পে স্কেল গেজেট না হওয়ায় আন্দোলন ২০২৬ নতুন মাত্রা পেয়েছে। নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি কর্মচারীরা আবারও রাজপথে নেমেছেন। বৃহস্পতিবার সারাদেশে চার ঘণ্টার কর্মবিরতির মাধ্যমে তারা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। পে স্কেল গেজেট প্রকাশ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকায় কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। এই আন্দোলন ২০২৬ সালের শুরু থেকেই ধাপে ধাপে জোরালো হচ্ছে এবং এখন তা দেশব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
পে স্কেল গেজেট না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলন ২০২৬ জোরদার
সরকারি কর্মচারীদের দাবি মূলত এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত। তারা চান নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী পে স্কেল গেজেট দ্রুত প্রকাশ করা হোক। সরকার আগেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গেজেট প্রকাশের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি কঠোর করেছেন। পে স্কেল গেজেট না হওয়ায় আন্দোলন ২০২৬ এখন আর সীমিত পরিসরে নেই, বরং এটি একটি সংগঠিত ও পরিকল্পিত কর্মসূচিতে রূপ নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে। এই সময়ে সরকারি, আধা সরকারি এবং পে স্কেলের আওতাভুক্ত সব দপ্তর ও অফিসে কর্মচারীরা কাজ বন্ধ রাখেন। আগের কর্মসূচিতে দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি থাকলেও এবার সময় বাড়ানো হয়েছে। আন্দোলনকারীদের মতে, শান্তিপূর্ণ কর্মবিরতির মাধ্যমেই তারা সরকারের কাছে তাদের যৌক্তিক দাবি তুলে ধরছেন।
এর আগে ফেব্রুয়ারির প্রথম তিন দিনে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেছিলেন সরকারি চাকরিজীবীরা। তখন সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অফিস কার্যক্রম বন্ধ ছিল। সেই কর্মসূচির পর সরকার থেকে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা না আসায় কর্মচারীরা হতাশ হন। সেই হতাশাই বর্তমান আন্দোলন ২০২৬ কে আরও শক্তিশালী করেছে বলে নেতারা মনে করছেন।
সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মূখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী জানিয়েছেন, তারা সব সময় শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে আন্দোলন করছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কর্মচারীরা কখনোই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চান না। বরং নিয়ম মেনে শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের চেষ্টা করছেন। সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গেজেট প্রকাশ না করায় তারা বাধ্য হয়ে কর্মসূচি বাড়িয়েছেন।
পে স্কেল গেজেট না হওয়ায় আন্দোলন ২০২৬ এখানেই থেমে থাকছে না। আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী শুক্রবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এই সমাবেশের মাধ্যমে তারা সরকারের প্রতি আবারও স্পষ্ট বার্তা দিতে চান। দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।
পে স্কেল গেজেট না হওয়ায় আন্দোলন ২০২৬ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সরকারি কর্মচারীরা তাদের ন্যায্য দাবির পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নিয়েছেন। সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে এই আন্দোলন আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সময়োপযোগী সমাধানই পারে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং কর্মচারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে।



