চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের CUET Admission Result 2026 প্রকাশিত হয়েছে। মেধা তালিকা দেখার নিয়ম, চয়েস ফর্ম পূরণ এবং ভর্তির তারিখ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রকাশিত হলো চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল। প্রকৌশল শিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যে হাজারো শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাদের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটেছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি, ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেরিফায়েড ভর্তিসংক্রান্ত ওয়েবসাইটে আনুষ্ঠানিকভাবে এই CUET Admission Result 2026 প্রকাশ করা হয়। যারা মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছেন এবং যারা অপেক্ষমান তালিকায় আছেন, তাদের পরবর্তী করণীয়, চয়েস ফর্ম পূরণ এবং চূড়ান্ত ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আজকের এই আর্টিকেলটি সাজানো হয়েছে।
চুয়েট ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট ২০২৬ এর পরিসংখ্যান ও বিস্তারিত
এবারের ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে মেধা তালিকায় জায়গা করে নিতে হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগসমূহ এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা (URP) বিভাগে মূল মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছেন মোট ৯ হাজার ৪৯৮ জন শিক্ষার্থী। এটি নিঃসন্দেহে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশাল অর্জনের বিষয়।
সাধারণ আসনের পাশাপাশি কোটা পদ্ধতির ফলাও প্রকাশ করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অন্যান্য জেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী (উপজাতি) কোটায় ২৮ জন এবং রাখাইন সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত আসনে ২ জন শিক্ষার্থী মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন। অন্যদিকে, স্থাপত্য (Architecture) বিভাগের ফলাফলেও দেখা গেছে উল্লেখযোগ্য প্রতিযোগিতা। স্থাপত্য বিভাগে মূল মেধা তালিকায় ৩০৩ জন শিক্ষার্থী স্থান পেয়েছেন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটায় ১ জন শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ রুয়েট ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল
অনলাইনে চয়েস ফর্ম পূরণের নিয়মাবলী ও সময়সীমা
মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া মানেই ভর্তির নিশ্চয়তা নয়, এর জন্য সঠিক সময়ে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। CUET Admission Result 2026 প্রকাশের সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভর্তি প্রক্রিয়া সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এই ধাপে শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান কাজ হলো ‘অনলাইন চয়েস ফর্ম’ বা পছন্দক্রম প্রদান করা।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মেধা তালিকায় স্থানপ্রাপ্ত সকল প্রার্থীকে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি (রোববার) সকাল ১০টা থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের চুয়েটের নির্দিষ্ট ভর্তিসংক্রান্ত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অ্যাডমিশন পোর্টালে লগ-ইন করতে হবে। এরপর সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি দিয়ে অনলাইন চয়েস ফর্ম পূরণ করতে হবে।
বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে করণীয়: ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগগুলো এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মোট ১১টি পছন্দক্রম (Subject Choice) পূরণ করতে হবে। আপনার পছন্দের সাবজেক্টটি সবার উপরে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। তবে যারা স্থাপত্য বিভাগে ভর্তি হতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য কোনো পছন্দক্রম বা চয়েস ফর্ম পূরণের প্রয়োজন নেই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চয়েস ফর্ম পূরণ না করলে প্রার্থিতা বাতিল বলে গণ্য হতে পারে, তাই শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত এটি সম্পন্ন করা উচিত।
সরাসরি ভর্তি ও নিরীক্ষা বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার তারিখ
অনলাইন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর শুরু হবে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ভর্তির মূল কার্যক্রম। বিজ্ঞপ্তিতে এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ভর্তির জন্য আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি তারিখটি নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগসমূহ এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগে ভর্তির জন্য মূল মেধা তালিকার প্রথম ১ হাজার ২৫০ জন শিক্ষার্থীকে ডাকা হয়েছে। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অন্যান্য জেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী তালিকার প্রথম ১০ জন এবং রাখাইন সম্প্রদায়ের ১ জন শিক্ষার্থীকেও একই দিনে উপস্থিত থাকতে হবে।
স্থাপত্য বিভাগের ক্ষেত্রে, মূল মেধা তালিকার প্রথম ৭৫ জন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী তালিকার ১ জন শিক্ষার্থীকে ২৫ ফেব্রুয়ারি সশরীরে নিরীক্ষা বোর্ডে উপস্থিত হয়ে ভর্তির কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। মনে রাখবেন, নিরীক্ষা বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার সময় অবশ্যই প্রয়োজনীয় সকল মূল কাগজপত্র সাথে রাখতে হবে।
অপেক্ষমান তালিকা ও পরবর্তী ভর্তি কার্যক্রম
অনেকেই জানতে চান, প্রথম ধাপে সুযোগ না পেলে কি আর সুযোগ নেই? তাদের জন্য সুখবর হলো, চুয়েট ভর্তি প্রক্রিয়া সাধারণত কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথম পর্যায়ে ভর্তির পর যেসব প্রার্থীর আসন নিশ্চিত হবে, তাদের বাদ দিয়ে বাকি শূন্য আসনগুলোর জন্য আবার শিক্ষার্থী ডাকা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রথম পর্যায়ের ভর্তিকৃত প্রার্থীর প্রাপ্ত বিভাগ ও মোট শূন্য আসন সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী ভর্তির জন্য নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। এই তালিকাটি আগামী ১ মার্চ তারিখের মধ্যে ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। আসন খালি থাকা সাপেক্ষে ওরিয়েন্টেশন ক্লাসের দিন পর্যন্ত ধাপে ধাপে এই ভর্তি প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। তাই যারা শুরুর দিকের ওয়েটিং লিস্টে আছেন, তাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। নিয়মিত ওয়েবসাইট চেক করা এবং আপডেট থাকাটা এখানে জরুরি।
উপসংহার
প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন পূরণের দ্বারপ্রান্তে আপনারা। CUET Admission Result 2026 এর মাধ্যমে আপনাদের সেই স্বপ্নের পথে প্রথম ধাপটি সম্পন্ন হলো। এখন প্রয়োজন সতর্কতা ও সময়ের সঠিক ব্যবহার। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া চয়েস ফর্ম পূরণ এবং ২৫ ফেব্রুয়ারির চূড়ান্ত ভর্তির দিনক্ষণগুলো ক্যালেন্ডারে মার্ক করে রাখুন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে প্রস্তুতি নিন। আপনাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সফল শিক্ষাজীবনের জন্য অনেক শুভকামনা। নিয়মিত আপডেটের জন্য চুয়েটের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের ওপর নজর রাখুন।
