নারী শিক্ষা বিনামূল্যে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত সম্প্রসারণ ২০২৬: নারীবান্ধব সরকারের নতুন অঙ্গীকার

নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়ন বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের মধ্যে নারী শিক্ষা বিনামূল্যে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত সম্প্রসারণের ঘোষণা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিএনপিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনলে নারীবান্ধব সরকার গঠনের আশ্বাস দিয়েছেন ডা. জুবাইদা রহমান

রোববার গুলশান লেক পার্কে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় গুলশান, বনানী ও বারিধারা সোসাইটির নারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন ডা. জুবাইদা রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শর্মিলা রহমান ও জাইমা রহমান। এই সভায় তিনি নারীর শিক্ষা ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরেন।

আরও পড়ুনঃ ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির গেজেট ২০২৬ প্রকাশ

নারী শিক্ষা বিনামূল্যে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত সম্প্রসারণ ২০২৬

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। এর মাধ্যমে বাল্যবিবাহ বন্ধ হবে এবং শিক্ষিত নারী সমাজ ও অর্থনীতিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবে। নারী শিক্ষা সম্প্রসারণ কর্মসূচি দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সমান সুযোগ তৈরির লক্ষ্যেই নেওয়া হবে।

মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা

তিনি জানান, ক্ষমতায় এলে প্রতিটি উপজেলায় নিরাপদে সন্তান জন্ম দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় আধুনিক সুবিধা বাড়ানো হবে। এতে গ্রাম ও শহরের নারীরা সমানভাবে উপকৃত হবে।

বিএনপি সরকার গঠন করলে নারী সাপোর্ট সেল গড়ে তোলা হবে বলে জানান তিনি। এই সেলে নারীদের আর্থিক সহায়তা ও আইনি সহযোগিতা দেওয়া হবে। কর্মজীবী নারীদের জন্য সবেতন ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি।

সার্বিকভাবে, নারী শিক্ষা বিনামূল্যে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত সম্প্রসারণ, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষা নারীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ডা. জুবাইদা রহমানের ঘোষণাগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে নারী ক্ষমতায়ন আরও শক্তিশালী হবে। এতে সমাজে সমতা ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। একই সঙ্গে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন নারীর পারিবারিক নিরাপত্তা বাড়াবে। গুলশান, বনানী ও বারিধারার নাগরিকদের সমস্যার সমাধানে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন হলে শহর ও গ্রামের নারীরা সমান সুবিধা পাবে।

নারী শিক্ষা বাড়লে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও সচেতন হবে। শিক্ষিত মা শিশুদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও শিক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় উন্নয়নের পথ সুগম করবে। অর্থনৈতিক দিক থেকেও নারী শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষ নারী কর্মশক্তি বাড়লে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে। এতে পরিবার ও সমাজের আয় বাড়বে। পাশাপাশি নারীর সিদ্ধান্তগ্রহণ ক্ষমতা শক্তিশালী হবে। সব মিলিয়ে, নারী শিক্ষা বিনামূল্যে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এটি বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। তবেই একটি ন্যায়ভিত্তিক, শিক্ষিত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে নীতিনির্ধারক, সমাজ ও পরিবারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সচেতনতা বাড়ানো ও সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। তাহলেই নারীর অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে স্থায়ীভাবে ভবিষ্যতে।

আরও পড়ুনঃ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রমজানের ছুটি নিয়ে সুখবর ২০২৬

Isabella Clark

ইসাবেলা ক্লার্ক একজন কনটেন্ট রাইটার ও ব্লগার, বর্তমানে বার্মিংহামে বসবাস করছেন। তিনি শিক্ষা, তথ্যভিত্তিক ও ডিজিটাল বিষয় নিয়ে সহজ, পরিষ্কার ও পাঠকবান্ধব লেখা তৈরি করেন। জটিল বিষয়কে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা এবং পাঠকের কাজে লাগে এমন মানসম্মত কনটেন্ট দেওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Comment