এসএসসি ফরম ফিলাপ ২০২৬ নিয়ে পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খবর সামনে এসেছে। যারা নানা কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফরম পূরণ করতে পারেননি, তাদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণের সময় আবারও বৃদ্ধি করেছে। শিক্ষা জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো এসএসসি পরীক্ষা, তাই ফরম পূরণের এই শেষ সুযোগটি কোনোভাবেই হাতছাড়া করা উচিত নয়। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের বর্ধিত সময়সীমা, ফি জমা দেওয়ার নিয়ম এবং সদ্য প্রকাশিত পরীক্ষার রুটিন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
যারা এখনো ফরম পূরণ করতে পারেননি, তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়াটাই স্বাভাবিক ছিল। তবে বোর্ডের নতুন সিদ্ধান্তে সেই দুশ্চিন্তা কেটে গেছে। আজ সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ থেকে বিলম্ব ফি প্রদান সাপেক্ষে শিক্ষার্থীরা ফরম পূরণ করতে পারবেন। এই প্রক্রিয়াটি আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলমান থাকবে। অর্থাৎ, হাতে সময় খুব কম। তাই শেষ মুহূর্তের অপেক্ষায় না থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আপনার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করে ফরম পূরণের কাজ সম্পন্ন করা জরুরি। এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা পুরো বিষয়টি ধাপে ধাপে সহজ বাংলায় তুলে ধরব, যাতে আপনার মনে কোনো প্রশ্ন না থাকে।
এসএসসি ফরম ফিলাপ 2026 সময় আবার বাড়ানো হয়েছে

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড গতকাল রোববার (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ফরম পূরণের সময় বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণের সময়সীমা ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো। এটি পরীক্ষার্থীদের জন্য নিঃসন্দেহে একটি স্বস্তির খবর। অনেক সময় পারিবারিক সমস্যা, অসুস্থতা বা আর্থিক কারণে অনেক শিক্ষার্থী সঠিক সময়ে ফরম পূরণ করতে পারে না। বোর্ড তাদের কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ফরম পূরণের ক্ষেত্রে সোনালী সেবার (Sonali Seba) বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি পরিশোধের শেষ তারিখও ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। অর্থাৎ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এই তারিখের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের যাবতীয় ফি ব্যাংকে জমা দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে, এটিই সম্ভবত ফরম পূরণের শেষ সুযোগ। এর পরে আর সময় বাড়ানো না-ও হতে পারে। তাই যারা এখনো এই প্রক্রিয়ার বাইরে আছেন, তাদের আজই উদ্যোগী হতে হবে। বিলম্ব ফি বা Late Fee দিয়ে হলেও পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাওয়াটা এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি।
আরও পড়ুনঃ এসএসসি পরীক্ষায় অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ২০২৬ সঠিক ক্যালকুলেটর তালিকা
কেন বারবার সময় বাড়ানো হচ্ছে?
এসএসসি ফরম ফিলাপ এর সময় বাড়ানোর ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও ঢাকা বোর্ড শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে সময় বাড়িয়েছিল। সাধারণত দেখা যায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করতে পারে না। সার্ভার জটিলতা, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত সমস্যা কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের তথ্য পৌঁছাতে দেরি হওয়া—এমন নানা কারণে কিছু শিক্ষার্থী বাদ পড়ে যায়। যেহেতু এসএসসি পরীক্ষা একজন ছাত্রের জীবনের টার্নিং পয়েন্ট, তাই শিক্ষা বোর্ড চায় না কোনো শিক্ষার্থী শুধুমাত্র ফরম পূরণের অভাবে পরীক্ষা দেওয়া থেকে বঞ্চিত হোক।
তবে বারবার সময় বাড়ানো হলেও শিক্ষার্থীদের ঢিলেমি করা উচিত নয়। শেষ সময়ে সার্ভারে চাপ পড়তে পারে কিংবা ব্যাংকিং জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই ৫ ফেব্রুয়ারি শেষ দিন হলেও, ৩ বা ৪ তারিখের মধ্যেই সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদেরও এ ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতে হবে, যাতে তাদের প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী বাদ না পড়ে।
এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬ কবে শুরু হবে?
ফরম পূরণের খবরের পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের জন্য আরেকটি বড় খবর হলো পরীক্ষার চূড়ান্ত সময়সূচি বা রুটিন প্রকাশ। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ২০২৪ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ রুটিন প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, এ বছর এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে। পরীক্ষার্থীদের হাতে প্রস্তুতির জন্য আর খুব বেশি সময় নেই। এখন থেকেই রুটিন অনুযায়ী পড়ার টেবিলের সময় বাড়াতে হবে।
পরীক্ষার শুরুতেই, অর্থাৎ ২১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা। সাধারণত বাংলা পরীক্ষার মাধ্যমেই এসএসসির মতো বড় পাবলিক পরীক্ষা শুরু হয়ে থাকে। রুটিন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পরীক্ষার মাঝখানে খুব বেশি ছুটির সুযোগ নেই। তাই এখন থেকেই প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা পরিকল্পনা করে পড়াশোনা এগিয়ে নিতে হবে। ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে লিখিত পরীক্ষা চলবে ২০ মে ২০২৬ পর্যন্ত। অর্থাৎ পুরো এক মাস ধরে চলবে এই লিখিত পরীক্ষা। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থেকে এই দীর্ঘ সময় পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
ব্যবহারিক পরীক্ষার সময়সূচি ও প্রস্তুতি
লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হবে ব্যবহারিক বা Practical পরীক্ষা। রুটিন অনুযায়ী, ২০ মে লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কিছুদিন বিরতি দিয়ে ৭ জুন ২০২৬ থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হবে। এই ব্যবহারিক পরীক্ষা চলবে ১৪ জুন পর্যন্ত। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহারিক পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে পূর্ণ নম্বর পাওয়াটা জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীদেরও যাদের আইসিটি বা কৃষি শিক্ষার মতো ব্যবহারিক বিষয় আছে, তাদেরও এ সময় সতর্ক থাকতে হবে।
ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতা (Practical Notebook) আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা ভালো। লিখিত পরীক্ষার মধ্যে ব্যবহারিক খাতা তৈরি করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। তাই ফরম পূরণের এই সময়ের মধ্যেই যদি ব্যবহারিক খাতাগুলো শিক্ষকদের স্বাক্ষরসহ প্রস্তুত করে রাখা যায়, তবে পরীক্ষার সময় বাড়তি টেনশন থাকবে না। মনে রাখবেন, ব্যবহারিক পরীক্ষায় ভালো নম্বর তোলা লিখিত পরীক্ষার চেয়ে তুলনামূলক সহজ, যদি একটু সচেতন থাকা যায়।
যেহেতু এসএসসি ফরম ফিলাপ এর সময় ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে এবং পরীক্ষার তারিখ ২১ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়েছে, তাই এখন সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানোই আসল চ্যালেঞ্জ। পরীক্ষার্থীদের উচিত নতুন করে পড়া শুরু না করে, এতদিন যা পড়া হয়েছে তা বারবার রিভিশন দেওয়া। টেস্ট পরীক্ষার ভুলগুলো শুধরে নেওয়া এবং বোর্ডের বিগত বছরের প্রশ্নগুলো সমাধান করা এখন সবচেয়ে কার্যকরী কৌশল হতে পারে।
যারা বিলম্ব ফি দিয়ে এখন ফরম পূরণ করবেন, তাদের পড়াশোনার গতি একটু বাড়িয়ে দিতে হবে। কারণ, ফরম পূরণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় হয়তো তাদের পড়াশোনায় কিছুটা ব্যাঘাত ঘটেছে। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দৈনিক রুটিন করে পড়াশোনা করতে হবে। অভিভাবকদেরও এ সময় সন্তানদের প্রতি বিশেষ যত্নবান হতে হবে। তাদের মানসিক সাহস জোগাতে হবে এবং স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। অতিরিক্ত রাত জাগা বা ভাজাপোড়া খাবার পরিহার করা উচিত, কারণ পরীক্ষার আগে অসুস্থ হয়ে পড়লে সব প্রস্তুতি বিফলে যেতে পারে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের দায়িত্ব
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব হলো, বর্ধিত সময়ের নোটিশটি দ্রুততম সময়ে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। অনেক শিক্ষার্থী হয়তো জানেই না যে সময় বাড়ানো হয়েছে। তাই নোটিশ বোর্ড, ওয়েবসাইট বা ফোন কলের মাধ্যমে বাদ পড়া শিক্ষার্থীদের জানানো উচিত। এছাড়া সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে যাতে কোনো ভুল না হয়, সেদিকেও অফিস সহকারী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সতর্ক দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।
অভিভাবকদের উচিত নিশ্চিত করা যে তাদের সন্তানের ফরম পূরণ সঠিকভবে সম্পন্ন হয়েছে কি না। টাকার রিসিভ কপি বা প্রমাণপত্র নিজের কাছে সংরক্ষণ করা ভালো। এছাড়া প্রবেশপত্র বা Admit Card কবে দেওয়া হবে, সে বিষয়েও স্কুলের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে। মনে রাখবেন, প্রবেশপত্রে কোনো ভুল থাকলে তা পরীক্ষার আগেই সংশোধন করতে হয়। তাই ফরম পূরণের তথ্যের সাথে রেজিস্ট্রেশন কার্ডের তথ্যের মিল আছে কি না, তা যাচাই করে নিন।
এসএসসি পরীক্ষার গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এসএসসি পাস করার পর একজন শিক্ষার্থী কলেজ জীবনে পদার্পণ করে। তাই এই পরীক্ষার ফলাফল পরবর্তী জীবনের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ভালো ফলাফল করলে ভালো কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া যায়, যা উচ্চশিক্ষার পথকে সুগম করে। তাই এই শেষ কয়েক মাস কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না।
যাদের প্রস্তুতি এখনো আশানুরূপ নয়, তাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। ২১ এপ্রিল পরীক্ষা শুরু হতে এখনো প্রায় আড়াই মাসের মতো সময় বাকি আছে। এই সময়টুকু যদি কেউ রুটিন মেনে এবং টেকনিক্যালি পড়াশোনা করে, তবে ভালো ফলাফল করা সম্ভব। বিশেষ করে গণিত, ইংরেজি এবং বিজ্ঞানের বিষয়গুলোতে বেশি জোর দিতে হবে। প্রয়োজনে শিক্ষকদের সহায়তা নিতে হবে।
পরিশেষে বলা যায়, এসএসসি ফরম ফিলাপ ২০২৬ এর সময় বৃদ্ধি পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি আশীর্বাদস্বরূপ। যারা বিভিন্ন কারণে এতদিন ফরম পূরণ করতে পারেননি, তারা ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে অবশ্যই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন। মনে রাখবেন, এটিই হয়তো শেষ সুযোগ। পাশাপাশি ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া পরীক্ষার জন্য নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করুন। সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং কঠোর পরিশ্রমই আপনাকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দিতে পারে। আপনার শিক্ষাজীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি সফলভাবে অতিক্রম করার জন্য শুভকামনা রইল। সব তথ্যের জন্য নিয়মিত বোর্ডের ওয়েবসাইটে চোখ রাখুন এবং স্কুলের নোটিশ ফলো করুন।
আপনার যদি এসএসসি পরীক্ষা বা ফরম পূরণ নিয়ে আরও কোনো প্রশ্ন থাকে বা কোনো সহায়তার প্রয়োজন হয়, তাহলে নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন। আমরা চেষ্টা করব সঠিক তথ্য দিয়ে আপনাকে সাহায্য করার।




Thanks.