মাউশি বিভক্তকরণ কার্যক্রমে বড় অগ্রগতি। ১৫ দিনের মধ্যে নতুন দুই অধিদপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামো ও কর্মবণ্টন চূড়ান্ত হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় প্রশাসনিক পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে সরকার। মাউশি বিভক্তকরণ প্রক্রিয়াকে কার্যকর করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের আলোচিত এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সম্প্রতি একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে। মাউশি বিভক্তকরণ সফল করতে এই কমিটি ১৫ দিনের মধ্যে দুটি নতুন অধিদপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামো এবং কর্মবণ্টন চূড়ান্ত করবে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এতে মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষাব্যবস্থায় আলাদা মনোযোগ নিশ্চিত হবে।
মাউশি বিভক্তকরণে কমিটি গঠনের পটভূমি
মাউশি বিভক্তকরণ সিদ্ধান্তটি এসেছে প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্য থেকে। আগে একটি অধিদপ্তরের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা পরিচালনা করতে গিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হতো। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন দুটি অধিদপ্তর গঠনের পথে হাঁটে। এই উদ্দেশ্যে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন একজন উপসচিব। কমিটিতে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয় বাস্তবসম্মত ও কার্যকর।
মাউশি বিভক্তকরণ শেষে দুটি স্বতন্ত্র অধিদপ্তর গড়ে তোলা হবে। একটি অধিদপ্তর শুধুমাত্র মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা দেখভাল করবে, অন্যটি কলেজ ও উচ্চ শিক্ষার দায়িত্ব পালন করবে। এই দুটি প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা অর্গানোগ্রাম তৈরি করা হচ্ছে। জনপ্রশাসন, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মতামত বিবেচনায় নিয়ে কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে। এর ফলে জনবল বণ্টন, দায়িত্ব নির্ধারণ এবং বাজেট ব্যবস্থাপনা আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মাউশি বিভক্তকরণ কার্যক্রমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কর্মবণ্টন নির্ধারণ। কোন অধিদপ্তর কোন কাজ করবে, তা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকবে কার্যতালিকায়। কমিটির মূল কাজ হচ্ছে অন্যান্য অধিদপ্তরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই কর্মবণ্টন চূড়ান্ত করা। ১৫ দিনের মধ্যে এই কাজ শেষ হলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গতি আসবে এবং মাঠপর্যায়ে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
শিক্ষাব্যবস্থায় সম্ভাব্য প্রভাব
মাউশি বিভক্তকরণ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাব্যবস্থায় বিশেষায়ন বাড়বে। মাধ্যমিক শিক্ষার নীতি, শিক্ষক ব্যবস্থাপনা ও কারিকুলাম উন্নয়নে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া সম্ভব হবে। একইভাবে কলেজ ও উচ্চ শিক্ষায় গবেষণা, মানোন্নয়ন এবং তদারকি আরও শক্তিশালী হবে। ফলে শিক্ষার মান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি সুফল মিলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, মাউশি বিভক্তকরণ শিক্ষাখাতে একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। কমিটি গঠনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া এখন বাস্তব রূপ পাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হলে শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়বে, যা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুনঃ



