পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের তিন দিনের কর্মসূচি, নবম জাতীয় বেতন কমিশন, আন্দোলনের কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব বিস্তারিত বিশ্লেষণ।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পে স্কেল বাস্তবায়ন দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি। নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন দ্রুত কার্যকর করার দাবিতে আবারও মাঠে নেমেছেন সরকারি কর্মচারীরা। বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে তিন দিনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কর্মচারীরা বলছেন, দীর্ঘ সাত বছর ধরে দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত দেখা যাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়েই তারা আন্দোলনের পথে হাঁটছেন। এই লেখায় কর্মসূচির পটভূমি, দাবি, অভিযোগ এবং সম্ভাব্য প্রভাব বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে তিন দিনের কর্মসূচি ২০২৬
সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় দিন দিন বাড়ছে। বাজারমূল্য, বাসাভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা খরচ আগের তুলনায় অনেক বেশি। অথচ বিদ্যমান বেতন কাঠামো দিয়ে সেই ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কর্মচারীদের মতে, নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে তাদের আর্থিক নিরাপত্তা কিছুটা হলেও নিশ্চিত হবে। শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়, ভাতা ও গ্রেড কাঠামোর ভারসাম্য ঠিক করাও এই দাবির অংশ।
আরও পড়ুনঃ সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল ২০২৬
তিন দিনের নতুন কর্মসূচির ঘোষণা
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ জানিয়েছে, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা তিন দিন সারা দেশের সব সরকারি দপ্তরে কর্মসূচি পালন করা হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল ও কর্মচারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি চলমান গণকর্মবিরতিও সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। সংগঠনের নেতারা স্পষ্ট করে বলেছেন, দাবি আদায় না হলে সামনে আরও কঠোর কর্মসূচি আসতে পারে।
সোমবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকেই এই কর্মসূচির ঘোষণা আসে। সমাবেশে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মচারীরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, সরকারকে বারবার সময় দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাস্তব কোনো অগ্রগতি নেই। তাই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমেই তারা তাদের ন্যায্য দাবি আদায় করতে চান।
আন্দোলনকারীরা জানান, প্রায় সাত বছর ধরে তারা পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন। গত ৫ ডিসেম্বর লক্ষাধিক কর্মচারীর উপস্থিতিতে একটি বড় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেই সময় তারা আশা করেছিলেন, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই সরকার গেজেট প্রকাশ করবে। কিন্তু দেড় মাস পার হলেও কোনো গেজেট প্রকাশ হয়নি। এতে কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
কমিশন রিপোর্ট ও গেজেট জটিলতা
কর্মচারী নেতাদের অভিযোগ, ২১ জানুয়ারি কমিশনের রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরও তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ দেখা যায়নি। বরং গেজেট প্রকাশ না করে নতুন কমিটি গঠনের কথা বলা হচ্ছে, যা তারা সময়ক্ষেপণ বলে মনে করছেন। তাদের মতে, কমিশন গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।
আন্দোলনকারীরা আরও জানান, জ্বালানি উপদেষ্টার একটি মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। ওই মন্তব্যে বলা হয়েছিল, বর্তমান সরকার পে স্কেল বাস্তবায়ন করবে না এবং আন্দোলন ঠেকাতেই কমিশন গঠন করা হয়েছিল। এই বক্তব্য প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। তারা মনে করছেন, তাদের সঙ্গে আন্তরিক আচরণ করা হচ্ছে না।
এই কর্মসূচির ফলে সরকারি দপ্তরের স্বাভাবিক কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হতে পারে। তবে কর্মচারীরা বলছেন, সীমিত সময়ের জন্য কর্মবিরতি রেখে তারা সরকারকে বার্তা দিতে চান। একই সঙ্গে তারা আশাবাদী, আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান আসবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার ও কর্মচারীদের মধ্যে সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ এসএসসি ফরম ফিলাপ 2026 সময় আবার বাড়ানো হয়েছে
পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবি শুধু বেতন বৃদ্ধির প্রশ্ন নয়, এটি সরকারি কর্মচারীদের মর্যাদা ও জীবনমানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়া এবং বিতর্কিত মন্তব্য কর্মচারীদের আন্দোলনে নামতে বাধ্য করেছে। এখন সরকারের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে, এই আন্দোলন শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে যাবে নাকি আরও কঠোর রূপ নেবে।



