বিজয়া একাদশী ২০২৬ সময়সূচী

বিজয়া একাদশী ২০২৬ কবে, পারণ সময়, পূজার নিয়ম, উপকারিতা ও গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানুন সহজ বাংলায়।

বিজয়া একাদশী ২০২৬

বিজয়া একাদশী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রত ও ধর্মীয় তিথি। এই একাদশী ভগবান বিষ্ণু ও শ্রীকৃষ্ণের আরাধনার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। ২০২৬ সালে বিজয়া একাদশী পালিত হবে শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে, বাংলা তারিখ ৩০ মাঘ ১৪৩২। এটি কৃষ্ণপক্ষের একাদশী তিথি, যার অধিষ্ঠাত্রী দেবতা গোবিন্দ বা শ্রীকৃষ্ণ।

হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে একাদশী তিথিতে উপবাস, পূজা এবং ধর্মীয় আচরণ পালন করলে জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও আধ্যাত্মিক উন্নতি লাভ হয়। তাই অনেক ভক্ত এই দিনে উপবাস পালন করেন এবং ভগবান কৃষ্ণের নাম স্মরণ করেন।

বিজয়া একাদশী ২০২৬
বিজয়া একাদশী ২০২৬

বিজয়া একাদশীর পারণ সময়

একাদশী ব্রত পালনের পর পরদিন সূর্যোদয়ের পরে পারণ বা উপবাস ভঙ্গ করা হয়। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অনুসারে পারণের সময় ভিন্ন হতে পারে।

স্মার্ত, গোস্বামী ও নিম্বার্ক মতে:
পরদিন সূর্যোদয় থেকে সকাল ১০:২৯ মিনিটের মধ্যে পারণ করতে হবে।

ইসকন মতে:
পরদিন সকাল ৬:৩২ মিনিট থেকে ১০:১৯ মিনিটের মধ্যে পারণ করা উত্তম।

সঠিক সময়ে পারণ করা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

বিজয়া একাদশী ব্রত পালনের মাধ্যমে পাপ থেকে মুক্তি এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির পথ প্রশস্ত হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, এই দিনে উপবাস ও পূজা করলে ভগবান বিষ্ণুর কৃপা লাভ করা যায় এবং জীবনের নানা বাধা দূর হয়।

বিশেষ করে ব্যবসা, চাকরি, শিক্ষা ও পারিবারিক শান্তির জন্য অনেক মানুষ এই একাদশী ব্রত পালন করেন। এই দিনে দান, পূজা, নাম জপ এবং ধর্মীয় পাঠ অত্যন্ত পুণ্যফল প্রদান করে।

বিজয়া একাদশী ব্রত পালন করার নিয়ম

বিজয়া একাদশী ব্রত পালনের জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করা হয়।

প্রথমত, একাদশীর আগের দিন সাত্ত্বিক খাবার গ্রহণ করা উচিত এবং মাংস, মদ ও তামসিক খাদ্য পরিহার করা ভালো। একাদশীর দিনে ভোরে উঠে স্নান করে পরিষ্কার পোশাক পরিধান করতে হয়। এরপর ভগবান বিষ্ণু বা শ্রীকৃষ্ণের পূজা করতে হয়।

অনেকে এই দিনে নির্জলা উপবাস পালন করেন, আবার কেউ ফলাহার বা জলাহার গ্রহণ করেন। পূজার সময় তুলসী পাতা, ফুল, ধূপ, দীপ এবং প্রসাদ নিবেদন করা হয়। সারাদিন ভগবানের নাম জপ, ভগবদ্গীতা পাঠ ও ধর্মীয় আলোচনা করা উত্তম।

বিজয়া একাদশী ব্রত পালনের নানা আধ্যাত্মিক ও মানসিক উপকারিতা রয়েছে।

এই ব্রত মানুষের আত্মসংযম বৃদ্ধি করে এবং মনকে শান্ত করে। নিয়মিত একাদশী পালন করলে স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং মানসিক স্থিরতা বৃদ্ধি পায় বলে অনেক ভক্ত বিশ্বাস করেন। এছাড়া জীবনের নানা সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এই ব্রতকে বিশেষভাবে কার্যকর মনে করা হয়।

প্রশ্ন-উত্তর

প্রশ্ন: বিজয়া একাদশী ২০২৬ কবে?
উত্তর: বিজয়া একাদশী ২০২৬ সালে ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার পালিত হবে।

প্রশ্ন: বিজয়া একাদশীর পারণ সময় কখন?
উত্তর: স্মার্ত মতে পরদিন সূর্যোদয় থেকে সকাল ১০:২৯ মিনিটের মধ্যে এবং ইসকন মতে সকাল ৬:৩২ থেকে ১০:১৯ মিনিটের মধ্যে পারণ করা উচিত।

প্রশ্ন: বিজয়া একাদশী কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: এই দিনে ভগবান বিষ্ণু ও শ্রীকৃষ্ণের পূজা করা হয় এবং উপবাস পালন করলে পাপ থেকে মুক্তি ও আধ্যাত্মিক উন্নতি হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।

প্রশ্ন: একাদশী ব্রত কীভাবে পালন করা হয়?
উত্তর: একাদশীর দিনে উপবাস, পূজা, নাম জপ, দান ও ধর্মীয় পাঠ করা হয়।

বিজয়া একাদশী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র একটি তিথি। ২০২৬ সালে এই তিথি ১৩ ফেব্রুয়ারি পালিত হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ে পারণ করতে হবে। এই দিনে ভগবান কৃষ্ণের পূজা ও উপবাস পালন করলে জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি এবং আধ্যাত্মিক উন্নতি লাভ করা যায় বলে বিশ্বাস করা হয়। তাই ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী সঠিক নিয়মে বিজয়া একাদশী ব্রত পালন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আমি বিক্রম দাস একজন প্রফেশনাল রাইটার। আমি প্রযুক্তি, মোবাইল, ইনকাম তথ্য সম্পর্কিত লেখালেখি করে থাকি। আশাকরি আমার লেখা ভ্যালুয়েবল আর্টিকেল পড়ে আপনারা উপকৃত হচ্ছেন।

1 thought on “বিজয়া একাদশী ২০২৬ সময়সূচী”

Leave a Comment