ADVERTISING

এমপিও স্কুল-কলেজ শিক্ষকের বকেয়া বেতন পেতে করণীয় | ২০২৬ আপডেট

Written by Ahsan Habib

Updated on:

ADVERTISING

এমপিও স্কুল-কলেজ শিক্ষকের বকেয়া বেতন দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। অনেক শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস নেওয়া ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করলেও সময়মতো বেতন ও ভাতা না পাওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়ছেন। এই সমস্যা সমাধানে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সম্প্রতি নতুন নির্দেশনা দিয়েছে। নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যেসব এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বা উৎসব ভাতা বকেয়া রয়েছে, তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে EFT বিল সাবমিট করতে হবে। সঠিকভাবে বিল সাবমিট করলে বকেয়া বেতন সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে।

এই লেখায় এমপিও স্কুল-কলেজ শিক্ষকের বকেয়া বেতন পেতে কী করতে হবে, শেষ তারিখ, কোন সিস্টেম ব্যবহার হবে এবং কোন ক্ষেত্রে নতুন করে আবেদন করতে হবে সব বিষয় সহজ ভাষায় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

এমপিও স্কুল-কলেজ শিক্ষকের বকেয়া বেতন পেতে করণীয় ২০২৬ আপডেট

এমপিও স্কুল-কলেজ শিক্ষকের বকেয়া বেতন হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। অনেক সময় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট মাসের বিল সঠিকভাবে সাবমিট না করা হলে বেতন আটকে যায়। আবার কারও ক্ষেত্রে NID বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য ভুল বা ইনভ্যালিড থাকায় বেতন স্থগিত থাকে। এছাড়া উৎসব ভাতা, ইনক্রিমেন্ট বা নির্দিষ্ট সময়ের এমপিও আপডেট না হওয়ায়ও বকেয়া তৈরি হয়। এসব সমস্যার সমাধানে এখন EFT ভিত্তিক একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে, যাতে স্বচ্ছভাবে এবং দ্রুত বেতন পরিশোধ সম্ভব হয়।

আরও পড়ুনঃশিক্ষা আইন ২০২৬: খসড়া আইনের মূল লক্ষ্য

EFT সিস্টেম কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ

EFT অর্থ Electronic Funds Transfer। এই পদ্ধতিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। বর্তমানে আইবাস++ সিস্টেমের মাধ্যমে EFT ব্যবহার করে এমপিও স্কুল-কলেজের বেতন দেওয়া হচ্ছে। ১ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখ থেকে নিয়মিতভাবে এই পদ্ধতিতে বেতন প্রেরণ শুরু হয়েছে। এর ফলে হাতে চেক নেওয়া বা দীর্ঘ প্রশাসনিক জটিলতার প্রয়োজন নেই। তবে বকেয়া বেতন পেতে হলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে EFT বিল সাবমিট করা বাধ্যতামূলক।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব এমপিও স্কুল-কলেজ শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও উৎসব ভাতা বকেয়া রয়েছে, তাদের ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে EFT বিল সাবমিট করতে হবে। এই সময়সীমার মধ্যে বিল সাবমিট না করলে বকেয়া বেতন পরিশোধে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কোন সময়ের বকেয়া বিল সাবমিট করতে হবে

শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত যেসব মাসের বেতন বা ভাতা বকেয়া রয়েছে, সেসব মাসের জন্য আলাদা আলাদাভাবে বিল সাবমিট করতে হবে। একসাথে সব মাসের বিল না দিয়ে প্রতিটি মাসের জন্য পৃথক EFT বিল সাবমিট করাই বাধ্যতামূলক।

এমপিও স্কুল-কলেজ শিক্ষকের বকেয়া বেতন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের যেসব মাসের বেতন বা ভাতা বকেয়া রয়েছে, সেই অনুযায়ী বিল প্রস্তুত করে সাবমিট করতে হবে। এজন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানকে EMIS সিস্টেমের MPO-EFT Module এ নিজের আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করতে হবে। এরপর বকেয়া মাসগুলো নির্বাচন করে বিল সাবমিট করতে হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধান সঠিক তথ্য না দিলে বেতন পরিশোধে বিলম্ব হতে পারে।

শিক্ষক-কর্মচারীদের করণীয় বিষয়গুলো

শিক্ষক-কর্মচারীদের উচিত নিজেদের তথ্য আগে যাচাই করে নেওয়া। বিশেষ করে NID নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, ব্যাংকের নাম ও শাখা সঠিক আছে কিনা তা নিশ্চিত করা জরুরি। যদি কোনো তথ্য ভুল থাকে, তাহলে সংশোধন করে নিতে হবে। যেসব শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য ইনভ্যালিড থাকার কারণে আগে বেতন স্থগিত ছিল, তাদের জন্য এখন নতুন করে বিল সাবমিটের সুযোগ চালু করা হয়েছে। তথ্য সংশোধনের পর সংশ্লিষ্ট বিল সাবমিট হলেই বকেয়া বেতন EFT এর মাধ্যমে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে যাবে।

অনেক ক্ষেত্রে শুধু মাসিক বেতন নয়, উৎসব ভাতাও বকেয়া থাকে। ঈদ, পূজা বা অন্যান্য উৎসব উপলক্ষে প্রদেয় ভাতা যদি আগে না পাওয়া যায়, তাহলে সেটিও EFT বিলের মাধ্যমে সাবমিট করতে হবে। উৎসব ভাতার জন্য আলাদা বিল তৈরি করে নির্ধারিত মডিউলে সাবমিট করতে হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধান সঠিকভাবে বিল সাবমিট করলে বকেয়া উৎসব ভাতাও একসাথে পরিশোধ হবে।

আরও পড়ুনঃ এমপিও নীতিমালা মাদ্রাসা ২০২৬ প্রকাশ, বিস্তারিত তথ্য

বেতন EFT এর মাধ্যমে কিভাবে আসে

EFT বিল অনুমোদনের পর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর আইবাস++ সিস্টেমের মাধ্যমে অর্থ ছাড় করে। এরপর নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা জমা হয়। এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের আলাদা করে ব্যাংকে আবেদন করার প্রয়োজন হয় না। সাধারণত বিল সঠিক থাকলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই বকেয়া বেতন পাওয়া যায়।

এমপিও স্কুল-কলেজ শিক্ষকের বকেয়া বেতন সমস্যার সমাধানে শিক্ষা অধিদপ্তরের এই নির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে EFT বিল সাবমিট করা হলে বকেয়া বেতন ও উৎসব ভাতা পাওয়া অনেক সহজ হবে। শিক্ষক-কর্মচারী ও প্রতিষ্ঠান প্রধান—দু’পক্ষেরই উচিত সময়মতো প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে সঠিকভাবে বিল সাবমিট করা। এতে দীর্ঘদিনের বকেয়া দ্রুত পরিশোধ হবে এবং আর্থিক দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমে আসবে।

Ahsan Habib

Ahsan Habib একজন কনটেন্ট রাইটার ও ব্লগার, বর্তমানে বাংলাদেশের ঢাকায় বসবাস করছেন। তিনি শিক্ষা, তথ্যভিত্তিক ও ডিজিটাল বিষয় নিয়ে সহজ, পরিষ্কার ও পাঠকবান্ধব লেখা তৈরি করেন। জটিল বিষয়কে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা এবং পাঠকের কাজে লাগে এমন মানসম্মত কনটেন্ট দেওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Comment