২০২৬ সালে পে-স্কেল নিয়ে আন্দোলনে শিক্ষকরা আবারও রাজপথে নামছেন। পে-স্কেল ইস্যু ঘিরে সরকারি কর্মচারী ও প্রাথমিক শিক্ষকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ এখন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই পে-স্কেল আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। শিক্ষকরা বলছেন, ন্যায্য পে-স্কেল ছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থার মান রক্ষা সম্ভব নয়। তাই পে-স্কেল নিয়ে আন্দোলনে শিক্ষকরা ২০২৬ সালে স্পষ্ট লক্ষ্য ও কর্মসূচি নিয়ে এগোচ্ছেন।
পে-স্কেল নিয়ে আন্দোলনে শিক্ষকরা ২০২৬
পে-স্কেল নিয়ে আন্দোলনের মূল কারণ হলো দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিলম্ব। সরকারি কর্মচারীদের ঘোষিত জাতীয় শহীদ মিনারের কর্মসূচিতে প্রাথমিক শিক্ষকরা একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। শিক্ষক নেতাদের মতে, পে-স্কেল নিয়ে সরকারের দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থান শিক্ষক সমাজকে হতাশ করেছে। সরকারি বিভিন্ন খাতে ব্যয় হলেও শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে বারবার সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে, যা আন্দোলনের আগুনে ঘি ঢেলেছে।
আরোও পড়ুনঃ মাউশি বিভক্তকরণে গতি ১৫ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত হবে নতুন দুই অধিদপ্তরের কর্মবণ্টন
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য অর্থ রয়েছে, তবে তা দেবে নির্বাচিত সরকার। এই বক্তব্য পে-স্কেল নিয়ে আন্দোলনে শিক্ষকরা নেতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। তাদের দাবি, এই ধরনের বক্তব্য দায়িত্ব এড়ানোর শামিল। শিক্ষক নেতারা বলেন, সরকার যখন উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ ব্যয় করতে পারে, তখন শিক্ষকদের ন্যায্য পে-স্কেল দিতে সমস্যা কোথায়।
প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকদের আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী ১০ম গ্রেড পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে বৈষম্য রয়ে গেছে। সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। পে-স্কেল নিয়ে আন্দোলনে শিক্ষকরা মনে করছেন, এই বৈষম্য পরিকল্পিতভাবে দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষক সমাজে ক্ষোভ বাড়ছে এবং শিক্ষা কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
শিক্ষক নেতারা অভিযোগ করেছেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা তার মেয়াদের শেষ সময়েও শিক্ষা খাত নিয়ে বিভ্রান্তিকর ভূমিকা পালন করছেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় অনেক শিক্ষক আহত হয়েছেন এবং চাঁদপুরের শিক্ষক ফাতেমা বেগম প্রাণ হারিয়েছেন। পে-স্কেল নিয়ে আন্দোলনে শিক্ষকরা মনে করেন, শান্তিপূর্ণ দাবি জানানো তাদের সাংবিধানিক অধিকার।
পে-স্কেল নিয়ে আন্দোলনে শিক্ষকরা ২০২৬ সালে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছেন। ন্যায্য পে-স্কেল বাস্তবায়ন শুধু শিক্ষকদের অধিকার নয়, বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। সরকার যদি দ্রুত বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত না নেয়, তাহলে এই আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে।



