জরুরি বিজ্ঞপ্তি: ২৮ জানুয়ারির মধ্যে ৯ম শ্রেণির বাদপড়া শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন শেষ করার নির্দেশ

শিক্ষা জীবনে প্রতিটি ধাপই গুরুত্বপূর্ণ, তবে মাধ্যমিক পর্যায় বা স্কুল জীবনের ভিত্তি বলা হয় নবম শ্রেণিকে। কারণ এই শ্রেণি থেকেই একজন শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু হয়। ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত যে সকল শিক্ষার্থী নানা কারণে নির্ধারিত সময়ে রেজিস্ট্রেশন করতে পারেনি, তাদের জন্য এক বিশাল সুখবর নিয়ে এসেছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা। বাদপড়া শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে বোর্ড পুনরায় রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ দিয়েছে। তবে হাতে সময় একদমই কম। আগামী ২৮ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যেই এই জরুরি কাজটি শেষ করতে হবে।

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এই নতুন নির্দেশনা, ৯ম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন, সময়সীমা, ১০ম শ্রেণির টিসি (TC) প্রক্রিয়া এবং রেজিস্ট্রেশন মিস করলে কী ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। আপনি যদি একজন অভিভাবক, শিক্ষার্থী বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হয়ে থাকেন, তবে এই লেখাটি আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জরুরি ঘোষণা ৯ম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন ২০২৬

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সম্প্রতি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ জারি করেছে। গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি ২০২৬), ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক ড. মাসুদ রানা খান স্বাক্ষরিত একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত এবং ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী যেসব শিক্ষার্থী এখনো রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারেনি, তাদের অবিলম্বে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে এবং তা চলবে আগামী ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত। অর্থাৎ, হাতে মাত্র কয়েকদিন সময় বাকি। এই সময়ের মধ্যে অনলাইনে শিক্ষার্থীদের তথ্য আপলোড এবং ফি জমা দেওয়ার কাজটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেষ করতে হবে। এটি মূলত সেই সব শিক্ষার্থীদের জন্য শেষ সুযোগ যারা অসুস্থতা, পারিবারিক সমস্যা বা অন্য কোনো কারণে মূল সময়সীমায় রেজিস্ট্রেশন করতে ব্যর্থ হয়েছিল।

সময়সীমা ও নিয়মানুবর্তিতা

শিক্ষা বোর্ড অত্যন্ত কঠোরভাবে জানিয়েছে যে, নির্ধারিত সময়সীমা অর্থাৎ ২৮ জানুয়ারির পর আর কোনোভাবেই সময় বাড়ানো হবে না। শিক্ষা ব্যবস্থার শৃঙ্খলার স্বার্থে বোর্ড এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অনেক সময় দেখা যায়, অভিভাবক বা শিক্ষার্থীরা শেষ দিনের অপেক্ষায় থাকেন, যা পরবর্তীতে সার্ভার জটিলতা বা অন্যান্য প্রযুক্তিগত সমস্যার সৃষ্টি করে। তাই Online Registration এর কাজ শেষ দিনের জন্য ফেলে না রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এই সময়সীমার মধ্যে যদি কোনো যোগ্য শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন থেকে বাদ পড়ে, তবে তার সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে বহন করতে হবে। এটি স্কুল কর্তৃপক্ষের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। তাই স্কুলগুলোকে তাদের নিজস্ব ডাটাবেজ চেক করে দেখতে হবে কোনো শিক্ষার্থী বাদ পড়েছে কি না।

আরও পড়ুনঃ BUP Admission Result 2026 ও ফলাফল দেখার নিয়ম

কারা এই সুযোগ পাবেন?

এই বিশেষ সুযোগটি মূলত দুটি ক্যাটাগরির শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য:

১. বাদপড়া শিক্ষার্থী: যারা ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল কিন্তু যথাসময়ে রেজিস্ট্রেশন ফরম পূরণ করেনি বা ফি জমা দেয়নি। ২. টিসি (TC) বা ছাড়পত্রধারী শিক্ষার্থী: যারা অন্য কোনো বোর্ড বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ছাড়পত্র (Transfer Certificate) নিয়ে ঢাকা বোর্ডের আওতাধীন কোনো স্কুলে ভর্তি হয়েছে, তাদেরও এই একই সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে।

মনে রাখবেন, এটিই সম্ভবত শেষ সুযোগ। এরপর আর কোনো সময় বৃদ্ধি করা হবে না বলে বোর্ড স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে।

১০ম শ্রেণির টিসি এবং ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য

শুধু নবম শ্রেণি নয়, ঢাকা বোর্ড ২০২৫ সালে (২০২৪–২০২৫ শিক্ষাবর্ষে) দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে। দশম শ্রেণিতে যারা বিদ্যালয় পরিবর্তন করতে চায় বা ছাড়পত্র (TC) গ্রহণ করতে চায়, তাদের জন্যও সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় পরিবর্তন বা ছাড়পত্র গ্রহণের জন্য অনলাইনে আবেদন করার শেষ তারিখও আগামী ২৮ জানুয়ারি। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের পর কোনো অবস্থায় বিদ্যালয় পরিবর্তন বা ছাড়পত্র গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে না। তাই যে সকল শিক্ষার্থী স্কুল পরিবর্তন করতে ইচ্ছুক, তাদের এবং তাদের অভিভাবকদের এই সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ করতে হবে। এটি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

অনলাইন রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় সতর্কতা

Online Registration প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল এবং এটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়। অভিভাবক হিসেবে আপনার কিছু দায়িত্ব রয়েছে যাতে আপনার সন্তানের রেজিস্ট্রেশনে কোনো ভুল না হয়। রেজিস্ট্রেশনের সময় নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি:

  • নামের বানান: শিক্ষার্থীর নাম, পিতার নাম এবং মাতার নাম ইংরেজি বড় অক্ষরে (Block Letters) সঠিকভাবে লেখা হয়েছে কি না তা যাচাই করুন। জন্ম নিবন্ধন বা জেএসসি/পিইসি সনদের সাথে মিল থাকা আবশ্যক।

  • জন্ম তারিখ: জন্ম তারিখ সঠিকভাবে এন্ট্রি দেওয়া হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করুন।

  • বিষয় কোড: শিক্ষার্থী বিজ্ঞান, মানবিক না ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় পড়ছে এবং তার চতুর্থ বিষয় (Optional Subject) কী, তা সঠিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে কি না দেখুন।

  • ছবি ও স্বাক্ষর: সাম্প্রতিক তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি এবং পরিষ্কার স্বাক্ষর আপলোড করতে হবে।

প্রতিষ্ঠান প্রধানরা সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি জমা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন নিশ্চিত করবেন। ফাইনাল সাবমিশনের আগে অবশ্যই একটি ড্রাফট কপি বা খসড়া কপি প্রিন্ট করে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীকে দিয়ে যাচাই করে নেওয়া উচিত। এতে ভুলের সম্ভাবনা শূন্যের কোঠায় নেমে আসে।

রেজিস্ট্রেশন না হলে কী ক্ষতি হতে পারে?

রেজিস্ট্রেশন হলো একজন শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক স্তরের পড়াশোনার বৈধতা। এটি ছাড়া কোনোভাবেই একজন শিক্ষার্থী ২০২৬ সালের SSC Exam বা এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। রেজিস্ট্রেশন কার্ড হলো পরীক্ষার প্রবেশপত্র বা এডমিট কার্ড পাওয়ার পূর্বশর্ত।

যদি কোনো শিক্ষার্থী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করতে ব্যর্থ হয়, তবে:

  • সে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না।

  • তার একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হবে।

  • পরবর্তী বছরে তাকে আবার নতুন করে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে বা অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করতে হতে পারে, যা মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতির কারণ।

  • সামাজিকভাবে শিক্ষার্থী হেয় প্রতিপন্ন হতে পারে এবং পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের দায়িত্ব

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। যেহেতু বাদপড়া শিক্ষার্থীদের দায়ভার প্রধান শিক্ষকদের ওপর বর্তাবে, তাই তাদের উচিত প্রতিটি শ্রেণির হাজিরা খাতা এবং ভর্তির রেকর্ড মিলিয়ে দেখা। কোনো শিক্ষার্থী ক্লাসে নিয়মিত আসছে কিন্তু রেজিস্ট্রেশন তালিকায় নাম নেই—এমন ঘটনা যেন না ঘটে। এছাড়া টিসি নিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের কাগজপত্র দ্রুত যাচাই করে তাদের নামও অনলাইনে এন্ট্রি দিতে হবে।

বোর্ডের সার্ভারে ঢোকার পাসওয়ার্ড এবং ইউজার আইডি অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে ব্যবহার করতে হবে এবং অভিজ্ঞ কম্পিউটার অপারেটর বা শিক্ষক দিয়ে এই ডাটা এন্ট্রির কাজ করাতে হবে।

প্রিয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ, সময় এবং স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। শিক্ষা জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সামান্য অবহেলা বড় বিপদের কারণ হতে পারে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড যে সুযোগ দিয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যেই নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন এবং দশম শ্রেণির টিসি সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করুন। শেষ দিনের অপেক্ষায় না থেকে আজই আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করুন এবং নিশ্চিত হোন যে আপনার সন্তানের নামটি সঠিকভাবে বোর্ডে নিবন্ধিত হয়েছে।

আপনার সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি। শিক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো প্রয়োজনে আমরা আছি আপনার পাশে।

ইসাবেলা ক্লার্ক একজন কনটেন্ট রাইটার ও ব্লগার, বর্তমানে বার্মিংহামে বসবাস করছেন। তিনি শিক্ষা, তথ্যভিত্তিক ও ডিজিটাল বিষয় নিয়ে সহজ, পরিষ্কার ও পাঠকবান্ধব লেখা তৈরি করেন। জটিল বিষয়কে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা এবং পাঠকের কাজে লাগে এমন মানসম্মত কনটেন্ট দেওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Comment