চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল ও পিএইচডি ভর্তি ২০২৬: মাসিক ২০ হাজার ও ৪০ হাজার টাকার গবেষণা বৃত্তিসহ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল ও পিএইচডি ভর্তি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে গবেষণায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় সুযোগ। দেশের অন্যতম শীর্ষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে মানসম্মত গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার জন্য পরিচিত। এবারের এমফিল ও পিএইচডি ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় মাসিক গবেষণা বৃত্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা গবেষণার পথে এগিয়ে যেতে অনেককে উৎসাহিত করবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল ও পিএইচডি ভর্তি সংক্রান্ত সব তথ্য জানা থাকলে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং ভুলের সম্ভাবনা কমে যায়।

জানুয়ারি ২০২৬ সেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদের অধিভুক্ত বিভাগ, ইনস্টিটিউট এবং জামাল নজরুল ইসলাম উচ্চতর গবেষণা কেন্দ্রে পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হবে। এই ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য এটি সময়োপযোগী এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘোষণা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল ও পিএইচডি ভর্তি ২০২৬

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল ও পিএইচডি ভর্তি ২০২৬–এর অন্যতম আকর্ষণ হলো মাসিক গবেষণা বৃত্তি। মেধার ভিত্তিতে নির্বাচিত এমফিল শিক্ষার্থীরা দুই বছর পর্যন্ত প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে বৃত্তি পাবেন। অন্যদিকে পিএইচডি গবেষকদের জন্য তিন বছর পর্যন্ত মাসিক ৪০ হাজার টাকা হারে গবেষণা বৃত্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই আর্থিক সহায়তা গবেষকদের নিয়মিত গবেষণায় মনোযোগী হতে সাহায্য করবে এবং বাইরের আর্থিক চাপ কমাবে।

এই বৃত্তি শুধু নিয়মিত উপস্থিত গবেষকদের জন্য প্রযোজ্য হবে। গবেষণার অগ্রগতি, সুপারভাইজারের মূল্যায়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী বৃত্তি বহাল থাকবে। ফলে গবেষণার মান বজায় রাখার বিষয়টি এখানে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।

আরও পড়ুনঃ বিনা মূল্যে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের জন্য এআই শেখার সুযোগ ২০২৬

আবেদন ফি ও আবেদন জমা দেওয়ার নিয়ম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল ও পিএইচডি ভর্তি আবেদন করতে আগ্রহী প্রার্থীদের জন্য আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ টাকা। আবেদন ফরম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করতে হবে। ফরম পূরণ শেষে রেজিস্ট্রারের অনুকূলে অগ্রণী ব্যাংক অথবা জনতা ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে ইস্যুকৃত ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার সংযুক্ত করতে হবে।

সম্পূর্ণ আবেদনপত্র আগামী ৫ মার্চের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা শাখায় অফিস সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে জমা দেওয়া বা অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই সময় ও কাগজপত্রের বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল ভর্তি হতে হলে প্রার্থীদের অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি থাকতে হবে। এই ডিগ্রি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অথবা বাংলাদেশের অন্য যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত হতে পারে। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমমানের ডিগ্রিধারীরাও এমফিল প্রোগ্রামে আবেদনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে এসএসসি বা সমমান এবং এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় প্রতিটিতে ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫০ থাকতে হবে। অনার্স ও মাস্টার্স মিলিয়ে মোট সিজিপিএ কমপক্ষে ৬.৫০ এবং প্রতিটিতে ন্যূনতম সিজিপিএ ৩ থাকতে হবে। শ্রেণিভিত্তিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ক্ষেত্রে অনার্স ও মাস্টার্স উভয় পর্যায়ে দ্বিতীয় শ্রেণি এবং এসএসসি ও এইচএসসিতে ন্যূনতম ৫৫ শতাংশ নম্বর থাকতে হবে।

এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য বিভাগ বা ইনস্টিটিউট কর্তৃক গবেষণা প্রস্তুতি ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের ওপর লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত ফি সংশ্লিষ্ট বিভাগে নগদ জমা দিতে হবে।

পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির যোগ্যতা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি ভর্তি হতে হলে শিক্ষাগত যোগ্যতার মান আরও কিছুটা বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রার্থীদের এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ে ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫০ এবং অনার্স ও মাস্টার্স উভয় পরীক্ষায় মোট সিজিপিএ কমপক্ষে ৬.৭৫ থাকতে হবে। প্রতিটি পরীক্ষায় ন্যূনতম সিজিপিএ ৩.২৫ থাকা বাধ্যতামূলক।

পিএইচডি প্রোগ্রামেও বিভাগ বা গবেষণা কেন্দ্রের মাধ্যমে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। বিদেশি প্রার্থীদের জন্য IELTS স্কোর ন্যূনতম ৬ অথবা TOEFL স্কোর ন্যূনতম ৫৫০ কিংবা iBT-তে ৭৫ থাকতে হবে। তবে ইংরেজি ছাড়া অন্য ভাষায় থিসিস করলে এই শর্ত প্রযোজ্য হবে না।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি ভর্তি প্রক্রিয়ায় একাধিক এন্ট্রি ট্র্যাক রাখা হয়েছে। এমফিল ডিগ্রিধারী বা বিদেশি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় মাস্টার্স ডিগ্রিধারীরা আবেদন করতে পারবেন। যেসব প্রার্থীর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মোট সিজিপিএ ৭ এবং peer-reviewed journal-এ অন্তত একটি গবেষণা প্রবন্ধ আছে, তারাও যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

এ ছাড়া কলেজ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাত বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষক, সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা কর্মকর্তা এবং ‘স্যান্ডউইচ পিএইচডি’ প্রোগ্রামের অধীনে নিবন্ধিত গবেষকরাও নির্দিষ্ট শর্তে আবেদন করতে পারবেন। এমবিবিএস, বিডিএস বা বি.ফার্ম ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে গবেষণা প্রকাশনার সংখ্যা অনুযায়ী যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ বুয়েটে প্রথম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রম ২০২৬ বিজ্ঞপ্তি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

চাকরিরত প্রার্থীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা

চাকরিরত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে আবেদন প্রক্রিয়ায় কিছু অতিরিক্ত নিয়ম মানতে হবে। তাঁদের অবশ্যই নিজ নিজ নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। পূর্ণকালীন গবেষক হিসেবে এমফিল বা পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে চাইলে চাকরি থেকে ছুটি দেওয়া হবে মর্মে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সম্মতিপত্র আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল ও পিএইচডি ভর্তি ২০২৬ গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ। আকর্ষণীয় মাসিক বৃত্তি, স্বচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়া এবং মানসম্মত গবেষণা পরিবেশ এই প্রোগ্রামকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে। নির্ধারিত যোগ্যতা ও সময়সীমা মেনে সঠিকভাবে আবেদন করলে গবেষণার স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব। তাই আগ্রহী প্রার্থীদের উচিত বিজ্ঞপ্তির সব শর্ত ভালোভাবে পড়ে প্রস্তুতি নিয়ে আবেদন করা।

Bikrom Das

আমি বিক্রম দাস একজন প্রফেশনাল রাইটার। আমি প্রযুক্তি, মোবাইল, ইনকাম তথ্য সম্পর্কিত লেখালেখি করে থাকি। আশাকরি আমার লেখা ভ্যালুয়েবল আর্টিকেল পড়ে আপনারা উপকৃত হচ্ছেন।

Leave a Comment