ADVERTISING

কুষ্টিয়া রমজানের সময় সূচি 2026 – কুষ্টিয়া জেলার রোজার সময় ২০২৬

Written by Ahsan Habib

Updated on:

ADVERTISING

পবিত্র রমজান মাস ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মাসে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মুসলিমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা করেন। সঠিকভাবে রোজা রাখতে ও ইফতার করতে সেহরি ও ইফতারের সময় জানা জরুরি। কুষ্টিয়া জেলার ধর্মপ্রাণ মুসলিম ভাই-বোনদের জন্য ২০২৬ সালের রমজানের নির্ভুল সময়সূচি নিয়ে আমাদের আজকের এই আয়োজন। কুষ্টিয়া জেলার ছয়টি উপজেলা কুষ্টিয়া সদর, মিরপুর, কুমারখালী, ভেড়ামারা, খোকসা ও দৌলতপুর এর বাসিন্দাদের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য এই সময়সূচি।

আর্টিকেলের বিষয়সূচী

ADVERTISING

রমজান মাস শুধু উপবাসের নাম নয়, এটি আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়। প্রতিদিন সূর্যোদয়ের আগে সেহরি খেয়ে রোজা শুরু হয় এবং সূর্যাস্তের পর ইফতারের মাধ্যমে রোজা সমাপ্ত হয়। সেহরির শেষ সময় এবং ইফতারের শুরু সময় সঠিকভাবে জানা প্রতিটি রোজাদারের জন্য ফরজ। তাই আমরা কুষ্টিয়ার জন্য নির্ভুল সময়সূচি তৈরি করেছি। চলুন, জেনে নিই ২০২৬ সালের রমজানের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি।

কুষ্টিয়া রমজানের সময় সূচি 2026

নিচের টেবিলে কুষ্টিয়া জেলার জন্য ২০২৬ সালের ১ থেকে ৩০ রমজান পর্যন্ত সেহরি ও ইফতারের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়সূচি কুষ্টিয়া সদর, মিরপুর, কুমারখালী, ভেড়ামারা, খোকসা ও দৌলতপুর উপজেলার জন্য প্রযোজ্য হবে। সময়গুলো স্থানীয় হিসাব অনুযায়ী তৈরি এবং ধর্মীয় নিয়ম অনুসরণ করে প্রস্তুত করা হয়েছে।

রোজা নংতারিখ (ইংরেজি)বারসেহরির শেষ সময়ইফতারের সময়
১১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬বৃহস্পতিবার০৫:১৯ এএম০৬:০২ পিএম
২২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬শুক্রবার০৫:১৮ এএম০৬:০৩ পিএম
৩২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬শনিবার০৫:১৮ এএম০৬:০৩ পিএম
৪২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬রবিবার০৫:১৭ এএম০৬:০৪ পিএম
৫২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬সোমবার০৫:১৬ এএম০৬:০৫ পিএম
৬২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬মঙ্গলবার০৫:১৫ এএম০৬:০৫ পিএম
৭২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬বুধবার০৫:১৫ এএম০৬:০৬ পিএম
৮২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬বৃহস্পতিবার০৫:১৪ এএম০৬:০৬ পিএম
৯২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬শুক্রবার০৫:১৩ এএম০৬:০৭ পিএম
১০২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬শনিবার০৫:১২ এএম০৬:০৭ পিএম
১১১ মার্চ ২০২৬রবিবার০৫:১১ এএম০৬:০৮ পিএম
১২২ মার্চ ২০২৬সোমবার০৫:১০ এএম০৬:০৮ পিএম
১৩৩ মার্চ ২০২৬মঙ্গলবার০৫:১০ এএম০৬:০৮ পিএম
১৪৪ মার্চ ২০২৬বুধবার০৫:১০ এএম০৬:০৮ পিএম
১৫৫ মার্চ ২০২৬বৃহস্পতিবার০৫:০৯ এএম০৬:০৯ পিএম
১৬৬ মার্চ ২০২৬শুক্রবার০৫:০৭ এএম০৬:১০ পিএম
১৭৭ মার্চ ২০২৬শনিবার০৫:০৬ এএম০৬:১০ পিএম
১৮৮ মার্চ ২০২৬রবিবার০৫:০৫ এএম০৬:১১ পিএম
১৯৯ মার্চ ২০২৬সোমবার০৫:০৪ এএম০৬:১১ পিএম
২০১০ মার্চ ২০২৬মঙ্গলবার০৫:০৩ এএম০৬:১২ পিএম
২১১১ মার্চ ২০২৬বুধবার০৫:০২ এএম০৬:১২ পিএম
২২১২ মার্চ ২০২৬বৃহস্পতিবার০৫:০১ এএম০৬:১৩ পিএম
২৩১৩ মার্চ ২০২৬শুক্রবার০৫:০০ এএম০৬:১৩ পিএম
২৪১৪ মার্চ ২০২৬শনিবার০৪:৫৯ এএম০৬:১৩ পিএম
২৫১৫ মার্চ ২০২৬রবিবার০৪:৫৮ এএম০৬:১৪ পিএম
২৬১৬ মার্চ ২০২৬সোমবার০৪:৫৭ এএম০৬:১৪ পিএম
২৭১৭ মার্চ ২০২৬মঙ্গলবার০৪:৫৬ এএম০৬:১৫ পিএম
২৮১৮ মার্চ ২০২৬বুধবার০৪:৫৫ এএম০৬:১৫ পিএম
২৯১৯ মার্চ ২০২৬বৃহস্পতিবার০৪:৫৪ এএম০৬:১৫ পিএম
৩০২০ মার্চ ২০২৬শুক্রবার০৪:৫৩ এএম০৬:১৬ পিএম

সময়সূচি তৈরির পদ্ধতি ও গুরুত্ব

উপরের সময়সূচিটি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের গণনা পদ্ধতি এবং স্থানীয় ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে। কুষ্টিয়া জেলার অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ বিবেচনা করে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলার জন্য সময় প্রায় একই হলেও সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। তাই আমরা গড় সময় দিয়েছি যা সবার জন্য প্রযোজ্য।

রোজার সময়সূচি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। সেহরির সময় শেষ হওয়ার আগে খাওয়া শেষ করতে হবে এবং ইফতারের সময় হওয়ার সাথে সাথে রোজা ভাঙতে হবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না কালো রেখা থেকে ভোরের সাদা রেখা স্পষ্ট হয়ে যায়। অতঃপর রাত পর্যন্ত রোজা পূর্ণ করো।” (সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৭)। তাই সঠিক সময় মেনে চলা ঈমানের অংশ।

রমজানের বিশেষ তাৎপর্য

রমজান মাস কোরআন নাযিলের মাস। এই মাসে একটি রাত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম, যা লাইলাতুল কদর নামে পরিচিত। রমজানের রোজা রাখা প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের উপর ফরজ। রোজা শুধু ক্ষুধা ও পিপাসা থেকে বিরত থাকা নয়, বরং মিথ্যা কথা, গিবত, অশ্লীলতা এবং সব ধরনের পাপ কাজ থেকেও বিরত থাকা। এই মাসে অধিক পরিমাণে ইবাদত, দান-সদকা, কোরআন তিলাওয়াত ও তারাবিহ নামাজ পড়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে।

কুষ্টিয়ার মুসলিমরা রমজান মাসে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান যথাযথভাবে পালন করেন। তারা সেহরি ও ইফতারে পরিবার-পরিজন নিয়ে একত্রিত হন। ইফতারের সময় খেজুর, পানি, ফলমূল, মুড়ি, ছোলা, বেগুনি, পেঁয়াজু, হালিম, জিলাপি ইত্যাদি খাবার পরিবেশন করা হয়। প্রতিটি উপজেলায় ইফতার বাজারে ভিড় বেড়ে যায় এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে রমজানের আমেজ মিশে যায়।

সেহরি ও ইফতারে করণীয়

সেহরি খাওয়া সুন্নত এবং এতে বরকত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমরা সেহরি খাও, কারণ সেহরিতে বরকত আছে।” (বুখারি ও মুসলিম)। সেহরির সময় শেষ হওয়ার আগে খাওয়া শেষ করে নিয়ত করা জরুরি। অনেক সময় ঘুম থেকে দেরি হয়ে গেলে সেহরি খাওয়া হয়ে ওঠে না। তাই সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

ইফতার দ্রুত করা সুন্নত। রাসুল (সা.) বলেছেন, “যতক্ষণ লোকেরা ইফতার দ্রুত করবে, ততক্ষণ তারা কল্যাণের মধ্যে থাকবে।” (বুখারি ও মুসলিম)। ইফতারের সময় হওয়ার সাথে সাথে খেজুর বা পানি দিয়ে রোজা ভাঙা উত্তম। ইফতারের আগে দুয়া পড়াও গুরুত্বপূর্ণ। ইফতারের দুয়া: “আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু।”

প্রশ্ন ১: কুষ্টিয়া সদর ও মিরপুর উপজেলার সময় কি একই?

উত্তর: হ্যাঁ, কুষ্টিয়া জেলার সব উপজেলার জন্য প্রায় একই সময় প্রযোজ্য। তবে উপজেলার মধ্যে কয়েক মিনিটের পার্থক্য হতে পারে। এই সময়সূচিতে গড় সময় দেওয়া আছে যা সকলের জন্য প্রযোজ্য।

প্রশ্ন ২: এই সময়সূচি অনুযায়ী ইফতার করলে কি রোজা সহীহ হবে?

উত্তর: এই সময়সূচি ধর্মীয় নিয়ম ও বৈজ্ঞানিক গণনার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। তাই সঠিকভাবে মানলে রোজা সহীহ হবে। তবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে কিছু ক্ষেত্রে একদিন কম বা বেশি হতে পারে।

প্রশ্ন ৩: সেহরির সময় শেষ হওয়ার পরেও যদি কেউ খায়, তাহলে কি রোজা ভেঙে যাবে?

উত্তর: হ্যাঁ, সেহরির সময় শেষ হওয়ার পর ইচ্ছাকৃতভাবে খেলে রোজা ভেঙে যায়। তখন কাযা করতে হবে। তাই সময় মেনে চলা জরুরি।

প্রশ্ন ৪: ইফতারের সময় হওয়ার আগে ইফতার করলে কি হবে?

উত্তর: ইফতারের সময় হওয়ার আগে ইফতার করলে রোজা ভেঙে যায় এবং তা কবুল হয় না। তাই ইফতারের সময় হওয়ার অপেক্ষা করতে হবে।

প্রশ্ন ৫: শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিরা কি রোজা রাখবে?

উত্তর: শিশুদের জন্য রোজা ফরজ নয়। অসুস্থ ব্যক্তি, মুসাফির, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীরা রোজা না রেখে পরে কাযা করতে পারেন। তবে সামর্থ্য থাকলে রাখা উত্তম।

রমজানে স্বাস্থ্য সচেতনতা

দীর্ঘ সময় রোজা রাখার কারণে শরীরে পানিশূন্যতা ও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। তাই সেহরি ও ইফতারে পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খাওয়া জরুরি। ভাজাপোড়া কম খেয়ে ফলমূল, শাকসবজি ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া ভালো। প্রচুর পানি ও তরল পান করতে হবে। অতিরিক্ত চা, কফি এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো পানিশূন্যতা বাড়ায়। রমজানে নিয়মিত তারাবিহ নামাজ পড়লে হালকা ব্যায়াম হয় যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

কুষ্টিয়া জেলার প্রতিটি উপজেলায় রমজান মাস ভিন্ন ভিন্ন আবহ নিয়ে আসে। কুষ্টিয়া সদরে বড় বড় মসজিদে তারাবিহ নামাজের ধুম পড়ে। মিরপুর উপজেলায় গ্রামীণ মসজিদগুলোতে কোরআন তিলাওয়াতের আসর বসে। কুমারখালীতে ইফতার বাজারে প্রচুর ভিড় হয়, বিশেষ করে বিভিন্ন পিঠা ও ইফতারি সামগ্রীর দোকানগুলো জমজমাট থাকে। ভেড়ামারায় নদীর পাড়ে ইফতার করার দৃশ্য চোখে পড়ে। খোকসা ও দৌলতপুরের শান্ত পরিবেশে রমজানের ইবাদতে মানুষ মশগুল থাকে। সব জায়গায় সেহরি ও ইফতারের সময় জানতে মানুষ এই ধরনের সময়সূচির ওপর নির্ভর করেন।

রমজানের শেষ দশকের বিশেষ ফজিলত

রমজানের শেষ দশ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে ইবাদত-বন্দেগি বেশি করতে হয়। শেষ দশকে রয়েছে লাইলাতুল কদর, যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। এই রাতে ইবাদত করলে সারা জীবনের ইবাদতের সওয়াব পাওয়া যায়। তাই শেষ দশকে ইতিকাফ করা সুন্নত। কুষ্টিয়ার অনেক মসজিদে ইতিকাফের ব্যবস্থা থাকে। ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা এই সময়ে বেশি বেশি কোরআন পড়েন, দুয়া করেন ও তওবা করেন।

পবিত্র রমজান মাস মুসলিমদের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। সঠিকভাবে রোজা পালনের জন্য সেহরি ও ইফতারের সময় জানা আবশ্যক। কুষ্টিয়া জেলার সকল উপজেলার জন্য প্রযোজ্য এই সময়সূচি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ইবাদত সহজ করবে। আমরা সবাই যেন সময়মতো সেহরি ও ইফতার করে রোজার পূর্ণ সওয়াব পাই, সেই কামনা করি। রমজান মাস আমাদের জীবনে বয়ে আনুক শান্তি, সমৃদ্ধি ও আত্মশুদ্ধি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে রমজানের পূর্ণ ফজিলত লাভের তৌফিক দান করুন। আমিন।

আরও পড়ুনঃ 

Ahsan Habib

Ahsan Habib একজন কনটেন্ট রাইটার ও ব্লগার, বর্তমানে বাংলাদেশের ঢাকায় বসবাস করছেন। তিনি শিক্ষা, তথ্যভিত্তিক ও ডিজিটাল বিষয় নিয়ে সহজ, পরিষ্কার ও পাঠকবান্ধব লেখা তৈরি করেন। জটিল বিষয়কে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা এবং পাঠকের কাজে লাগে এমন মানসম্মত কনটেন্ট দেওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Comment