Tag: অ্যাডভান্স ট্রেড প্রশিক্ষণ

  • এসএসসি পাসেই ৩ মাসের কোর্সে ভর্তি ২০২৬: পাচ্ছেন প্রতিদিন ৪০০ টাকা বৃত্তি

    এসএসসি পাসেই ৩ মাসের কোর্সে ভর্তি ২০২৬: পাচ্ছেন প্রতিদিন ৪০০ টাকা বৃত্তি

    বর্তমান যুগে দক্ষতার বিকল্প নেই। শুধু পড়াশোনা করে চাকরির পেছনে না ছুটে, যদি নিজের হাতে কাজ শেখা যায়, তাহলে আত্মনির্ভর হওয়া সম্ভব। ঠিক সেই সুযোগটাই দিচ্ছে বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক)। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে এসআইসিআইপি (SICIP) প্রকল্পের আওতায় তারা এনেছে বিশেষ এক প্রশিক্ষণ programme। এটি মূলত তাদের জন্য যারা এসএসসি পাস করে আর পড়ালেখা বা চাকরির দৌড়ে পিছিয়ে পড়েছেন। এই প্রশিক্ষণটি ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে।

    এসএসসি পাসে ৩ মাসের কোর্সে ভর্তি ২০২৬ নিয়ে যারা ভাবছেন, তাদের জন্য এটি একটি সোনার হরিণের মতো সুযোগ। প্রশিক্ষণটি মাত্র তিন মাসের (৩০০ ঘণ্টা) একটি কোর্স। তবে এটিকে সাধারণ কোনো কোর্স ভাবলে ভুল হবে। এখানে শেখানো হবে আধুনিক ও স্মার্ট প্রযুক্তিনির্ভর অ্যাডভান্সড ট্রেড। অর্থাৎ ইন্ডাস্ট্রিতে এখন যেসব দক্ষতার চাহিদা সবচেয়ে বেশি, সেগুলোই শেখানো হবে। এই প্রশিক্ষণ শেষে আপনি শুধু একটি সনদ পাবেন না, পাবেন কাজ করার মতো দক্ষতা।

    এই প্রশিক্ষণের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো বৃত্তির ব্যবস্থা। প্রশিক্ষণ চলাকালীন প্রতিদিন ৪০০ টাকা করে বৃত্তি দেওয়া হবে। শর্ত একটাই, প্রশিক্ষণে ৮০ শতাংশ উপস্থিতি থাকতে হবে। মানে আপনি প্রশিক্ষণ নেবেন, তার পাশাপাশি আর্থিক সাপোর্ট পাবেন। বৃত্তির ৮০ শতাংশ সনদ দেওয়ার সময় পেয়ে যাবেন। আর বাকি ২০ শতাংশ দেওয়া হবে, যখন আপনি চাকরিতে প্রবেশের প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেবেন। এতে করে প্রশিক্ষণের পর চাকরি পাওয়ার ব্যাপারটিও নিশ্চিত করা হচ্ছে।

    এখন প্রশ্ন হলো, প্রশিক্ষণের ট্রেডগুলো কী কী? যারা এসএসসি পাসে ৩ মাসের কোর্সে ভর্তি ২০২৬ করতে চান, তাদের জন্য ট্রেডের তালিকাটি বেশ সমৃদ্ধ। এই কোর্সগুলো ইন্ডাস্ট্রির চাহিদা অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে।

    এসএসসি পাসেই ৩ মাসের কোর্সে ভর্তি ২০২৬

    যারা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী, তাদের জন্য রয়েছে চমৎকার অপশন। ইন্ডাস্ট্রিয়াল অটোমেশন, নিউমেটিক অ্যান্ড হাইড্রোলিক সিস্টেম অপারেশন অ্যান্ড মেইন্টেন্যান্স শিখে আপনি বড় কারখানায় কাজ করার সুযোগ পেতে পারেন। এছাড়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবট অপারেশন অ্যান্ড ট্রাবলশুটিং একটি অত্যাধুনিক ট্রেড। বর্তমানে বিশ্বের উন্নত সব দেশে রোবট নির্ভর শিল্প কারখানা বাড়ছে। বাংলাদেশেও তার প্রভাব পড়েছে। তাই এই ট্রেডে দক্ষতা অর্জন করলে আপনার চাহিদা থাকবে সব জায়গায়।

    অ্যাডভান্স সিএনসি মেশিনিং সেন্টার অপারেশন অ্যান্ড প্র্যাকটিস ট্রেডটি মূলত ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে শেখানো হয় কীভাবে উন্নত মানের মেশিন চালাতে হয়। ক্যাড-ক্যাম (মেকানিক্যাল) ট্রেডে শেখানো হয় ডিজাইন থেকে শুরু করে প্রোডাকশন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া। থ্রিডি প্রিন্টিং টেকনোলজি বর্তমানে পৃথিবীর অন্যতম আলোচিত একটি বিষয়। এই ট্রেড শিখে আপনি নিজেই ছোট পরিসরে প্রোডাকশন শুরু করতে পারেন। আর ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস অ্যাপ্লিকেশন ট্রেডটি বিদ্যুৎ ও ইলেকট্রনিক্স খাতের জন্য অপরিহার্য।

    আবেদনের যোগ্যতা কেমন হওয়া চাই

    এসএসসি পাসে ৩ মাসের কোর্সে ভর্তি ২০২৬-এর জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা দরকার। আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ন্যূনতম ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা এসএসসি পাস হতে হবে। তবে শুধু পড়াশোনার সনদ নয়, যাদের ইন্ডাস্ট্রিতে কারিগরি বিষয়ে ন্যূনতম তিন বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তারাও আবেদন করতে পারবেন। বিষয়টি হলো, আপনার মৌলিক শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলেই এই প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

    আবেদনের বয়সসীমা রাখা হয়েছে ২০ থেকে ৪৫ বছর পর্যন্ত। অর্থাৎ তরুণ থেকে শুরু করে মধ্যপ্রজন্ম, যারা নতুন প্রযুক্তি শিখে ক্যারিয়ার বদলাতে চান, সবাই এখানে আবেদনের সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে নারী, প্রতিবন্ধী ও উপজাতি প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এটি সত্যিই একটি ইতিবাচক উদ্যোগ।

    ভর্তির জন্য যে কাগজপত্র লাগবে

    যারা এসএসসি পাসে ৩ মাসের কোর্সে ভর্তি ২০২৬-এর জন্য আবেদন করবেন, তাদের কিছু কাগজপত্র আগে থেকেই তৈরি করে রাখতে হবে। সদ্য তোলা ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং ১ কপি স্ট্যাম্প সাইজের ছবি লাগবে। সঙ্গে সব শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে।

    এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি থাকা চাই। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাগজ হলো ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত নাগরিকত্ব ও পারিবারিক আয়ের সনদ। এই কাগজপত্রগুলো সঠিকভাবে জমা দিতে হবে।

    ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার নিয়ম

    ভর্তি ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার জন্য যেতে হবে বিটাক, ঢাকায় অবস্থিত Advanced Training and Innovation Complex (ATIC)-এর অফিস কক্ষ-৯ম তলায়। সরাসরি সেখানে গিয়ে ফরম সংগ্রহ করে জমা দিতে পারবেন। আর যারা অনলাইনে করতে চান, তাদের জন্য www.bitac.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রশিক্ষণ সেবা বক্সে ক্লিক করে ফরম ডাউনলোড করতে হবে। এছাড়া SICIP-BITAC ফেসবুক পেজ থেকেও ফরম পাওয়া যাবে। অনলাইনে ফরম জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

    এই প্রশিক্ষণের ষষ্ঠ ব্যাচ শুরু হবে ২০ এপ্রিল ২০২৬ থেকে। চলবে ২০ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত। পুরো কোর্সটি হবে তিন মাস। তবে আবেদন জমা দেওয়ার পর নির্বাচনী পরীক্ষা হতে পারে। সেটি সম্পর্কে আবেদনকারীদের প্রশিক্ষণ শুরুর আগেই জানিয়ে দেওয়া হবে।

    প্রশিক্ষণের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে রবি থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। মানে পুরো সময়টাই পূর্ণ দিনব্যাপী হাতে-কলমে শেখার সুযোগ থাকবে। এটি একটি ফুলটাইম প্রশিক্ষণ, তাই যারা সিরিয়াসলি দক্ষতা অর্জন করতে চান, তাদের জন্য এটি উপযুক্ত।

    কেন এই প্রশিক্ষণ আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ

    বর্তমানে বাংলাদেশের শিল্প কারখানায় দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি রয়েছে। অনেকেরই হাতে-কলমে কাজ শেখার সুযোগ থাকে না। এই প্রশিক্ষণ সেটার সমাধান দিচ্ছে। এসএসসি পাসে ৩ মাসের কোর্সে ভর্তি ২০২৬ শুধু একটি কোর্সে ভর্তি নয়, এটি আপনার ভবিষ্যৎ গড়ার একটি বড় সুযোগ। প্রশিক্ষণ শেষে শুধু সনদ পাবেন না, পাবেন চাকরির জন্য সরাসরি সুপারিশের সুযোগ।

    বৃত্তির ব্যবস্থা থাকায় আপনার প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় আর্থিক সমস্যাও থাকবে না। প্রতিদিন ৪০০ টাকা করে বৃত্তি পেলে তিন মাসে প্রায় ৩৬ হাজার টাকা হাতে আসবে। এটি একটি বড় প্রণোদনা। আর চাকরিতে প্রবেশের পর বাকি বৃত্তির টাকা পাবেন, এটি নিশ্চিত করছে যে প্রশিক্ষণ শেষে আপনাকে চাকরির দিকেও নজর দিতে হবে।

    সুতরাং যারা এখনও ভাবছেন, তাদের জন্য সময় খুব বেশি নেই। ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার কাজ শুরু হয়ে গেছে। ২০ এপ্রিলের মধ্যে নিজের কাগজপত্র তৈরি করে ফরম জমা দিয়ে দিন। এই সুযোগ হাতছাড়া করলে হয়তো ভবিষ্যতে আর এত সহজে এমন প্রশিক্ষণ পাওয়া যাবে না। বিশেষ করে যারা এসএসসি পাস করে চাকরির সংস্থান খুঁজে পাচ্ছেন না, অথবা নিজের দক্ষতা বাড়িয়ে আয় বাড়াতে চান, তাদের জন্য এটি এক অসাধারণ সুযোগ।

    যেকোনো আধুনিক প্রযুক্তি শিখতে গেলে বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ দরকার। বিটাকের এই প্রশিক্ষণ Programme ঠিক সেটাই দিচ্ছে। তাই আজই সিদ্ধান্ত নিন। ফরম সংগ্রহ করুন। নিজের ভবিষ্যৎ নিজের হাতে গড়ার এই সুযোগ কাজে লাগান।