বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। এই ইশতেহারে সর্বজনীন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। বিএনপির ঘোষণায় বলা হয়েছে, দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে, যাতে শিশুর মানসিক, সামাজিক ও নৈতিক বিকাশ একটি শক্ত ভিত্তির ওপর গড়ে উঠতে পারে। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা খাতকে ভবিষ্যৎ মানবসম্পদ তৈরির মূল স্তম্ভ হিসেবে দেখা হয়েছে, যা জাতীয় উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিএনপির ইশতেহারে সর্বজনীন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা
বিএনপির ইশতেহারে বলা হয়েছে, Early Childhood Development বা ইসিডি কার্যক্রমকে শক্তিশালী করা হবে। এর মাধ্যমে শিশুদের শেখার আগ্রহ, ভাষা দক্ষতা এবং সামাজিক আচরণ উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষায় ভালো বই, আধুনিক সিলেবাস এবং বয়সভিত্তিক পাঠ্যক্রম নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিশুদের নৈতিকতা, সামাজিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় শিষ্টাচার শেখানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হবে।
ইশতেহারে মাতৃভাষায় শিক্ষাকে প্রাক-প্রাথমিক স্তরে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। শিশুদের প্রাথমিক শেখার ক্ষেত্রে মাতৃভাষা ব্যবহার করলে তাদের বোঝার ক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ে। বিএনপি মনে করে, মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা শিশুর মানসিক বিকাশকে আরও দৃঢ় করে। পাশাপাশি সিলেবাস হবে শিশুবান্ধব, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কার্যক্রমভিত্তিক।
আরও পড়ুনঃ শিক্ষা খাতে বিএনপির ইশতেহার ২০২৬: জিডিপির পাঁচ শতাংশ বরাদ্দে কী বদল আসতে পারে
সমন্বিত কিন্ডারগার্টেন শিক্ষানীতি
বিএনপির ইশতেহারে একটি সমন্বিত কিন্ডারগার্টেন শিক্ষানীতি প্রণয়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশের কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা ব্যবস্থায় মানের পার্থক্য রয়েছে। এই নীতির মাধ্যমে সুশাসন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা উপকরণের মান নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এতে করে শহর ও গ্রামের মধ্যে শিক্ষার বৈষম্য কমবে।
| বিষয় | পরিকল্পনা |
|---|---|
| শিক্ষা স্তর | সর্বজনীন প্রাক-প্রাথমিক |
| মূল লক্ষ্য | শিশুদের জ্ঞানভিত্তিক ও সামাজিক বিকাশ |
| ভাষা | মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা |
| নীতিমালা | সমন্বিত কিন্ডারগার্টেন শিক্ষানীতি |
| মূল্যবোধ | নৈতিক ও সামাজিক শিক্ষা |
বিএনপির ইশতেহারে সর্বজনীন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দেয়। শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা, নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধ শেখানোর উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে। বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেশের মানুষের প্রত্যাশা।



