আদিবাসী কাকে বলে ও কত প্রকার।আদিবাসী সমাজের পূর্ণাঙ্গ ধারণা

নদী যেমন সাগরের দিকে ধাবিত হয়, মানুষও তেমনি তার শিকড়ের সন্ধানে ফিরে ফিরে তাকায় অতীতের দিকে। পৃথিবীর এই বিশাল মানচিত্রে আমরা সবাই আজ আধুনিকতার চাদরে ঢাকা পড়ে থাকলেও, এমন কিছু মানুষ আছেন যারা আজও আদিম সতেজতা আর প্রকৃতির নিবিড় মায়ার সাথে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন। তারা হলেন পৃথিবীর ভূমিপুত্র বা আদিবাসী। আদিবাসী সমাজ মানেই যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে পাহাড়ের গায়ে গড়ে ওঠা ছোট ছোট ঘর, বনের শান্ত পরিবেশ আর নিজস্ব এক জগতের গল্প। তবে প্রশ্ন জাগতে পারে যে আসলে আদিবাসী কাকে বলে কিংবা কেনই বা তারা অন্যান্য জনসমষ্টি থেকে আলাদা

আদিবাসী কাকে বলে? একটি গভীর ও তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

আদিবাসী শব্দটির মাঝেই লুকিয়ে আছে এর প্রকৃত অর্থ। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, আদি বা আদিম কাল থেকে যারা কোনো একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাস করে আসছে, তারাই মূলত আদিবাসী। কিন্তু নৃতাত্ত্বিক বা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে এর সংজ্ঞাটি আরও ব্যাপক। যখন আমরা প্রশ্ন করি আদিবাসী কাকে বলে, তখন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা বা আইএলও এবং জাতিসংঘের দেওয়া সংজ্ঞাগুলো সামনে চলে আসে। তাদের মতে, একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে অন্যান্য প্রভাবশালী গোষ্ঠী বা জাতি আসার আগে থেকেই যারা সেখানে নিরবচ্ছিন্নভাবে বসবাস করছে এবং যাদের নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামো রয়েছে, তারাই আদিবাসী।

আদিবাসীদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ভূমির সাথে তাদের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। তারা শুধুমাত্র ভূমির মালিক নয়, বরং ভূমিকে তারা তাদের মা বা অস্তিত্বের অংশ মনে করে। ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায়, যখন কোনো ভূখণ্ডে ঔপনিবেশিক শাসন শুরু হয় বা বহিরাগতদের আধিপত্য বাড়ে, তখন এই মূল বাসিন্দারা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। আদিবাসী হওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো আত্মপরিচয় বা নিজের গোষ্ঠীর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করা। অর্থাৎ তারা নিজেদের একটি আলাদা জাতিসত্তা হিসেবে মনে করে এবং তাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া রীতিনীতি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহন করে চলে। এই দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহ্য এবং ভূমির প্রতি অগাধ মমত্ববোধই আমাদের সামনে পরিষ্কার করে দেয় যে আদিবাসী কাকে বলে।

আরও পড়ূনঃ অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের দেশ কয়টি? দেশ ও রাজধানীর তালিকা ২০২৬

আদিবাসী ও উপজাতি: শব্দগত পার্থক্য ও সংজ্ঞার লড়াই

আমাদের প্রাত্যহিক কথাবার্তায় অনেক সময় আদিবাসী এবং উপজাতি শব্দ দুটিকে একই অর্থে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিক এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এদের মধ্যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে। উপজাতি শব্দটি মূলত নৃবিজ্ঞানে একটি জনগোষ্ঠীর ক্ষুদ্র অংশকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যারা একটি বৃহত্তর জাতির তুলনায় সংখ্যায় কম। অনেকের মতে উপজাতি শব্দটি কিছুটা অবমাননাকর বা এটি একটি জাতির নিম্নস্তরকে নির্দেশ করে। অন্যদিকে, আদিবাসী শব্দটি একটি জনগোষ্ঠীর অধিকার এবং ভূমির ওপর তাদের ঐতিহাসিক দাবির প্রতিফলন ঘটায়।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই নাম নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক রয়েছে। ২০১১ সালের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোকে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা বা নৃগোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তবে নৃতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাজনৈতিকভাবে যাই বলা হোক না কেন, তাদের জীবনধারা এবং ঐতিহাসিক অবস্থান অনুযায়ী তারা আদিবাসী হওয়ার যোগ্য দাবিদার। নিচে একটি তালিকার মাধ্যমে এদের মূল পার্থক্যগুলো তুলে ধরা হলো:

বিষয়আদিবাসীউপজাতি
মূল পরিচয়ভূখণ্ডের আদি বা প্রাচীন বাসিন্দাবৃহৎ কোনো জাতির উপ-বিভাগ বা অংশ
অধিকারবোধভূমির ওপর ঐতিহাসিক ও জন্মগত অধিকারপ্রধানত সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত স্বাতন্ত্র্য
রাজনৈতিক মর্যাদাআন্তর্জাতিক আইনে বিশেষ সংরক্ষিত অধিকারজাতীয় প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘু বা ক্ষুদ্র জাতি
পরিচিতিজাতি হিসেবে পূর্ণাঙ্গ এবং স্বতন্ত্রএকটি বৃহৎ সংস্কৃতির ক্ষুদ্রতর শাখা

এই পার্থক্যটি বোঝা জরুরি কারণ এটি একটি জনগোষ্ঠীর আত্মমর্যাদার সাথে জড়িত। যখন আমরা তাদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকার করি, তখন পরোক্ষভাবে আমরা সেই ভূমির ওপর তাদের প্রাচীন অধিকারকেও সম্মান জানাই।

আদিবাসী সমাজের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক চালচিত্র

আদিবাসী সমাজের মূল ভিত্তি হলো তাদের সংস্কৃতি এবং সামাজিক কাঠামো। এই সমাজগুলো সাধারণত সামষ্টিক মালিকানায় বিশ্বাসী, যেখানে ব্যক্তিগত লাভের চেয়ে গোষ্ঠীর স্বার্থ বড় হয়ে দাঁড়ায়। তাদের পারিবারিক বন্ধন অত্যন্ত দৃঢ় এবং তারা তাদের প্রবীণ সদস্যদের মতামতকে সর্বোচ্চ সম্মান দেয়। আদিবাসীদের বিচার ব্যবস্থা এবং গ্রাম পরিচালনার ধরন আধুনিক শাসন ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। প্রতিটি গোত্র বা পাড়ার জন্য একজন প্রধান থাকেন যিনি স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তি এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখেন।

সাংস্কৃতিক দিক থেকে আদিবাসী সমাজ পৃথিবীর অন্যতম সমৃদ্ধ অংশ। তাদের পোশাক, অলঙ্কার এবং ঘর তৈরির কৌশল পুরোপুরি পরিবেশবান্ধব। তারা পাহাড়ের ঢালে জুম চাষ করে বা বনের ফলমূল সংগ্রহ করে জীবন ধারণ করে, যা তাদের প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধের বহিঃপ্রকাশ। তাদের প্রতিটি উৎসবের সাথে জড়িয়ে আছে কৃষি এবং প্রকৃতির আবর্তন। নিচে আদিবাসী সমাজের কিছু প্রধান সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো:

  • নিজস্ব মাতৃভাষা: প্রতিটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা রয়েছে যা তাদের প্রধান অলঙ্কার। যদিও অনেক আদিবাসী ভাষা আজ বিলুপ্তির পথে, তবুও তারা তাদের দৈনন্দিন জীবনে এই ভাষায় কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।
  • প্রকৃতির পূজা: আদিবাসীরা সাধারণত সৃষ্টিকর্তার পাশাপাশি পাহাড়, নদী এবং সূর্যকে দেবতার প্রতীক হিসেবে পূজা করে। তারা বিশ্বাস করে প্রকৃতি রুষ্ট হলে মানুষের জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে।
  • বর্ণাঢ্য উৎসব: চাকমাদের বিজু, মারমাদের সাংগ্রাই, ত্রিপুরাদের বৈসু বা গারোদের ওয়ানগালা উৎসবগুলো আনন্দ এবং ঐতিহ্যের এক মহা মিলনস্থল। এই উৎসবগুলোতে তারা নতুন ধান ঘরে তোলা বা নববর্ষ পালন করে।
  • সামাজিক বিচার ব্যবস্থা: আদিবাসী সমাজে রাজার শাসন বা হেডম্যান-কার্বারি প্রথা আজও প্রচলিত। তাদের নিজস্ব রীতিনীতি অনুযায়ী ছোটখাটো বিরোধ সামাজিকভাবেই মেটানো হয়।
  • হস্তশিল্প ও গান: হাতে বোনা কোমর তাঁতের কাপড় এবং বাঁশ-বেতের তৈরি তৈজসপত্র তাদের শৈল্পিক গুণের পরিচয় দেয়। এছাড়া তাদের ঐতিহ্যবাহী নাচ ও গান আদিবাসী জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

এই সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যই আদিবাসী সমাজকে পৃথিবীর অন্যান্য জাতি থেকে আলাদা করে রাখে। তাদের এই জীবনধারা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সুখ শুধুমাত্র আধুনিক প্রযুক্তিতে নয়, বরং প্রকৃতির কাছাকাছি সহজ ও সরল জীবনেও খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

বাংলাদেশের প্রধান আদিবাসী বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসমূহ

বাংলাদেশ একটি বহু জাতি এবং বহু সংস্কৃতির দেশ। এখানে বাঙালি জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি প্রায় ৫০টিরও বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা আদিবাসী জনপদ কয়েক শতাব্দী ধরে বসবাস করে আসছে। আপনি যদি ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করেন, তবে বাংলাদেশের আদিবাসীদের প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়—পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী এবং সমতলের আদিবাসী। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে মূলত চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা এবং ম্রোসহ প্রায় ১১টি জাতিসত্তা বাস করে। এদের মধ্যে চাকমারা হলো সংখ্যায় সবচেয়ে বড় এবং তারা শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে বেশ অগ্রসর। মারমারা তাদের বর্ণাঢ্য উৎসব এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত।

অন্যদিকে সমতলের আদিবাসীদের মধ্যে উত্তরবঙ্গের সাঁওতাল, গারো, হাজং এবং খাসিয়া উল্লেখযোগ্য। ময়মনসিংহের গারো সমাজ একটি বিশেষ কারণে সারা বিশ্বে পরিচিত, আর তা হলো তাদের মাতৃতান্ত্রিক পরিবার ব্যবস্থা। গারো সমাজে পরিবারের প্রধান হিসেবে মা দায়িত্ব পালন করেন এবং সম্পত্তির মালিকানাও নারীদের হাতে থাকে। আবার সিলেট অঞ্চলের খাসিয়ারা তাদের চমৎকার পান চাষ এবং পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে গড়ে তোলা পুঞ্জি বা গ্রামের জন্য পরিচিত। রাজশাহীর সাঁওতালরা তাদের কঠোর পরিশ্রমী স্বভাব এবং ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামের সাহসী ইতিহাসের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। নিচে একটি তালিকার মাধ্যমে এদের প্রধান আবাসস্থল সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হলো:

অঞ্চল অনুযায়ী প্রধান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তালিকা

১. পার্বত্য চট্টগ্রাম (রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি): চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, বম, লুসাই। ২. সিলেট অঞ্চল: খাসিয়া, মণিপুরি, পাত্র, গারো। ৩. উত্তরবঙ্গ (রাজশাহী, দিনাজপুর): সাঁওতাল, ওরাওঁ, মুণ্ডা, রাজবংশী। ৪. ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল অঞ্চল: গারো, হাজং, কোচ, বর্মণ। ৫. উপকূলীয় অঞ্চল (পটুয়াখালী, বরগুনা): রাখাইন।

এই বৈচিত্র্যময় জনপদগুলো বাংলাদেশের মানচিত্রকে এক অনন্য রূপ দিয়েছে। প্রতিটি গোষ্ঠীর নিজস্ব খাদ্যাভ্যাস, পোশাক এবং ঘর তৈরির কৌশল আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

আদিবাসী অধিকার ও বর্তমান চ্যালেঞ্জসমূহ

আদিবাসী কাকে বলে এই সংজ্ঞাটি জানলে এটিও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে তারা এই ভূমির আদি উত্তরাধিকারী। তবে আধুনিক বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে এই জনগোষ্ঠীগুলো নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। আদিবাসীদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ভূমির অধিকার। ঐতিহাসিকভাবে তারা বনের জমি বা পাহাড়ের ওপর নির্ভরশীল হলেও আধুনিক ভূমি আইনের জটিলতায় অনেক সময় তারা নিজ ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। বাংলাদেশ সরকার ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ কমিশন গঠন করলেও এর পূর্ণ বাস্তবায়ন এখনও একটি বড় দাবি হিসেবে রয়ে গেছে।

দ্বিতীয়ত, ভাষা ও সাংস্কৃতিক বিলুপ্তি একটি বড় দুশ্চিন্তার বিষয়। অনেক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব বর্ণমালা নেই, যার ফলে তাদের ভাষাগুলো কেবল মৌখিক ব্যবহারে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। নতুন প্রজন্মের আদিবাসীরা আধুনিক শিক্ষার প্রয়োজনে বাংলা বা ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করায় তারা নিজেদের মাতৃভাষা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তবে আশার কথা হলো, বর্তমান সরকার প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে কয়েকটি আদিবাসী ভাষায় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করেছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস প্রতিবছর ৯ই আগস্ট পালিত হয়, যা সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও আদিবাসীদের অধিকার সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আদিবাসীদের অধিকার রক্ষা করা মানেই হলো পৃথিবীর বৈচিত্র্যময় ইতিহাসকে রক্ষা করা।

উপসংহার ও শেষ কথা

একটি গাছের সৌন্দর্য যেমন তার প্রতিটি ডালে ডালিম কিংবা ফুলের উপস্থিতিতে বাড়ে, একটি দেশের সৌন্দর্যও তেমন তার প্রতিটি জাতির সহাবস্থানে বৃদ্ধি পায়। আদিবাসী কাকে বলে তা জানতে গিয়ে আমরা মূলত আমাদের নিজেদের শিকড়ের গল্পকেই চিনেছি। আদিবাসীরা আমাদের শেখায় কীভাবে অভাবের মধ্যেও প্রকৃতির সাথে ভারসাম্য বজায় রেখে শান্তিতে থাকা যায়। তাদের ঐতিহ্য, ভাষা এবং সংস্কৃতি আমাদের জাতীয় সম্পদের অংশ। আমরা যদি তাদের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হই, তবে অদূর ভবিষ্যতে এই সুন্দর জাতিসত্তাগুলো হারিয়ে যাবে।

পরিশেষে বলা যায়, আমাদের সবার পরিচয় যাই হোক না কেন, দিনশেষে আমরা সবাই মানুষ। আদিবাসীদের নিজস্ব জীবনধারাকে সম্মান করা এবং তাদের উন্নয়নের মূল স্রোতে শামিল করা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। বৈচিত্র্যের এই ঐক্যের মাধ্যমেই আমরা একটি সমৃদ্ধ এবং উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।

আপনি কি কখনো কোনো আদিবাসী উৎসব সরাসরি দেখেছেন বা তাদের কোনো ঐতিহ্যের কথা আপনার জানা আছে? আপনার অভিজ্ঞতা বা মতামত আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন।

ইসাবেলা ক্লার্ক একজন কনটেন্ট রাইটার ও ব্লগার, বর্তমানে বার্মিংহামে বসবাস করছেন। তিনি শিক্ষা, তথ্যভিত্তিক ও ডিজিটাল বিষয় নিয়ে সহজ, পরিষ্কার ও পাঠকবান্ধব লেখা তৈরি করেন। জটিল বিষয়কে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা এবং পাঠকের কাজে লাগে এমন মানসম্মত কনটেন্ট দেওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য।

1 thought on “আদিবাসী কাকে বলে ও কত প্রকার।আদিবাসী সমাজের পূর্ণাঙ্গ ধারণা”

Leave a Comment