আপনারা যারা উচ্চশিক্ষার জন্য অপেক্ষা করছেন, তাদের জন্য দারুণ একটা সুখবর নিয়ে এসেছি। আরে হ্যাঁ! দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে প্রকাশিত হয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স ভর্তি বিজ্ঞপ্তি। অনেকেই স্নাতক শেষ করে ভাবছিলেন, কবে নাগাদ মাস্টার্সে ভর্তির সুযোগ আসবে? ক্যারিয়ার বা পড়াশোনা—সব মিলিয়ে এই সময়টা শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণের পথ খুলে গেল।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স ভর্তি বিজ্ঞপ্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। আবেদনের তারিখ, যোগ্যতা, ফি জমা দেওয়ার নিয়ম এবং ভর্তির পুরো প্রক্রিয়া একদম সহজ বাংলায় আপনাদের বুঝিয়ে দেব। ২০২৬ সালের এই সেশনে যারা ভর্তি হতে চান, তাদের জন্য প্রতিটি তথ্য এখানে ধাপে ধাপে সাজানো আছে। চলুন, আর দেরি না করে জেনে নেওয়া যাক ভর্তির সব খুঁটিনাটি।
আরও পড়ুন: Maritime University Admit Card Download 2026।দ্রুত ডাউনলোড করার উপায়
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স ভর্তি বিজ্ঞপ্তি 2026 কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ভেবে দেখুন তো, আজকের এই প্রতিযোগিতামূলক বাজারে শুধু অনার্স ডিগ্রি কি যথেষ্ট? ক্যারিয়ারের সিঁড়িতে এক ধাপ এগিয়ে থাকতে হলে মাস্টার্স ডিগ্রি এখন প্রায় অপরিহার্য। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মাস্টার্স প্রোগ্রামটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক গভীর জ্ঞান অর্জনে সাহায্য করে। সরকারি বা বেসরকারি—যেকোনো চাকরিতেই উচ্চতর ডিগ্রির একটা আলাদা কদর আছে।
২০২৬ সালের এই ভর্তি বিজ্ঞপ্তিটি বিশেষ কারণে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এবার সেশনজট কমানোর লক্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তাদের একাডেমিক ক্যালেন্ডার বেশ কড়াকড়িভাবে মেইনটেইন করছে। যারা এই সেশনে ভর্তি হবেন, তারা আশা করা যায় নির্দিষ্ট সময়েই ডিগ্রি সম্পন্ন করতে পারবেন। তাছাড়া, গবেষণাধর্মী কাজ বা পিএইচডি করার ইচ্ছা থাকলে, এই নিয়মিত মাস্টার্স প্রোগ্রামটি আপনার ভিত্তি মজবুত করবে। তাই ক্যারিয়ার সচেতন শিক্ষার্থীদের জন্য এই সুযোগ হাতছাড়া করা একদমই উচিত হবে না।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স ভর্তি বিজ্ঞপ্তি 2026 প্রকাশের সম্ভাব্য সময় ও আপডেট
ইতিমধ্যেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ভর্তির সময়সূচি প্রকাশ করেছে। আপনারা যারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য সময়গুলো মাথায় রাখা খুব জরুরি। ক্যালেন্ডারে দাগ দিয়ে রাখতে পারেন, যাতে ডেডলাইন মিস না হয়। নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো তুলে ধরা হলো:
| কার্যক্রম | তারিখ ও সময় |
|---|---|
| অনলাইনে আবেদন শুরু | ২২ জানুয়ারি ২০২৬ (বিকাল ৪টা) |
| আবেদনের শেষ সময় | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (রাত ১২টা) |
| আবেদন ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ | ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| ক্লাস শুরুর তারিখ | ১ এপ্রিল ২০২৬ |
লক্ষ করুন, আবেদনের জন্য প্রায় এক মাস সময় পাওয়া যাচ্ছে। তবে শেষ দিনের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত আবেদন করে ফেলাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ শেষের দিকে সার্ভার অনেক সময় ধীরগতির হয়ে যায়।
কারা আবেদন করতে পারবেন? (যোগ্যতা ও শর্ত)
সবাই কিন্তু এই মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারবেন না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতা থাকা চাই। চলুন দেখে নিই শর্তগুলো কী কী:
- অনার্স ডিগ্রিধারী: আবেদনকারীকে অবশ্যই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকার স্বীকৃত যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রিধারী হতে হবে।
- ফলাফল: সনাতন পদ্ধতিতে যারা পাশ করেছেন, তাদের ন্যূনতম ৪৫ শতাংশ নম্বর থাকতে হবে। আর যারা গ্রেডিং পদ্ধতিতে (CGPA) পাশ করেছেন, তাদের অনার্সে ন্যূনতম সিজিপিএ ২.২৫ থাকতে হবে।
- প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স: যারা প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স (নিয়মিত) বা প্রথম পর্ব মাস্টার্স উত্তীর্ণ হয়েছেন, তারাও নির্ধারিত শর্ত মেনে আবেদন করতে পারবেন।
- সতর্কতা: কোনো শিক্ষার্থী যদি বর্তমানে অন্য কোনো কোর্সে (প্রাইভেট বা নিয়মিত) ভর্তি থাকে, তবে সে এই প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারবে না। দ্বৈত ভর্তির প্রমাণ পাওয়া গেলে ভর্তি বাতিল হয়ে যাবে।
মাস্টার্স প্রোগ্রামের ধরন ও বিষয়ভিত্তিক সুযোগ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স ভর্তি বিজ্ঞপ্তি সাধারণত নিয়মিত (Regular) প্রোগ্রামের জন্য দেওয়া হয়। এখানে বিজ্ঞান, মানবিক এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখার অধীনে বিভিন্ন বিষয়ে ভর্তির সুযোগ থাকে। বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, অর্থনীতি, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, উদ্ভিদবিজ্ঞান, গণিত, হিসাববিজ্ঞান এবং ব্যবস্থাপনা—এই বিষয়গুলোতে সাধারণত শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বেশি থাকে।
আপনার অনার্সের পঠিত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করেই মাস্টার্সের বিষয় নির্ধারিত হবে। চাইলেই আপনি হুট করে বিষয় পরিবর্তন করতে পারবেন না। তবে কিছু ইন্টারডিসিপ্লিনারি বিষয় আছে যেখানে শর্ত সাপেক্ষে অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারে। ভর্তির সময় আপনার সাবজেক্ট চয়েস দেওয়ার অপশন আসবে, সেখানে আপনার যোগ্যতা অনুযায়ী সাবজেক্টগুলো প্রদর্শিত হবে।
আবেদন পদ্ধতি: ধাপে ধাপে নির্দেশিকা
অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়াটি খুব একটা জটিল নয়, যদি আপনি সঠিক নিয়ম জানেন। নিচে ধাপগুলো সহজ করে বলা হলো:
ধাপ ১: ওয়েবসাইটে প্রবেশ
প্রথমে আপনাকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট (nu.ac.bd/admissions) এ যেতে হবে। সেখানে ‘Apply Now (Masters Regular)’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।
ধাপ ২: তথ্য প্রদান
আপনার অনার্সের রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং পাসের সন সঠিকভাবে টাইপ করতে হবে। সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার নাম ও অন্যান্য তথ্য দেখাবে।
ধাপ ৩: কলেজ ও বিষয় নির্বাচন
এরপর আপনাকে বিভাগ ও জেলা সিলেক্ট করে পছন্দের কলেজ নির্বাচন করতে হবে। আপনার মেরিট স্কোর অনুযায়ী যোগ্য বিষয়গুলো দেখা যাবে। পছন্দক্রম অনুযায়ী বিষয় সাজাতে হবে।
ধাপ ৪: ছবি আপলোড ও সাবমিট
সম্প্রতি তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। সব তথ্য ঠিক থাকলে ‘Submit Application’ এ ক্লিক করুন। এরপর আবেদন ফরমটি পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিন।
অনলাইন আবেদন ফি ও পেমেন্ট সিস্টেম
আবেদন তো করলেন, কিন্তু ফি জমা না দিলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রাথমিক আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০০ (এক হাজার) টাকা। এই টাকাটি সরাসরি কলেজে গিয়ে জমা দেওয়ার ঝামেলা এখন আর নেই বললেই চলে।
অধিকাংশ কলেজ এখন মোবাইল ব্যাংকিং (যেমন—বিকাশ, রকেট, নগদ) এর মাধ্যমে ফি গ্রহণ করে। আপনি যে কলেজে আবেদন করেছেন, সেই কলেজের নোটিশ বোর্ডে বা ওয়েবসাইটে পেমেন্ট করার নির্দিষ্ট নিয়ম দেওয়া থাকবে। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে অবশ্যই এই ফি পরিশোধ করতে হবে। পেমেন্ট করার পর ট্রানজেকশন আইডি সংরক্ষণ করতে ভুলবেন না।
মেধাতালিকা ও নির্বাচন প্রক্রিয়া
অনেকেই টেনশনে থাকেন, ভর্তি পরীক্ষা হবে কি না? স্বস্তির খবর হলো, মাস্টার্স নিয়মিত কোর্সে সাধারণত কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয় না। তাহলে নির্বাচন কীভাবে হয়? পুরোটাই আপনার অনার্সের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে।
আবেদনকারীদের স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে প্রাপ্ত সিজিপিএ বা নম্বরের ভিত্তিতে মেধাতালিকা তৈরি করা হয়। যাদের রেজাল্ট ভালো, তারা প্রথম মেধাতালিকায় সুযোগ পাবেন। যদি সিট খালি থাকে, তবে দ্বিতীয় মেধাতালিকা বা কোটা তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপরও যারা সুযোগ পান না, তাদের জন্য ‘রিলিজ স্লিপ’ এর ব্যবস্থা থাকে, যেখানে তারা নতুন করে ৫টি কলেজে আবেদনের সুযোগ পান।
ভর্তি নিশ্চিতকরণ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
মেধাতালিকায় আপনার নাম আসার পর আসল কাজ শুরু। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত ভর্তি ফরম পূরণ করতে হবে। এরপর নিচের কাগজপত্রগুলো নিয়ে কলেজে যোগাযোগ করতে হবে:
- অনলাইন থেকে প্রিন্ট করা মূল আবেদন ফরম ও চূড়ান্ত ভর্তি ফরম।
- স্নাতক (সম্মান) বা সমমান পরীক্ষার মূল মার্কশিট ও সনদপত্র (সাথে ফটোকপি)।
- রেজিস্ট্রেশন কার্ডের ফটোকপি।
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি (৪-৫ কপি)।
- পাঠ বিরতি বা গ্যাপ থাকলে তার সনদপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
কলেজ কর্তৃপক্ষ আপনার সব কাগজ যাচাই-বাছাই করে ভর্তি নিশ্চয়ন করবে এবং আপনি একটি কনফার্মেশন এসএমএস পাবেন।
সাধারণ ভুল ও সতর্কতা
শিক্ষার্থীরা আবেদনের সময় ছোটখাটো কিছু ভুল করে, যার খেসারত দিতে হয় পরে। যেমন:
- ছবিতে ভুল: অনেক সময় সাইবার ক্যাফের লোকেরা অন্যের ছবি বা অস্পষ্ট ছবি আপলোড করে দেয়। এটা করলে ভর্তি বাতিল হতে পারে।
- কোটা নির্বাচন: আপনার যদি মুক্তিযোদ্ধা বা অন্য কোনো কোটা না থাকে, তবে ভুলেও কোটা অপশন সিলেক্ট করবেন না। কারণ ভর্তির সময় কোটার সপক্ষে প্রমাণ দেখাতে না পারলে আপনার সাধারণ সিটটিও বাতিল হবে।
- দ্বৈত ভর্তি: আগে কোনো কোর্সে ভর্তি থাকলে তা বাতিল না করে নতুন করে ভর্তি হবেন না। এটা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের পরিপন্থী।
শিক্ষার্থীদের সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
১. মাস্টার্স ভর্তির আবেদন কবে শুরু?
উত্তর: আগামী ২২ জানুয়ারি ২০২৬, বিকাল ৪টা থেকে আবেদন শুরু হবে।
২. আবেদন ফি কত টাকা?
উত্তর: প্রাথমিক আবেদন ফি ১০০০ টাকা, যা সংশ্লিষ্ট কলেজে জমা দিতে হবে।
৩. সিজিপিএ কত থাকলে আবেদন করা যাবে?
উত্তর: অনার্সে ন্যূনতম সিজিপিএ ২.২৫ অথবা সনাতন পদ্ধতিতে ৪৫% নম্বর থাকতে হবে।
৪. ক্লাস কবে শুরু হবে?
উত্তর: আগামী ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ থেকে ক্লাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
উপসংহার: সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়ার উপায়
পরিশেষে বলা যায়, উচ্চশিক্ষার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স ভর্তি বিজ্ঞপ্তি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ। সময়ের কাজ সময়ে করাটাই বুদ্ধিমানের পরিচয়। তাই ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা না করে, হাতে সময় নিয়ে ২২ জানুয়ারির পর পরই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন। কলেজ চয়েস দেওয়ার সময় সতর্ক থাকুন এবং নিজের রেজাল্ট অনুযায়ী কলেজ নির্বাচন করুন।
আরও পড়ুন: মাস্টার্স ফরম ফিলাপ সময় বৃদ্ধি ২০২৬ নতুন নোটিশ
আপনার শিক্ষা জীবন সুন্দর ও সফল হোক। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স ভর্তি বিজ্ঞপ্তি এবং পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে আপনাদের কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করতে পারেন। আমরা চেষ্টা করব সঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তা করার। শুভকামনা সবার জন্য!
