ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে SSC (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ChatGPT ব্যবহার করে নকল করার অভিযোগে আট শিক্ষার্থী বহিষ্কার হয়েছে। এই ঘটনাটি শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তি ব্যবহারের নতুন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে। প্রশাসন জানিয়েছে, পরীক্ষার হলে ChatGPT এবং গাইড বই ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, তবুও কিছু শিক্ষার্থী নিয়ম ভেঙেছে।
উপজেলা প্রশাসনের তৎপর অভিযানে বিষয়টি ধরা পড়ে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমির সালমান পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে সরাসরি অসদুপায়ের প্রমাণ পান। তিনি সঙ্গে সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন।
ChatGPT ব্যবহার করে পরীক্ষায় নকল
মঙ্গলবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে গফরগাঁও মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা চলছিল। হঠাৎ অভিযানে তিনটি কক্ষে অনিয়ম দেখা যায়। ছয়জন শিক্ষার্থীর কাছে গাইড বই এবং দুইজনের কাছে মোবাইল ফোনে ChatGPT খোলা ছিল।
পরীক্ষার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বই বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু কিছু শিক্ষার্থী গোপনে ChatGPT থেকে উত্তর দেখে খাতায় লিখছিল। এতে পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আরও পড়্যনঃ এমপিওভুক্ত শিক্ষক জাতীয়করণ ২০২৬: নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি ও শিক্ষকদের বড় প্রত্যাশা
অভিযানে পাওয়া অনিয়ম
| বিষয় | সংখ্যা | মন্তব্য |
| শিক্ষার্থী বহিষ্কার | ৮ | ChatGPT ও গাইড বই ব্যবহার |
| গাইড বই পাওয়া | ৬ | নিয়ম ভঙ্গ |
| মোবাইল ফোন পাওয়া | ২ | AI অ্যাপ চালু |
এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে প্রশাসন নিয়মিত ভিজিল্যান্স বাড়াচ্ছে। কেন্দ্রের প্রবেশপথে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের আগে থেকেই সতর্ক করা হচ্ছে, যেন কোনো নিষিদ্ধ ডিভাইস না আনে। শিক্ষক ও কক্ষ পরিদর্শকদেরও দায়িত্ব সম্পর্কে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে পরীক্ষার পরিবেশ স্বচ্ছ থাকবে।
প্রযুক্তি ব্যবহারের ঝুঁকি ও সচেতনতা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ChatGPT একটি সহায়ক প্রযুক্তি হলেও পরীক্ষায় এর অপব্যবহার গুরুতর অপরাধ। এটি শিক্ষার্থীর প্রকৃত দক্ষতা যাচাই বাধাগ্রস্ত করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তি ব্যবহারের সঠিক নীতি জরুরি।
প্রশাসন ইতিমধ্যে কঠোর নজরদারি শুরু করেছে। পরীক্ষার হলে মোবাইল নিষিদ্ধ এবং সন্দেহজনক কার্যক্রমে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সচেতনতা বাড়ালে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা কমবে।
অভিভাবকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তারা সন্তানদের সৎভাবে পরীক্ষায় অংশ নিতে উৎসাহ দিলে অনিয়ম কমবে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শেখানো হলে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
প্রশ্ন: কেন ChatGPT ব্যবহার করে পরীক্ষায় নকল ঝুঁকিপূর্ণ?
উত্তর: এটি পরীক্ষার ন্যায্যতা নষ্ট করে এবং শাস্তির ঝুঁকি বাড়ায়।
প্রশ্ন: প্রশাসন কী পদক্ষেপ নিয়েছে?
উত্তর: অভিযানে শিক্ষার্থী বহিষ্কার এবং দায়িত্বে অবহেলা করা শিক্ষকদের সরানো হয়েছে।
শিক্ষা প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষার মান রক্ষা করতে প্রযুক্তি পর্যবেক্ষণ, অতিরিক্ত পরিদর্শন এবং সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হবে। এতে সবার মধ্যে নিয়ম মানার সংস্কৃতি তৈরি হবে।
বিশেষ করে বোর্ড কর্তৃপক্ষ পরীক্ষাকেন্দ্রে ডিজিটাল মনিটরিং বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এতে নকলের সুযোগ কমে যাবে এবং মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত হবে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সুষ্ঠু পরীক্ষা নিশ্চিত করা তাদের প্রধান লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
শিক্ষার্থীদের নিয়ম মেনে পরীক্ষা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আজ ঘোষণা।
এই ঘটনা প্রমাণ করে, প্রযুক্তি যেমন সুযোগ দেয়, তেমনি দায়িত্বও বাড়ায়। এই টুল সঠিকভাবে ব্যবহার করলে শেখা সহজ হয়, কিন্তু পরীক্ষায় অপব্যবহার ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের সম্মিলিত সচেতনতা জরুরি।



