আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার ইতোমধ্যে রাজনৈতিক ও শিক্ষাঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জামায়াতের ইশতেহারে শিক্ষাখাতকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি না থাকায় হতাশ হয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীরা। দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ দাবি করে আসা প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর প্রত্যাশা এবারও পূরণ হয়নি বলে মনে করছেন অনেকেই। নির্বাচনের আগে ঘোষিত এই ইশতেহার শিক্ষানীতির নানা দিক তুলে ধরলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ অনুপস্থিত থাকায় বিষয়টি বড় আলোচনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০২৬ নির্বাচনে জামায়াতের ইশতেহার
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইশতেহারে শিক্ষা সংস্কারকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার কথা বলা হয়েছে। ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়, মাদরাসা শিক্ষার স্বকীয়তা বজায় রেখে কারিকুলাম আধুনিকায়ন করা হবে এবং সমন্বিত ও সামগ্রিক শিক্ষানীতি বা Holistic Education গ্রহণ করা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সাধারণ ও ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে বলে দলটি দাবি করেছে।
শিক্ষাখাতের অন্যতম বড় দাবি এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ হলেও জামায়াতের ইশতেহারে এই বিষয়ে কোনো ঘোষণা নেই। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসা শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের নেতারা বলছেন, নির্বাচনী ইশতেহারে এই বিষয়টি না থাকলে তা শিক্ষকদের জন্য দুঃখজনক বার্তা বহন করে। তারা মনে করছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ ছাড়া শিক্ষাখাতে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
ইশতেহারে মাদরাসা শিক্ষার ক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোকে প্রাইমারি স্কুলের ন্যায় সরকারি করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রাথমিকভাবে প্রতি জেলায় একটি করে আলিয়া মাদরাসা সরকারিকরণের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মাদরাসা শিক্ষার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য দূরীকরণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক মাদরাসা সরকারিকরণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও ইশতেহারে রয়েছে।
কওমি শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ে পরিকল্পনা
জামায়াতের ইশতেহারে কওমি শিক্ষা ও গবেষণার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। কওমি শিক্ষা কাঠামো অক্ষুণ্ন রেখে সিলেবাস পরিমার্জন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং হাইয়াতুল উলইয়ার সার্টিফিকেটের যথাযথ মূল্যায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কওমি অঙ্গনের শীর্ষ আলেমদের পরামর্শে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে, যাতে কওমি শিক্ষার মান ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে।
ইশতেহারে আরও বলা হয়েছে, আরব বিশ্বসহ বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েটদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইসলামী জ্ঞানচর্চা ও থিওলজি গবেষণার জন্য যোগ্য ইসলামী স্কলার তৈরিতে শিক্ষাবৃত্তি এবং উচ্চতর ইলমী ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ইসলামী শিক্ষার প্রসার ঘটবে বলে দলটি আশা প্রকাশ করেছে।
২০২৬ নির্বাচনের আগে জামায়াতের ইশতেহার শিক্ষাখাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের কথা বললেও এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ না থাকায় বড় একটি অংশ উপেক্ষিত থেকে গেছে। শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের এই দাবি উপেক্ষা করলে ভবিষ্যতে শিক্ষাখাতে অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে। তাই শিক্ষাখাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুনঃ বগুড়ার সৈয়দ আহম্মদ কলেজে মাস্টার্স ভর্তি ২০২৬ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ



