ হাজার টাকা।
সোনার দাম বাড়া ও কমার পেছনের অর্থনৈতিক ব্যাখ্যা
সোনাকে সাধারণত নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মুদ্রাস্ফীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা বা যুদ্ধের সময় মানুষ সোনার দিকে ঝুঁকে পড়ে। ফলে দাম বেড়ে যায়।
মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার
যখন মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে এবং ব্যাংকের সুদের হার কম থাকে, তখন মানুষ সোনায় বিনিয়োগ করে। এতে সোনার দাম বাড়ে।
শেয়ার বাজারের ওঠানামা
শেয়ার বাজারে বড় পতন হলে বিনিয়োগকারীরা সোনা কিনতে শুরু করে। এতে চাহিদা বাড়ে এবং দামও বাড়ে।
বৈশ্বিক অর্থনীতি
বিশ্ব অর্থনীতির অবস্থা ভালো হলে সোনার চাহিদা কমে যেতে পারে, ফলে দাম কমে। আবার অর্থনৈতিক সংকট হলে সোনার দাম বেড়ে যায়।
সাধারণ মানুষের ওপর সোনার দাম কমার প্রভাব
সোনার দাম কমা সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর। বিশেষ করে যারা বিয়ে বা পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য গয়না কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এটি ইতিবাচক।
গয়না ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া
গয়না ব্যবসায়ীরা সাধারণত দাম কমলে বিক্রি বাড়ার আশা করেন। দাম কমার কারণে ক্রেতারা বাজারে আসতে উৎসাহিত হন।
বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গি
বিনিয়োগকারীরা সোনার দাম কমাকে অনেক সময় কেনার সুযোগ হিসেবে দেখেন। তারা ভবিষ্যতে দাম বাড়ার আশায় এখন সোনা কিনে রাখেন।
ভবিষ্যতে সোনার দাম কি আবার বাড়বে?
সোনার ভবিষ্যৎ দাম নির্ভর করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি
বিশ্ব অর্থনীতিতে যদি বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দেয়, তাহলে সোনার দাম আবার বাড়তে পারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি
যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় অর্থনীতির কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি সুদের হার কমায়, তাহলে সোনার দাম বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।
ডলার ও মুদ্রার ওঠানামা
ডলারের দাম কমলে সাধারণত সোনার দাম বাড়ে এবং ডলার শক্তিশালী হলে সোনার দাম কমে যেতে পারে।
সোনার বাজার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
সোনার দাম প্রতিদিন পরিবর্তন হয়, তাই গয়না বা বিনিয়োগের আগে বাজারের সর্বশেষ আপডেট জানা জরুরি।
দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য সোনা নিরাপদ হতে পারে।
স্বল্পমেয়াদি লাভের জন্য সোনার বাজার ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিশ্ব বাজারের ট্রেন্ড অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের সোনার বাজারে আজকের দাম কমা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ভরিপ্রতি ১৪,৬৩৮ টাকা কমে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ২ লাখ ৭১ হাজার টাকার ঘরে নেমেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সোনার দাম দ্রুত বাড়ছিল, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। আজকের পতন কিছুটা স্বস্তি এনেছে। তবে সোনার বাজার সবসময়ই অস্থির এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি, ডলার রেট, সুদের হারসহ নানা বিষয়ের ওপর নির্ভর করে দাম ওঠানামা করে। ভবিষ্যতে সোনার দাম আবার বাড়তেও পারে, আবার কমতেও পারে। তাই যারা গয়না কেনা বা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছেন, তাদের উচিত বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
আরও পড়ুনঃ আজকের বাজারদর বাংলাদেশ ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
