২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের ই-ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের শেষ দিন ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়েছে এনবিআর। জানুন নতুন সময়সীমা, কারণ ও কীভাবে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে হবে। বিস্তারিত এখানে।
২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের জন্য নির্ধারিত e-VAT return দাখিলের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, করদাতারা আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত তাদের মাসিক ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। সাধারণত মাস শেষ হওয়ার পরের মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত এই রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় থাকে, কিন্তু বিশেষ কারণে এই সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এনবিআরের ই-ভ্যাট ইউনিট থেকে জানানো হয়, পবিত্র শবে বরাত এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দীর্ঘ সরকারি ছুটি ছিল। ছুটির কারণে অনেক করদাতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে পারেননি। এর সঙ্গে যুক্ত হয় আরও একটি প্রযুক্তিগত সমস্যা। ১৫ ফেব্রুয়ারি ই-চালান সিস্টেমের ওটিপি সার্ভার ডাউন থাকায় রিটার্ন জমা দেওয়া বিঘ্নিত হয়। ফলে সাধারণ মানুষের স্বার্থে এই সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় এনবিআর।
জানুয়ারির ই রিটার্ন দাখিলের ২০২৬ শেষ দিন
মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর ধারা ৬৪-এর উপ-ধারা (১ক)-এর ক্ষমতাবলে এই সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী ও করদাতারা। একটি সুষ্ঠু ও সহজ কর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতেই এনবিআর এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই বাড়তি সময় করদাতাদের জরিমানা এড়াতে এবং নির্ভুলভাবে রিটার্ন পূরণে সাহায্য করবে।
অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার পদ্ধতি
করদাতারা এখনও ই-ভ্যাট সিস্টেমের মাধ্যমে খুব সহজেই তাদের ভ্যাট অনলাইন সাবমিশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। এর জন্য প্রথমে এনবিআরের ই-ভ্যাট পোর্টালে লগইন করতে হবে। সেখানে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে প্রয়োজনীয় তথ্য ও চালানের বিবরণী যুক্ত করতে হবে। ফরম পূরণের পর তা পরীক্ষা করে দেখে নিতে হবে যে সব তথ্য সঠিক আছে কিনা। তারপর অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে বা নির্ধারিত ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। পুরো প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ নয়, তাই শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা না করে এখনই সেরে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
যারা প্রথমবার ই-ভ্যাট রিটার্ন প্রক্রিয়া করছেন, তাদের জন্য এনবিআরের ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় গাইডলাইন দেওয়া আছে। সেখান থেকে সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। এছাড়া জাতীয় হেল্পলাইন নম্বরেও যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সময়মতো রিটার্ন জমা না দিলে জরিমানা ও অন্যান্য জটিলতা তৈরি হতে পারে, তাই এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার পরামর্শ দিয়েছে এনবিআর।
সতর্কতা ও করণীয়
আপনার ভ্যাট রিটার্ন যেন সঠিক সময়ে জমা হয়, সেদিকে নজর রাখা জরুরি। সব ধরণের ক্রয়-বিক্রয়ের হিসাব ও ভ্যাট চালান সংরক্ষণ করুন। অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় ইন্টারনেট সংযোগ স্থিতিশীল রাখুন। কোনো জটিলতার মুখে পড়লে সরাসরি ই-ভ্যাট হেল্পডেস্কে যোগাযোগ করুন। সময় বাড়ানো হয়েছে, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, দেরি করা যাবে। ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আপনার রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ করাই হবে সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।
প্রশ্ন: জানুয়ারি মাসের ই-ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ দিন কত?
উত্তর: জানুয়ারি মাসের ই-ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
প্রশ্ন: সময় বাড়ানোর মূল কারণ কী?
উত্তর: সরকারি ছুটি এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি ই-চালান সিস্টেমের ওটিপি সার্ভার ডাউন থাকার কারণে সময় বাড়ানো হয়েছে।
প্রশ্ন: কিভাবে ই-ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে পারি?
উত্তর: এনবিআরের ই-ভ্যাট পোর্টালে লগইন করে ফরম পূরণ ও পেমেন্টের মাধ্যমে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
এনবিআরের এই সিদ্ধান্ত করদাতাদের জন্য স্বস্তিদায়ক হলেও, শেষ মুহূর্তের জটিলতা এড়াতে দ্রুত রিটার্ন জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রযুক্তিগত কোনো সমস্যা বা জিজ্ঞাসা থাকলে অফিস চলাকালীন সময়ে এনবিআরের সহায়তা কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। সময়মতো বাধ্যবাধকতা পালন করুন, জরিমানা থেকে নিজেকে রক্ষা করুন।



