আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। এই ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিএনপি জানিয়েছে, সরকার গঠন করতে পারলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন করা হবে। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী, বাস্তবভিত্তিক এবং কর্মমুখী করতে এই কমিশন কাজ করবে। শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন বিষয়ে দলটি প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই উদ্যোগ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি বিএনপির
বিএনপির ঘোষিত শিক্ষা সংস্কার কমিশনের প্রধান লক্ষ্য হবে শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করা। কমিশনে দেশের খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ, কারিগরি বিশেষজ্ঞ, পেশাজীবী এবং প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষাবিদদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই বিশেষজ্ঞ কমিটি শিক্ষা কারিকুলাম পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রস্তাব দেবে। শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
নতুন শিক্ষানীতিতে কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় তাত্ত্বিক শিক্ষার আধিক্য থাকলেও বাস্তব দক্ষতা অর্জনের সুযোগ কম। শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন হলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হবে। এতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের দক্ষতা অর্জন করতে পারবে।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনের একটি টেবিল
শিক্ষা স্তর | বর্তমান অবস্থা | প্রস্তাবিত পরিবর্তন
প্রাথমিক | বইকেন্দ্রিক শিক্ষা | মূল্যবোধ ও জীবন দক্ষতা
মাধ্যমিক | তাত্ত্বিক পাঠ্যক্রম | কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষা
উচ্চ মাধ্যমিক | সীমিত দক্ষতা উন্নয়ন | ইংরেজি স্পিকিং টেস্ট
বিএনপির ইশতেহারে বলা হয়েছে, পর্যায়ক্রমে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ইংরেজি পাঠ্যপুস্তকের ওপর স্পিকিং টেস্ট চালু করা হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে কথা বলার দক্ষতা বাড়বে। শিক্ষা সংস্কার কমিশন এই পরীক্ষার কাঠামো ও মূল্যায়ন পদ্ধতি নির্ধারণ করবে। আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ শিক্ষা কারিকুলামে যুক্ত করা। প্রাথমিক পর্যায় থেকেই ভাষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং নৈতিক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে সুশৃঙ্খল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। ইশতেহারে রাষ্ট্র পরিচালনা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন খাতে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তবে শিক্ষা খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠনের বিষয়টি আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
সব মিলিয়ে বিএনপির ঘোষিত শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন পরিকল্পনা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। কারিগরি শিক্ষা, ইংরেজি স্পিকিং টেস্ট এবং মূল্যবোধভিত্তিক কারিকুলাম বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের জন্য আরও প্রস্তুত হবে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচনের পর এই প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা বাস্তবায়ন করা যায়।
আরও পড়ুনঃ শিক্ষা খাতে বিএনপির ইশতেহার ২০২৬



