ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির গেজেট ২০২৬ প্রকাশ: নতুন অধ্যাদেশে কী বদল আসছে শিক্ষাব্যবস্থায়

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির গেজেট ২০২৬ প্রকাশ দেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে আলোচনা, সমালোচনা ও আন্দোলনের পর অবশেষে সরকারিভাবে এই অধ্যাদেশের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার ৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে গেজেটটি প্রকাশ করে। এই ঘোষণার মাধ্যমে ঢাকা শহরের সাতটি বড় সরকারি কলেজকে একীভূত করে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামোর আওতায় আনার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির গেজেট ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে, যা এই বিষয়ে আগ্রহী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

আরও পড়ুনঃ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রমজানের ছুটি নিয়ে সুখবর ২০২৬

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির গেজেট ২০২৬ প্রকাশ

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির গেজেট ২০২৬ প্রকাশের আগে গত ২২ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই অধ্যাদেশের চূড়ান্ত খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদের স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে “ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬” অনুমোদিত হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো উচ্চশিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জট নিরসন করা। একাধিক কলেজের সমন্বয়ে অভিন্ন একাডেমিক কাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দু।

নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ সংযুক্ত কলেজ হিসেবে পরিচালিত হবে। এই কলেজগুলোর নিজস্ব পরিচয়, অবকাঠামো এবং স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ওপর তাদের অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে। অর্থাৎ প্রশাসনিক কাঠামো একীভূত হলেও কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য বজায় থাকবে।

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির গেজেট ২০২৬ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো রাখা হয়েছে। এতে আচার্য, উপাচার্য, সিনেট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করবেন এবং সিনেট মনোনীত প্যানেল থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেবেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন শিক্ষা, পরীক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিদর্শন ও মূল্যায়নের ক্ষমতা পাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কলা, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, আইন ও চারুকলাসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের জন্য পৃথক স্কুল থাকবে এবং প্রতিটি স্কুলের নেতৃত্বে থাকবেন একজন হেড অব স্কুল।

ভর্তির ক্ষেত্রে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল এবং কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা মূল ক্যাম্পাস বা সংযুক্ত কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঠদান, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিন্ন সময়সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয়ভাবে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু করা হবে এবং শিক্ষক উন্নয়ন ও উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকবে।

অধ্যাদেশে আবাসিক হল সুবিধা, ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম চালুর বিধান রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের পরিকল্পনাও উল্লেখ করা হয়েছে। নিজস্ব ক্যাম্পাস নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সব মিলিয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির গেজেট ২০২৬ প্রকাশ দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আরও সমন্বিত, মানসম্মত ও আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আসবে বলে আশা করা যায়।

আরও পড়ুনঃ কারিগরি ও মাদরাসা এমপিওভুক্তির আবেদন স্থগিত ২০২৬

Bikrom Das

আমি বিক্রম দাস একজন প্রফেশনাল রাইটার। আমি প্রযুক্তি, মোবাইল, ইনকাম তথ্য সম্পর্কিত লেখালেখি করে থাকি। আশাকরি আমার লেখা ভ্যালুয়েবল আর্টিকেল পড়ে আপনারা উপকৃত হচ্ছেন।

Leave a Comment