পবিত্র রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা নিয়ে দেশজুড়ে চলছে তীব্র আলোচনা। ২০২৬ সালের রমজানে স্কুল খোলা হবে কি না, তা নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হয়েছে হাইকোর্টে। সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশের পর থেকেই এই নিয়ে নানা মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পবিত্র রমজান মাসের বেশিরভাগ সময় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার কথা ছিল। তবে এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মন্ডল একটি আইনি নোটিশ পাঠান। পরে তিনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো পুরো রমজান মাস বন্ধ রাখার দাবিতে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন।
রমজানে স্কুল খোলা থাকবে কি ২০২৬
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রিট আবেদনের শুনানি গ্রহণ করে। আদালত বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। আইনজীবী ইলিয়াছ আলী মন্ডল ও অ্যাডভোকেট তানজিনা ববি লিজা রিটের পক্ষে শুনানি করেন। তিনি জানান, শুধু মাধ্যমিক স্কুল বন্ধের জন্যই এই রিট করা হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে আলাদাভাবে আবেদন করা হয়নি।
আরও পড়ুনঃ চাঁদপুর জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছুটি কতদিন?
সম্প্রতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার ১২ দিন ছুটি কমেছে। পবিত্র রমজান মাসের ২১ তারিখ পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও ছুটি কমানো হয়েছে। শবে মেরাজ, জন্মাষ্টমীর মতো কিছু দিনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। রমজান মাসের অর্ধেকের বেশি সময় এসব স্কুল খোলা রাখার কথা ছিল সরকারি সিদ্ধান্তে। কিন্তু আদালতে রিট করার পর এখন সেই সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কলেজ ও মাদরাসার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত কী?
স্কুলের তুলনায় কলেজ ও মাদরাসার ছুটির তালিকা ভিন্ন। সরকারি ও বেসরকারি কলেজের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ৭২ দিন ছুটি রাখা হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, পবিত্র রমজান মাসের পুরো সময়টুকু কলেজ বন্ধ থাকবে। এছাড়া মাদরাসাগুলোতে ইতিমধ্যেই ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজানের ছুটি শুরু হয়েছে। ফলে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা রোজা রেখে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কষ্ট থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাবে।
আইনি নোটিশে রমজানে স্কুল খোলা রাখাকে অসাংবিধানিক বলে দাবি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরেই রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা একটি প্রথা ও রীতি। যা সংবিধানের ৩১ ও ১৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনের সমান ক্ষমতা সম্পন্ন। ছোট শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও যাতায়াতের ক্লান্তির কারণে রোজা রাখতে পারবে না। এর ফলে ধর্মীয় চর্চা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া স্কুল খোলা থাকলে শহরে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, যা সাধারণ মানুষের জন্য দুর্ভোগ বয়ে আনে।
প্রশ্ন: ২০২৬ সালের রমজানে কি সব স্কুল বন্ধ থাকবে?
উত্তর: এখনই পুরোপুরি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। হাইকোর্টে রিট আবেদনের শুনানি হয়েছে। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার ওপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে।
প্রশ্ন: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কতদিন খোলা থাকবে?
উত্তর: সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রমজানের ২১ তারিখ পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার কথা ছিল। তবে আদালতের রায়ের পর এতে পরিবর্তন আসতে পারে।
প্রশ্ন: আইনজীবী ইলিয়াছ আলী মন্ডল কেন রিট করেছিলেন?
উত্তর: তিনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো পুরো রমজান মাস জুড়ে বন্ধ রাখার দাবিতে এই রিট করেন। তার মতে, রমজানে স্কুল খোলা রাখা ধর্মীয় অনুশীলনের পথে বাধা সৃষ্টি করে এবং এটি অসাংবিধানিক।
২০২৬ সালের রমজানে স্কুল খোলা রাখা হবে কি না, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন হাইকোর্টের হাতে। সরকারের পক্ষ থেকে ছুটির তালিকা প্রকাশ করা হলেও রিট আবেদনের কারণে সেই সিদ্ধান্ত আপাতত অনিশ্চিত। কলেজ ও মাদরাসা শিক্ষার্থীরা পুরো রমজান বন্ধ পেলেও, স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য এখন পর্যন্ত মিশ্র বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। অভিভাবক ও শিক্ষকরা আদালতের নির্দেশনার দিকে তাকিয়ে আছেন। খুব শিগগিরই এই বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।



