পবিত্র রমজান মাস ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের বার্তা নিয়ে আসে। ২০২৬ সালেও ঢাকার মুসলিমরা এই মাসটি পালনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সঠিক সময়ে সেহরি ও ইফতার করা রোজার একটি অপরিহার্য অংশ। তাই নির্ভুল সময়সূচি জানা প্রতিটি রোজাদারের জন্য খুবই জরুরি। আমরা ঢাকা শহর এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ২০২৬ সালের পবিত্র রমজান মাসের বিস্তারিত সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি নিয়ে এসেছি। এই ইমসাকিয়া ক্যালেন্ডারটি আরবি ১৪৪৭ হিজরি সনের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি করা হয়েছে।
রমজানের তাৎপর্য ও সময়সূচির গুরুত্ব
রমজান মাস কুরআন নাযিলের মাস। এই মাসে প্রতিটি মুসলিমের জন্য ফরজ রোজা রাখা এবং ইবাদত-বন্দেগিতে মনোনিবেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোজা রাখার জন্য সঠিক সময়ে সেহরি খাওয়া এবং সঠিক সময়ে ইফতার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল সময়সূচি অনুসরণ করলে রোজা ভঙ্গ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই একটি নির্ভরযোগ্য সময়সূচি, যা আপনার এলাকার ভৌগোলিক অবস্থানের সঙ্গে মানানসই, তা অনুসরণ করা জরুরি। ঢাকার জন্য নির্ধারিত এই সময়সূচিটি ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের নির্দেশিকা এবং সঠিক গণনা পদ্ধতি অনুসরণ করে তৈরি, ইনশাআল্লাহ।
২০২৬ রমজান মাসের সম্ভাব্য শুরু ও শেষ তারিখ
চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে রমজানের শুরু ও শেষ তারিখ নির্ধারিত হয়। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানসম্মত হিসাব অনুযায়ী, ধারণা করা হচ্ছে ২০২৬ সালে পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) থেকে। এই হিসেবে ২৯ দিনে রমজান মাস শেষ হয়ে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে ২০ মার্চ ২০২৬ (শুক্রবার) অথবা চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ২১ মার্চ ২০২৬ (শনিবার)। তবে তারিখগুলো নিশ্চিত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘোষণার অপেক্ষা করা উচিত।
আরও পড়ুনঃসৌদি আরব দাম্মাম রমজানের সময়সূচি ২০২৬ ক্যালেন্ডার
সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬ ঢাকা (ইমসাকিয়া)
নিচে ঢাকা মহানগরীর জন্য ২০২৬ সালের রমজান মাসের (সম্ভাব্য তারিখ অনুযায়ী) দৈনিক সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি দেওয়া হলো। প্রতিদিনের সেহরির শেষ সময় মানে হলো ফজরের আজান শুরু হওয়ার পূর্ব মুহূর্ত। ইফতারের সময় মাগরিবের আজানের সময়।
প্রথম পর্ব: ১ থেকে ১৫ রমজান ১৪৪৭ হিজরি
| তারিখ (ইংরেজি) | বার | রমজান | ফজর / সেহরির শেষ | সূর্যোদয় | যোহর | আসর | মাগরিব / ইফতার | এশা | তাহাজ্জুদ |
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| ফেব্রুয়ারি ১৯ | বৃহস্পতি | ১ | ০৫:১৩ | ০৬:২৯ | ১২:১২ | ১৬:১৯ | ১৭:৫৬ | ১৯:১২ | ০১:২৭ |
| ফেব্রুয়ারি ২০ | শুক্র | ২ | ০৫:১২ | ০৬:২৮ | ১২:১২ | ১৬:১৯ | ১৭:৫৭ | ১৯:১২ | ০১:২৭ |
| ফেব্রুয়ারি ২১ | শনি | ৩ | ০৫:১২ | ০৬:২৭ | ১২:১২ | ১৬:২০ | ১৭:৫৭ | ১৯:১৩ | ০১:২৭ |
| ফেব্রুয়ারি ২২ | রবি | ৪ | ০৫:১১ | ০৬:২৬ | ১২:১২ | ১৬:২০ | ১৭:৫৮ | ১৯:১৩ | ০১:২৬ |
| ফেব্রুয়ারি ২৩ | সোম | ৫ | ০৫:১০ | ০৬:২৬ | ১২:১২ | ১৬:২১ | ১৭:৫৮ | ১৯:১৪ | ০১:২৬ |
| ফেব্রুয়ারি ২৪ | মঙ্গল | ৬ | ০৫:০৯ | ০৬:২৫ | ১২:১২ | ১৬:২১ | ১৭:৫৯ | ১৯:১৪ | ০১:২৫ |
| ফেব্রুয়ারি ২৫ | বুধ | ৭ | ০৫:০৯ | ০৬:২৪ | ১২:১১ | ১৬:২২ | ১৭:৫৯ | ১৯:১৫ | ০১:২৫ |
| ফেব্রুয়ারি ২৬ | বৃহস্পতি | ৮ | ০৫:০৮ | ০৬:২৩ | ১২:১১ | ১৬:২২ | ১৮:০০ | ১৯:১৫ | ০১:২৫ |
| ফেব্রুয়ারি ২৭ | শুক্র | ৯ | ০৫:০৭ | ০৬:২২ | ১২:১১ | ১৬:২২ | ১৮:০০ | ১৯:১৫ | ০১:২৪ |
| ফেব্রুয়ারি ২৮ | শনি | ১০ | ০৫:০৬ | ০৬:২২ | ১২:১১ | ১৬:২৩ | ১৮:০১ | ১৯:১৬ | ০১:২৪ |
| মার্চ ১ | রবি | ১১ | ০৫:০৫ | ০৬:২১ | ১২:১১ | ১৬:২৩ | ১৮:০১ | ১৯:১৬ | ০১:২৩ |
| মার্চ ২ | সোম | ১২ | ০৫:০৫ | ০৬:২০ | ১২:১১ | ১৬:২৩ | ১৮:০২ | ১৯:১৭ | ০১:২৪ |
| মার্চ ৩ | মঙ্গল | ১৩ | ০৫:০৪ | ০৬:১৯ | ১২:১০ | ১৬:২৪ | ১৮:০২ | ১৯:১৭ | ০১:২৩ |
| মার্চ ৪ | বুধ | ১৪ | ০৫:০৩ | ০৬:১৮ | ১২:১০ | ১৬:২৪ | ১৮:০৩ | ১৯:১৮ | ০১:২৩ |
| মার্চ ৫ | বৃহস্পতি | ১৫ | ০৫:০২ | ০৬:১৭ | ১২:১০ | ১৬:২৪ | ১৮:০৩ | ১৯:১৮ | ০১:২২ |
দ্বিতীয় পর্ব: ১৬ থেকে ২৯/৩০ রমজান ১৪৪৭ হিজরি
| তারিখ (ইংরেজি) | বার | রমজান | ফজর / সেহরির শেষ | সূর্যোদয় | যোহর | আসর | মাগরিব / ইফতার | এশা | তাহাজ্জুদ |
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| মার্চ ৬ | শুক্র | ১৬ | ০৫:০১ | ০৬:১৬ | ১২:১০ | ১৬:২৫ | ১৮:০৩ | ১৯:১৯ | ০১:২১ |
| মার্চ ৭ | শনি | ১৭ | ০৫:০০ | ০৬:১৫ | ১২:০৯ | ১৬:২৫ | ১৮:০৪ | ১৯:১৯ | ০১:২১ |
| মার্চ ৮ | রবি | ১৮ | ০৪:৫৯ | ০৬:১৪ | ১২:০৯ | ১৬:২৫ | ১৮:০৪ | ১৯:১৯ | ০১:২০ |
| মার্চ ৯ | সোম | ১৯ | ০৪:৫৮ | ০৬:১৩ | ১২:০৯ | ১৬:২৫ | ১৮:০৫ | ১৯:২০ | ০১:২০ |
| মার্চ ১০ | মঙ্গল | ২০ | ০৪:৫৭ | ০৬:১২ | ১২:০৯ | ১৬:২৬ | ১৮:০৫ | ১৯:২০ | ০১:১৯ |
| মার্চ ১১ | বুধ | ২১ | ০৪:৫৭ | ০৬:১২ | ১২:০৮ | ১৬:২৬ | ১৮:০৬ | ১৯:২১ | ০১:২০ |
| মার্চ ১২ | বৃহস্পতি | ২২ | ০৪:৫৬ | ০৬:১১ | ১২:০৮ | ১৬:২৬ | ১৮:০৬ | ১৯:২১ | ০১:১৯ |
| মার্চ ১৩ | শুক্র | ২৩ | ০৪:৫৫ | ০৬:১০ | ১২:০৮ | ১৬:২৬ | ১৮:০৭ | ১৯:২২ | ০১:১৯ |
| মার্চ ১৪ | শনি | ২৪ | ০৪:৫৪ | ০৬:০৯ | ১২:০৮ | ১৬:২৭ | ১৮:০৭ | ১৯:২২ | ০১:১৮ |
| মার্চ ১৫ | রবি | ২৫ | ০৪:৫৩ | ০৬:০৮ | ১২:০৭ | ১৬:২৭ | ১৮:০৭ | ১৯:২২ | ০১:১৭ |
| মার্চ ১৬ | সোম | ২৬ | ০৪:৫২ | ০৬:০৭ | ১২:০৭ | ১৬:২৭ | ১৮:০৮ | ১৯:২৩ | ০১:১৭ |
| মার্চ ১৭ | মঙ্গল | ২৭ | ০৪:৫১ | ০৬:০৬ | ১২:০৭ | ১৬:২৭ | ১৮:০৮ | ১৯:২৩ | ০১:১৬ |
| মার্চ ১৮ | বুধ | ২৮ | ০৪:৫০ | ০৬:০৫ | ১২:০৬ | ১৬:২৭ | ১৮:০৯ | ১৯:২৪ | ০১:১৬ |
| মার্চ ১৯ | বৃহস্পতি | ২৯ | ০৪:৪৯ | ০৬:০৪ | ১২:০৬ | ১৬:২৮ | ১৮:০৯ | ১৯:২৪ | ০১:১৫ |
দ্রষ্টব্য: সেহরির শেষ সময় মানে ফজরের আজান শুরু হওয়ার সময়। ইফতারের সময় মাগরিবের আজানের সময়। তাহাজ্জুদের সময় রাতের শেষ প্রহরে নামাজের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় নির্দেশ করে। আপনার এলাকার স্থানীয় সময়ের সাথে মিলিয়ে নেওয়া ভালো।
সেহরি ও ইফতারে করণীয়
সেহরি হলো রোজা রাখার জন্য শেষ রাতে খাবার গ্রহণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) সেহরি খাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এতে বরকত রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। সেহরিতে হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত, যা সারাদিন শরীরে শক্তি যোগাবে। অন্যদিকে, ইফতার হলো দ্রুত ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে রোজা ভাঙা। খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করা সুন্নত। ইফতারের পর পরই মাগরিবের নামাজ আদায় করা উচিত। প্রচলিত ভাজাপোড়া ও ভারী খাবারের পরিবর্তে পানি, ফলমূল ও হালকা খাবার দিয়ে ইফতার করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
রমজানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও তারাবিহ
রমজান মাসে ফরজ নামাজের পাশাপাশি তারাবিহ নামাজের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। এছাড়াও তাহাজ্জুদ নামাজের সময়টি টেবিলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা শেষ রাতে সেহরির আগে পড়া হয়। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে গিয়ে জামাতের সাথে পড়ার চেষ্টা করুন। কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও দান-খয়রাতের মাধ্যমে সময় কাটানো রমজানের শিক্ষা।
প্রশ্ন ১: এই সময়সূচি কি ঢাকার বাইরের জন্যও প্রযোজ্য?
উত্তর: এই সময়সূচি মূলত ঢাকা শহর এবং এর খুব কাছাকাছি এলাকার জন্য নির্ধারিত। ঢাকার বাইরের জেলা যেমন চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় কয়েক মিনিটের জন্য ভিন্ন হতে পারে। তাই নিজ নিজ জেলার স্থানীয় সময়সূচি অনুসরণ করা শ্রেয়।
প্রশ্ন ২: টেবিলে তাহাজ্জুদের সময় কেন দেওয়া আছে?
উত্তর: তাহাজ্জুদের সময় রাতের শেষ প্রহর নির্দেশ করে। এই সময় দোয়া কবুল হয় এবং অনেকে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়েন। সেহরির আগের এই সময়টুকু ইবাদতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই সময়সূচিতে যোগ করা হয়েছে।
প্রশ্ন ৩: সেহরির শেষ সময় আর ফজরের আজান কি একই?
উত্তর: হ্যাঁ, উপরোক্ত টেবিলে সেহরির শেষ সময় বলতে ফজরের আজান শুরুর সময়কে বোঝানো হয়েছে। এই সময়ের আগেই সেহরি শেষ করতে হবে। আজান শুরু হয়ে গেলে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেওয়া wajib.
রমজান মাস আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময়। সঠিক নিয়ম ও সময় মেনে রোজা রাখা আমাদের দায়িত্ব। ঢাকাবাসী মুসলিমদের জন্য ২০২৬ সালের এই ইমসাকিয়া ক্যালেন্ডারটি যেন সঠিকভাবে সেহরি ও ইফতার করতে সহায়তা করে। সময়সূচিটি সংরক্ষণ করে রাখুন এবং আপনার প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করুন। আল্লাহ পাক সকলের রোজা, নামাজ ও ইবাদত কবুল করুন এবং এই রমজানকে প্রতিটি মুসলিমের জন্য বরকতময় করুন। ঈদ-উল-ফিতরের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক।
আরও পড়ুনঃরমজানের সময় সূচি 2026 ইসলামিক ফাউন্ডেশন ঢাকা বিভাগ



