সমাজ কাকে বলে ? সমাজের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য ও প্রকারভেদ

সৃষ্টির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত মানুষের জীবন পরিক্রমা পর্যবেক্ষণ করলে একটি বিষয় দিবালোকের মতো পরিষ্কার হয়ে ওঠে, আর তা হলো মানুষের সমাজবদ্ধতা। গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল হাজার বছর আগেই বলে গেছেন যে মানুষ জন্মগতভাবেই সামাজিক জীব। একা থাকা মানুষের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। কারণ আমাদের জৈবিক, সামাজিক এবং মানসিক প্রয়োজনেই আমরা একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। এই যে একদল মানুষ একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে একে অন্যের সাথে মিলেমিশে বসবাস করছে, এই সামগ্রিক রূপটিই মূলত সমাজ। তবে বর্তমান যুগে দাঁড়িয়ে যখন আমরা সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে দেখি, তখন প্রশ্ন জাগে যে আসলে সমাজ কাকে বলে এবং কেন আমরা সমাজ ছাড়া চলতে পারি না।

সমাজ হলো এক অদৃশ্য সুতো যা একদল মানুষকে একটি অভিন্ন পরিচয়ে আবদ্ধ করে রাখে। মানুষ যখন দলবদ্ধ হয়, তখন সেখানে নিয়ম-নীতি, সংস্কৃতি এবং পারস্পরিক সহমর্মিতা তৈরি হয়। একটি সুন্দর সমাজ একজন মানুষকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। আজকের এই দ্রুত পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে আমরা আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও আমাদের যূথবদ্ধ জীবনের প্রয়োজনীয়তা মোটেও ফুরিয়ে যায়নি। তাই একটি মানবিক ও সুশৃঙ্খল পৃথিবী গড়তে হলে আমাদের সামাজিক কাঠামোর ভিত্তি সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা প্রয়োজন। চলুন এই আলোচনার মাধ্যমে আমরা সমাজের গভীর থেকে গভীরে প্রবেশ করি।

সমাজ কাকে বলে? সংজ্ঞা ও তাত্ত্বিক ধারণা

সাধারণ ভাষায় বলতে গেলে, যখন অনেকগুলো মানুষ একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সাধারণ কোনো উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে একত্রিত হয়ে বসবাস করে এবং তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তখন তাকে সমাজ বলা হয়। তবে সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় এর সংজ্ঞা আরও গভীর। আপনি যদি জানতে চান সমাজ কাকে বলে, তবে আপনাকে বুঝতে হবে যে এটি শুধুমাত্র একদল মানুষের সমাবেশ নয়। বরং এটি হলো মানুষের মধ্যে বিদ্যমান জটিল সম্পর্কের একটি জাল। সমাজবিজ্ঞানী আর এম ম্যাকাইভার এবং চার্লস এইচ পেজ-এর মতে, সমাজ হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে বিভিন্ন গোষ্ঠী ও উপ-গোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং নিয়ন্ত্রণের এক বহুমাত্রিক সম্পর্ক বজায় থাকে।

আরেকজন প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী অগবার্ন এবং নিমকফ মনে করেন, সমাজ হলো এমন এক স্থায়ী জনসমষ্টি যারা একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাস করে এবং যাদের একটি নিজস্ব জীবনধারা বা সংস্কৃতি রয়েছে। অর্থাৎ সমাজ হওয়ার জন্য দুটি বিষয় খুব জরুরি—একটি হলো জনসমষ্টি এবং অন্যটি হলো তাদের মধ্যকার সামাজিক সম্পর্ক। রাস্তার মোড়ে জমে থাকা কোনো ভিড়কে আমরা সমাজ বলতে পারি না, কারণ তাদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক বা অভিন্ন উদ্দেশ্য থাকে না। কিন্তু একটি গ্রামের মানুষ বা একটি সংগঠনের সদস্যরা যখন একে অন্যের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ায় এবং সাধারণ নিয়ম মেনে চলে, তখনই সেটি সমাজে রূপান্তরিত হয়। সমাজ হলো এক বিমূর্ত ধারণা যা চোখে দেখা যায় না কিন্তু মানুষের আচরণের মাধ্যমে অনুভব করা যায়।

সমাজের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ

সমাজকে অন্য যেকোনো মানবিক সংগঠন থেকে আলাদা করার জন্য এর কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এই বৈশিষ্ট্যগুলোই নির্ধারণ করে যে একটি জনসমষ্টি সফলভাবে সমাজ হিসেবে টিকে থাকতে পারবে কি না। নিচে সমাজের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরা হলো:

  • বহুলোকের উপস্থিতি: সমাজ হতে হলে অবশ্যই অনেকগুলো মানুষের সমষ্টি থাকতে হবে। একজন মানুষ দিয়ে কখনো সমাজ গঠিত হয় না। মানুষের এই সমাবেশই সমাজের বাহ্যিক রূপ তৈরি করে।
  • সাধারণ উদ্দেশ্য: সমাজের প্রতিটি সদস্যের মধ্যে এক বা একাধিক সাধারণ উদ্দেশ্য থাকে। এটি হতে পারে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, খাদ্য সংস্থান করা অথবা সাংস্কৃতিক চর্চা বজায় রাখা। এই উদ্দেশ্যের মিলই মানুষকে একতাবদ্ধ রাখে।
  • পারস্পরিক সচেতনতা: সমাজের সদস্যদের মধ্যে একে অন্যের প্রতি সচেতনতা থাকতে হয়। একজন মানুষের কাজ অন্যজনকে কীভাবে প্রভাবিত করছে বা সমাজের ওপর তার কী প্রভাব পড়ছে, সেই বোধ থাকা জরুরি।
  • স্থায়িত্ব: সমাজ কোনো সাময়িক বিষয় নয়। এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একটি সমাজ তার নিজস্ব রীতিনীতি ও ঐতিহ্য বহন করে চলে।
  • সহযোগিতা ও সংহতি: সমাজের ভিত্তি হলো পারস্পরিক সহযোগিতা। একে অন্যকে সাহায্য করার মানসিকতা না থাকলে সমাজ ভেঙে পড়ে। সদস্যদের মধ্যে এই একাত্মবোধ বা সংহতিই সমাজকে শক্তিশালী করে।
  • বিমূর্ত প্রকৃতি: সমাজ কোনো বস্তু নয় যা ধরা বা ছোঁয়া যায়। এটি মূলত মানুষের আচরণের ধরন এবং সম্পর্কের একটি সমষ্টি। এই বিমূর্ত সম্পর্কের কারণেই সমাজ এত বৈচিত্র্যময় হয়।
  • পরিবর্তনশীলতা: সমাজ সবসময় এক জায়গায় স্থির থাকে না। মানুষের চাহিদা এবং সভ্যতার পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজের রূপও বদলে যায়। আদিম সমাজ আর আধুনিক শিল্প সমাজের মধ্যে যে বিশাল পার্থক্য, তা এই পরিবর্তনশীলতারই ফল।

আরও পড়ূনঃ আদিবাসী কাকে বলে? আদিবাসী সমাজের পূর্ণাঙ্গ ধারণা (২০২৬)

সমাজের প্রকারভেদ: আদিম থেকে আধুনিক

মানব সভ্যতার বিবর্তনের সাথে সাথে সমাজের রূপ এবং কাঠামোতে বিশাল পরিবর্তন এসেছে। আদিম মানুষের জীবনযাত্রা থেকে শুরু করে আজকের তথ্য-প্রযুক্তির এই আধুনিক কাল পর্যন্ত সমাজকে বিভিন্ন স্তরে ভাগ করা যায়। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং জীবিকার ধরন অনুযায়ী সমাজের প্রধান প্রকারভেদগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

শিকার ও খাদ্য সংগ্রহকারী সমাজ

এটি হলো মানব ইতিহাসের প্রাচীনতম সমাজ ব্যবস্থা। এই সমাজে মানুষ মূলত বনের ফলমূল সংগ্রহ এবং পশু শিকার করে জীবন ধারণ করত। তাদের কোনো স্থায়ী আবাসস্থল ছিল না এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তির ধারণাও ছিল না। এই সমাজের মানুষেরা প্রকৃতিকে দেবতা মনে করত এবং গোত্রের সবাই মিলেমিশে কাজ করত।

পশুপালন ভিত্তিক সমাজ

পশু শিকার করার বদলে যখন মানুষ পশু পালন করতে শিখল, তখন পশুপালন ভিত্তিক সমাজের উৎপত্তি হয়। এই সমাজে যাযাবর জীবন থেকে কিছুটা স্থিতিশীলতার দিকে মানুষ এগোতে থাকে। পশুর দুধ ও মাংসের ওপর ভিত্তি করেই তাদের অর্থনীতি গড়ে উঠেছিল।

উদ্যান কৃষিভিত্তিক সমাজ

এই স্তরে মানুষ পাথর বা কাঠের যন্ত্র দিয়ে ছোট ছোট জমিতে চাষাবাদ শুরু করে। কৃষিকাজের প্রাথমিক এই স্তরটি সমাজ জীবনে বড় পরিবর্তন আনে। মানুষ প্রথমবারের মতো স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করতে শুরু করে।

কৃষিভিত্তিক সমাজ

লাঙ্গলের আবিষ্কার কৃষিভিত্তিক সমাজের সূচনা করে। এটি মানব ইতিহাসে এক বিশাল বিপ্লব ছিল। বড় বড় জমিতে চাষাবাদ শুরু হওয়ায় উদ্বৃত্ত খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হয় এবং এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও নগর সভ্যতার বিকাশ ঘটে। এই সমাজে ভূমি মালিকানা এবং শ্রেণী বৈষম্যের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

শিল্প সমাজ

অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইউরোপে শিল্প বিপ্লবের ফলে এই সমাজের জন্ম হয়। কায়িক পরিশ্রমের বদলে যন্ত্রের ব্যবহার শুরু হয়। মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে এবং বড় বড় শিল্প শহর গড়ে ওঠে। এই সমাজে শিক্ষার হার বাড়ে এবং পুঁজিবাদের বিকাশ ঘটে।

উত্তর-শিল্প বা আধুনিক সমাজ

বর্তমান বিশ্বকে উত্তর-শিল্প সমাজ বা তথ্য-প্রযুক্তির সমাজ বলা হয়। এখানে পেশির শক্তির চেয়ে মেধার গুরুত্ব বেশি। কম্পিউটার, ইন্টারনেট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই সমাজের মূল চালিকাশক্তি। এই সমাজে মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক এখন আর কেবল ভৌগোলিক সীমানায় আবদ্ধ নেই, বরং তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে।

সমাজের বিবর্তন ও পার্থক্যের তুলনামূলক তালিকা

সমাজের ধরনপ্রধান জীবিকাজীবনযাত্রার ধরন
শিকারভিত্তিক সমাজশিকার ও ফলমূল সংগ্রহযাযাবর ও সহজ-সরল
পশুপালন সমাজপশু পালনকিছুটা যাযাবর
কৃষিভিত্তিক সমাজচাষাবাদ ও জমিদারিস্থায়ী বসতি ও গ্রামপ্রধান
শিল্প সমাজশিল্প উৎপাদন ও চাকরিশহরকেন্দ্রিক ও আধুনিক
উত্তর-শিল্প সমাজতথ্য ও প্রযুক্তি সেবাবিশ্বায়ন ও মেধাতান্ত্রিক

সমাজ জীবনের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

সমাজ কেন আমাদের জন্য অপরিহার্য, তা বুঝতে হলে মানুষের মৌলিক চাহিদার দিকে তাকাতে হবে। মানুষ যখন জন্মায়, তখন সে অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় থাকে। পরিবার এবং সমাজই তাকে নিরাপত্তা দিয়ে বড় করে তোলে। সমাজ জীবনের সবচেয়ে বড় গুরুত্ব হলো নিরাপত্তা। বন্য প্রাণী বা প্রতিকূল পরিবেশ থেকে বাঁচতে মানুষ একসময় জোটবদ্ধ হয়েছিল, যা আজও রাষ্ট্রের বড় কাঠামোর মাধ্যমে টিকে আছে। কিন্তু আধুনিক যুগে সমাজের প্রয়োজনীয়তা শুধুমাত্র নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আমাদের শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং নৈতিক মূল্যবোধ অর্জনের প্রধান কেন্দ্র হলো সমাজ। সমাজ ছাড়া একজন মানুষের পূর্ণাঙ্গ বিকাশ সম্ভব নয়।

ব্যক্তিত্ব বিকাশে সমাজের ভূমিকা অনস্বীকার্য। একজন শিশু সমাজে বেড়ে ওঠার সময় তার চারপাশের মানুষের আচার-ব্যবহার, ভাষা এবং আদর্শ রপ্ত করে। একে সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় সামাজিকীকরণ বলা হয়। সমাজ আমাদের শেখায় কীভাবে অন্যের অধিকারকে সম্মান করতে হয় এবং কীভাবে বিপদে একে অন্যের পাশে দাঁড়াতে হয়। এছাড়াও শ্রম বিভাজনের মাধ্যমে সমাজ আমাদের জীবনকে সহজ করে দেয়। সমাজের কেউ কৃষক, কেউ ডাক্তার, কেউ বা ইঞ্জিনিয়ার—এই যে একে অন্যের ওপর নির্ভরতা, এটিই আমাদের জীবনকে গতিশীল রাখে। তাই সমাজ কাকে বলে তা জানার পর আমরা বুঝতে পারি যে সমাজ ছাড়া মানুষের অস্তিত্ব কল্পনা করা অসম্ভব।

সমাজ ও সম্প্রদায়ের মধ্যে পার্থক্য

অনেক সময় আমরা সমাজ এবং সম্প্রদায় শব্দ দুটিকে একই অর্থে ব্যবহার করি, কিন্তু সমাজবিজ্ঞানে এদের মধ্যে পরিষ্কার পার্থক্য বিদ্যমান। সমাজ একটি অত্যন্ত ব্যাপক ও বিমূর্ত ধারণা। এটি কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় আবদ্ধ নয়। আপনি ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষের সাথে একটি ভার্চুয়াল সমাজ গড়ে তুলতে পারেন। কিন্তু সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা। সম্প্রদায় সাধারণত একটি নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাসকারী জনসমষ্টিকে বোঝায়, যাদের মধ্যে খুব গভীর ও নিবিড় সম্পর্ক থাকে। যেমন—একটি গ্রামের সম্প্রদায় কিংবা একটি নির্দিষ্ট পেশাজীবী সম্প্রদায়।

আরও পড়ুনঃ অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের দেশ কয়টি? দেশ ও রাজধানীর তালিকা ২০২৬

নিচে সমাজ ও সম্প্রদায়ের মধ্যকার মূল পার্থক্যগুলো আলোচনা করা হলো:

ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা

সমাজের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার প্রয়োজন নেই। কিন্তু সম্প্রদায়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ড বা এলাকা থাকা জরুরি। একটি সম্প্রদায় সবসময় একটি নির্দিষ্ট জায়গায় অবস্থিত থাকে।

সম্পর্কের গভীরতা

সমাজে পারস্পরিক সম্পর্ক অনেক সময় আনুষ্ঠানিক বা যান্ত্রিক হতে পারে। বিশেষ করে আধুনিক শিল্প সমাজে এটি বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতা অনেক বেশি থাকে এবং সেখানে ‘আমরা’ বোধ বা একাত্মতা প্রবল হয়।

স্থায়িত্ব ও বিস্তার

সমাজ একটি বিরামহীন এবং বিশাল প্রক্রিয়া যা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকতে পারে। কিন্তু সম্প্রদায় সাধারণত সমাজের একটি ছোট অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। সম্প্রদায় ভেঙে গেলেও সমাজ টিকে থাকতে পারে, কারণ সমাজ অনেকগুলো গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সমষ্টি।

উপসংহার ও সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

পরিশেষে বলা যায়, সমাজ হলো মানুষের জীবনের দর্পণ। আমাদের প্রতিটি কাজ, চিন্তা এবং স্বপ্ন এই সমাজের মাধ্যমেই প্রতিফলিত হয়। সমাজ কাকে বলে তা বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখি যে এটি শুধুমাত্র মানুষের সমষ্টি নয়, বরং এটি পারস্পরিক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং সহযোগিতার একটি অদৃশ্য বন্ধন। একটি আদর্শ সমাজই পারে একজন মানুষকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে। বর্তমান আধুনিক যুগে সমাজের রূপ বদলে গেলেও এর মূল উদ্দেশ্য—অর্থাৎ মানুষের কল্যাণ সাধন—একই রয়ে গেছে। তাই আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব হলো সমাজ বিরোধী কাজ থেকে দূরে থাকা এবং একটি সুন্দর ও শান্তিময় সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা।

আর্টিকেলের এই পর্যায়ে সমাজ সম্পর্কে কিছু সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো যা আপনার ধারণাকে আরও স্পষ্ট করবে।

সমাজ সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন: সমাজবিজ্ঞানের জনক কে? উত্তর: ফরাসি চিন্তাবিদ অগাস্ট কোঁত-কে সমাজবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।

প্রশ্ন: সমাজ কেন পরিবর্তনশীল? উত্তর: মানুষের চাহিদা, প্রযুক্তি এবং যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের চিন্তা-চেতনার পরিবর্তন ঘটে। আর মানুষের পরিবর্তনের সাথেই সমাজের কাঠামো ও নিয়ম-নীতি পরিবর্তিত হয়।

প্রশ্ন: একটি আদর্শ সমাজের প্রধান শর্ত কী? উত্তর: একটি আদর্শ সমাজের প্রধান শর্ত হলো ন্যায়বিচার, সাম্য এবং পারস্পরিক সহযোগিতা। যেখানে প্রতিটি মানুষের অধিকার সুরক্ষিত থাকে।

প্রশ্ন: ভার্চুয়াল সমাজ বলতে কী বোঝায়? উত্তর: ইন্টারনেটের মাধ্যমে যখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ফেসবুক বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে একে অন্যের সাথে যোগাযোগ ও সম্পর্ক গড়ে তোলে, তখন তাকে ভার্চুয়াল সমাজ বলে।

ইসাবেলা ক্লার্ক একজন কনটেন্ট রাইটার ও ব্লগার, বর্তমানে বার্মিংহামে বসবাস করছেন। তিনি শিক্ষা, তথ্যভিত্তিক ও ডিজিটাল বিষয় নিয়ে সহজ, পরিষ্কার ও পাঠকবান্ধব লেখা তৈরি করেন। জটিল বিষয়কে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা এবং পাঠকের কাজে লাগে এমন মানসম্মত কনটেন্ট দেওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Comment